Apan Desh | আপন দেশ

বান্দার ডাকে সাড়া দেন আল্লাহ

আপন দেশ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৪৭, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

বান্দার ডাকে সাড়া দেন আল্লাহ

ফাইল ছবি

আল্লাহ আমাদের দোয়া করতে বলেছেন। যে পাপ করেছি, মাফ পেতে আল্লাহর সামনে মাথা নত করতে হবে, সঙ্গে বুকে আশা রাখতে হবে—আল্লাহ নিশ্চয়ই মাফ করবেন। আল্লাহ বলেছেন, তাকে ডাকতে। ডাকলে তিনি সাড়া দেবেন। সব পরিস্থিতিতে মহান আল্লাহ বান্দাকে তার কাছে দোয়া করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং সাড়া দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। (সুরা গাফির ৬০) 

আল্লাহর প্রতি বান্দার বিশ্বাস, ভালোবাসা ও নির্ভরতার প্রকাশ ঘটে দোয়ার মাধ্যমে। মানুষ যখন দোয়ার জন্য হাত তোলে, তখন সে স্বীকার করে যে, তার সামর্থ্য সীমিত এবং সবকিছুর ওপর ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর। এ উপলব্ধি মানুষের অন্তরে বিনয় সৃষ্টি করে। অহংকার দূর করে এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করে।

মানুষের জীবনে এমন অনেক পরিস্থিতি আসে, যখন চারপাশের সব পথ বন্ধ মনে হয়। প্রিয়জনের অসুস্থতা, জীবিকার সংকট, পারিবারিক অশান্তি কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা তাকে মানসিকভাবে দুর্বল করে দিতে পারে।

কখনো মানুষ নিজের কষ্ট অন্যের কাছে প্রকাশ করতে পারে না। কিন্তু আল্লাহর কাছে কোনো কথা গোপন থাকে না। তিনি মানুষের প্রকাশ্য ও গোপন সব অবস্থা জানেন। তাই বান্দা তার কাছে নিজের দুঃখ, কষ্ট, ভয় ও প্রয়োজনের কথা বলে। দোয়ার মাধ্যমে সে মানসিক প্রশান্তি লাভ করে এবং নতুন করে আশাবাদী হওয়ার শক্তি পায়।

হজরত আনাস (রা.)–র বর্ণনায় একটি হাদিস আছে। তিনি রাসুল (সা.)–কে বলতে শুনেছেন: আল্লাহ বলেছেন, হে আদম সন্তান! যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি আমাকে ডাকবে এবং আমার কাছে (ক্ষমা) প্রত্যাশা করবে, তুমি যা-ই প্রকাশ হোক না কেন, আমি তা ক্ষমা করে দেব—আর আমি কোনো কিছুর পরোয়া করি না। হে আদম সন্তান! তোমার গোনাহ্ যদি আকাশ সমান হয়ে যায়, আর তুমি আমার কাছে ক্ষমা চাও, তাহলে আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব। হে আদম সন্তান! যদি তুমি পৃথিবী পরিমাণ গোনাহ্ নিয়ে আমার কাছে আস এবং আমার সঙ্গে কোনো কিছুকে শরীক না করে (আখেরাতে) সাক্ষাৎ করো, তাহলে আমি সমপরিমাণ ক্ষমা নিয়ে তোমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করব। (তিরমিজি)

আরও পড়ুন<<>>পবিত্র জমাদিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি

দোয়া করার সময় বান্দার অন্তরে আন্তরিকতা থাকা প্রয়োজন। শুধু মুখে কিছু শব্দ উচ্চারণ করাই দোয়ার পূর্ণতা নয়। বরং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রেখে, নিজের অসহায়ত্ব উপলব্ধি করে এবং তার রহমতের আশা নিয়ে দোয়া করতে হয়। নিজের পাপের জন্য ক্ষমা চাইতে হয়। ভুল পথ থেকে ফিরে আসার তওফিক কামনা করতে হয়। একই সঙ্গে নিজের পরিবার, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কল্যাণের জন্য দোয়া করা উচিত।

তবে দোয়া করার অর্থ এই নয় যে, মানুষ নিজের দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকবে। কেউ জীবিকার জন্য দোয়া করলে তাকে হালাল উপার্জনের চেষ্টা করতে হবে। অসুস্থ হলে সুস্থতার জন্য দোয়ার পাশাপাশি চিকিৎসা নিতে হবে। কোনো সমস্যার সমাধান চাইলে আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। কারণ ইসলামে দোয়া ও চেষ্টা পরস্পরের পরিপূরক। আল্লাহর ওপর নির্ভর করার অর্থ নিজের কর্তব্য ছেড়ে দেয়া নয়, বরং সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করে ফলাফলের জন্য তার ওপর ভরসা করা।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়