Apan Desh | আপন দেশ

ব্যাটিং বিপর্যয়ে সেমির স্বপ্ন শেষ বাংলাদেশের

ক্রীড়া ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১০:৪২, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

ব্যাটিং বিপর্যয়ে সেমির স্বপ্ন শেষ বাংলাদেশের

ছবি : সংগৃহীত

সমীকরণের মারপ্যাচে পড়ে স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনায় নীল হলেন সাবেক তারকাদের সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্সের খেলোয়াড়দের। সেমিফাইনালে যেতে তাদের প্রয়োজন ছিল ১১.৫ ওভারে ২১১ রান। কঠিন সে সমীকরণ মেলানো তো দূরের কথা, দক্ষিণ আফ্রিকা লিজেন্ডসের বোলিংয়ের সামনে রীতিমতো অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। 

ব্যাটিং বিপর্যয়ে বড় হারে শেষ হয়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদদের সেমিফাইনালের স্বপ্ন। একই সঙ্গে ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডস থেকেও বিদায় নিতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

স্থানীয় সময় বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে শারজায় টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন দক্ষিণ আফ্রিকা লিজেন্ডসের অধিনায়ক ফাফ দু প্লেসি। তবে শুরুতেই তাকে ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশের জন্য স্বস্তি এনে দেন কামরুল ইসলাম রাব্বি। রুবেল হোসেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ১৪ বলে ১৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন এবি ডি ভিলিয়ার্স।

তবে প্রথম উইকেটের সাফল্য কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। ওয়ান ডাউনে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হন জেপি ডুমিনি। ওয়েন পারনেল ১৩ বলে ২২ রান করে ফিরলেও দক্ষিণ আফ্রিকার রানের গতি কমেনি। এক প্রান্ত আগলে রেখে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যান ডুমিনি।

মর্ন ভন উইক ১৯ বলে ৩০ রান করে ফিরলে ক্রিজে আসেন কলিন ইনগ্রাম। তিনিও বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চাপ বাড়াতে থাকেন। ফলে মাঝের ওভারগুলোতে দক্ষিণ আফ্রিকার রান তোলার গতি থামানো কঠিন হয়ে পড়ে টাইগারদের জন্য।

তবে ইনিংসের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা দেন ডুমিনি। তার ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২১০ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় দক্ষিণ আফ্রিকা লিজেন্ডস। ৪৯ বলে ৮৯ রান করে অপরাজিত থাকেন ডুমিনি। তার ইনিংসে ছিল সাতটি চার ও পাঁচটি ছক্কা। বাংলাদেশের হয়ে একটি করে উইকেট নেন রুবেল হোসেন, আবু জায়েদ চৌধুরী রাহী ও কামরুল ইসলাম রাব্বি।

সেমিফাইনালে উঠতে হলে বাংলাদেশকে এ লক্ষ্য পেরোতে হতো মাত্র ১১.৫ ওভারে। অর্থাৎ, রান তোলার গতি হতে হতো অবিশ্বাস্য। সমীকরণ কঠিন হলেও শুরুতে লড়াইয়ের আভাস দেয়ার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে। কিন্তু ব্যাটিংয়ে নেমে সে আশাটুকুও দ্রুত ফিকে হয়ে যায়।

আরও পড়ুন<<>>টেলিভিশনে আজকের যত খেলা

শুরুতেই ধসে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং। দলীয় ৪ রানের মধ্যেই হারায় প্রথম দুই উইকেট। দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছানোর আগেই সাজঘরে ফেরেন তিন ব্যাটার। দক্ষিণ আফ্রিকার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে একের পর এক উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ।

দলীয় ২৯ রানে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বিদায় নিলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। ২৬ বলে ৩৭ রান করে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ইনিংসটি খেলেন তিনি। শেষদিকে আরাফাত সানি ৩০ বলে ৩১ রান করে পরাজয়ের ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেন। তবে মাঝের সময়ে পাঁচ ব্যাটারের বিদায়ে বাংলাদেশের লড়াইয়ের সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যায়।

একপর্যায়ে জয় কিংবা সেমিফাইনালে ওঠার সমীকরণ দুটিই বাংলাদেশের নাগালের বাইরে চলে যায়। ব্যাটিং বিপর্যয়ের সেই চিত্র ফিরিয়ে আনে ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের স্মৃতি। সেদিনের মতো এবারও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য সামনে রেখে ব্যর্থ হলো বাংলাদেশ।

শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হার দিয়ে ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডসে নিজেদের অভিযান শেষ করতে হলো মাহমুদউল্লাহদের। সেমিফাইনালের স্বপ্ন পূরণ হলো না, টুর্নামেন্ট থেকেও বিদায় নিতে হলো হতাশা নিয়ে।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়