Apan Desh | আপন দেশ

পিএইচপির ত্রুটিতে সাইবার ঝুঁকি, এআইয়ে ভরসা জাপানের

আপন দেশ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:৫৪, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

পিএইচপির ত্রুটিতে সাইবার ঝুঁকি, এআইয়ে ভরসা জাপানের

ছবি : সংগৃহীত

প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সাইবার হামলার ঝুঁকি। পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার ত্রুটিকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে সাইবার নিরাপত্তা উদ্বেগ। 

এমন পরিস্থিতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সহায়তায় সাইবার হামলা শনাক্ত ও প্রতিরোধের উদ্যোগ নিচ্ছে জাপান। 

প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ সাইবার নিরাপত্তায় কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, এখন সেদিকেই নজর প্রযুক্তি বিশ্বের।

এই ত্রুটির সুযোগ নিয়ে লাখ লাখ সাইবার হামলার চেষ্টা চালানো হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে সাইবার হামলার অনুকরণ করে প্রযুক্তিব্যবস্থার দুর্বলতা শনাক্ত করার জন্য বিশেষ দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে জাপান।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) জাপান সরকার জানায়, বিভিন্ন প্রযুক্তিব্যবস্থায় কোথায় নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করতে এই দল কাজ করবে। এর মাধ্যমে সম্ভাব্য হামলার আগেই দুর্বলতা শনাক্ত করে প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিএইচপির গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তাত্রুটির তথ্য প্রকাশের পর চলতি সপ্তাহে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট বন্ধ হয়ে যায়। ঝুঁকি মোকাবিলায় অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের অনলাইন সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।

নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে জাপানের তৃতীয় বৃহত্তম মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান সফটব্যাংক শুক্রবার তাদের গ্রাহকদের জরুরি সতর্কবার্তা পাঠানোর ব্যবস্থা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে পিএইচপির নিরাপত্তাত্রুটি মোকাবিলার সময় গ্রাহকেরা ভূমিকম্পের আগাম সতর্কবার্তা, সুনামির সতর্কতা এবং দুর্যোগ ও নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশনা পাবেন না বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে সফটব্যাংকের ৩ কোটির বেশি মুঠোফোন গ্রাহক অন্য সেবার মাধ্যমে ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা পেতে পারবেন। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির সহযোগী ব্যবসা ইয়াহুর একটি মুঠোফোন অ্যাপও রয়েছে।

জাপান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। দেশটিতে প্রায়ই প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে। এর মধ্যে টাইফুন চাম্পি জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের ওকিনাওয়া অঞ্চলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল।

পিএইচপির নিরাপত্তাত্রুটির কারণে জাপানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের অনলাইন সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে নমুরা ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান, মিতসুবিশি ইউএফজে আর্থিক গোষ্ঠী, বিমান সংস্থা এএনএ এবং পূর্ব জাপান রেলওয়ে। জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতীয় কর সংস্থা ও আবহাওয়া সংস্থাও তাদের কিছু অনলাইন সেবা বন্ধ রেখেছিল।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পূর্ব জাপান রেলওয়ে জানিয়েছে, তাদের কয়েকটি সেবা আবার চালু হয়েছে। অন্য সেবাগুলো নিরাপদ বলে নিশ্চিত হওয়ার পর চালু করা হবে। 

অন্যদিকে নিপ্পন পেইন্ট সতর্কতামূলকভাবে নিরাপত্তা সংশোধনী প্রয়োগের পর তাদের ওয়েবসাইট আবার চালু করেছে।

জাপানের বাইরে ইউরোপের হেলসিঙ্কিসহ বিভিন্ন অঞ্চলেও ব্যাংকিং, বিমান, রেল, কর ও সরকারি সেবার ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘটনা ঘটেছে।

জাপানের শিল্পমন্ত্রী রিয়োসেই আকাজাওয়া বলেছেন, একটি নিরাপত্তার ফাঁক দিয়েই সাইবার হামলা সফল হতে পারে। তাই শুধু প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিয়ে বসে থাকলে চলবে না; আক্রমণকারীর দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা করে আগেভাগেই দুর্বলতা শনাক্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, নিরাপত্তা রক্ষাকারীদেরও এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সক্রিয়ভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে তারা আক্রমণকারীদের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে থাকতে পারেন।

আরও পড়ুন <> ঘূর্ণিঝড় চাম্পির দাপটে লণ্ডভণ্ড পূর্ব এশিয়া, বন্ধ শত শত ফ্লাইট

তবে টোকিওভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান এসঅ্যান্ডজে করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট নোবুও মিওয়া সরকারের পদক্ষেপকে ধীর বলে সমালোচনা করেছেন। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

অন্যদিকে ট্রেন্ড মাইক্রোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইভা চেন বলেছেন, জাপানের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিস্তারিত নথি সাইবার অপরাধীদের কাছে আকর্ষণীয় লক্ষ্য হতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে ভাষাগত বাধা কমে যাওয়ায় এসব নথি লক্ষ্য করে হামলা চালানোও সহজ হচ্ছে। 

তার মতে, জাপান দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের বিদ্যমান প্রযুক্তিব্যবস্থাকে যথেষ্ট নিরাপদ মনে করে এসেছে।

এদিকে, পিএইচপি একটি বহুল ব্যবহৃত কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ভাষা, যা ইন্টারনেটের বহু ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবা পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়। 

এই ভাষার সফটওয়্যারে বছরের পর বছর ধরে থাকা নিরাপত্তাত্রুটিগুলো এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে শনাক্ত করা হয়েছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) পিএইচপির উন্নয়নকারীরা ত্রুটিগুলো সংশোধনের জন্য নতুন হালনাগাদ সংস্করণ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ব্যবহারকারীদের দ্রুত সফটওয়্যার হালনাগাদ করার আহবান জানান।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে অপরাধীরা এখন দ্রুত সফটওয়্যারের দুর্বলতা খুঁজে বের করতে, প্রতারণামূলক বার্তা তৈরি করতে এবং হামলার বিভিন্ন ধাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে পারছে। এতে সাইবার অপরাধ আরও দ্রুত, কম ব্যয়বহুল ও শনাক্ত করা কঠিন হয়ে উঠছে।

বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ অনলাইন সেবা ব্যাহত হওয়ার এই ঘটনা ইন্টারনেটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত সফটওয়্যার হালনাগাদ এবং প্রযুক্তিব্যবস্থার দুর্বলতা আগেভাগে শনাক্ত করার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। সূত্র: রয়টার্স

আপন দেশ/এমটিআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়