Apan Desh | আপন দেশ

সংস্কার কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে নেয়ার প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১২:৪২, ১ নভেম্বর ২০২৬

সংস্কার কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে নেয়ার প্রস্তাব

ছবি: আপন দেশ

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ পিছিয়ে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর নির্ধারণ করেছে জাতিসংঘ। এ বাড়তি তিন বছরকে কাজে লাগাতে এলডিসি উত্তরণসংক্রান্ত সংস্কার কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) অধীনে নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। 

একই সঙ্গে সংস্কার কার্যক্রম তদারকিতে সংসদকে সম্পৃক্ত করা এবং অগ্রগতি প্রকাশ্যে তুলে ধরতে নিয়মিত হালনাগাদযোগ্য ড্যাশবোর্ড চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

রোববার (০১ নভেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডি কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ: জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত ও আমাদের পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক মিডিয়া সংলাপে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহবায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

দেব‌প্রিয় বলেন, এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি শুধু অর্থনৈতিক বিষয় নয়। এর সঙ্গে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সম্পৃক্ততা জরুরি। এ কারণে উত্তরণ প্রস্তুতির দায়িত্ব অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে নেয়া প্রয়োজন। কারণ, এ কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য ইআরডির এখতিয়ার ও সক্ষমতা যথেষ্ট নয়।

সংলাপে উপস্থাপিত পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ২০২৯ সালের মধ্যে উত্তরণ প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে সরকারি-বেসরকারি খাত এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এমপি, কারিগরি বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকদেরও সংস্কার কার্যক্রমে যুক্ত করতে হবে। প্রয়োজনে এলডিসি উত্তরণ নিয়ে সংসদে বিশেষ কমিটি গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

সংস্কারের ক্ষেত্রে চারটি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এগুলো হলো সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি, সামাজিক সুরক্ষা ও লজিস্টিকস। এর মাধ্যমে অর্থনীতির বহুমুখীকরণ, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন<<>>পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠন

সিপিডির পর্যবেক্ষণে ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ এবং রাজস্ব আদায়ের দুর্বলতা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ছিল ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ। আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জিডিপির অনুপাতে কর রাজস্ব ছিল ৬ দশমিক ৯ শতাংশ। এসব সূচকে উন্নতি ছাড়া টেকসই উত্তরণ কঠিন হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া রফতানি খাতে তৈরি পোশাকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট রফতানির ৮০ দশমিক ৬ শতাংশ এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। নতুন পণ্য ও বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে রফতানি বহুমুখীকরণের ওপর জোর দেয়া হয়েছে।

সংলাপে বলা হয়, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশের উত্তরণ আরও তিন বছর পিছিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করে। ফলে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত প্রস্তুতির সময় পাওয়া গেছে। তবে এ সিদ্ধান্তকে ব্যতিক্রমী হিসেবে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘ। ভবিষ্যতে আর কোনো মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধে উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটি (সিডিপি) সমর্থন দেবে না বলেও জানানো হয়েছে।

সিপিডির পর্যবেক্ষণে সরকারের তিন বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে। এতে সংস্কারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা, নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা ও বাস্তবায়নের সময়সীমা থাকতে হবে। পাশাপাশি অর্থ মন্ত্রণালয়কে প্রতিবছর সিডিপির কাছে অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে হবে।

এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ যেসব বিশেষ সুবিধা পায়, সেগুলোও ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে রফতানি নগদ প্রণোদনার মতো সুবিধা ২০২৯ সালের নভেম্বরের আগেই পর্যায়ক্রমে বন্ধ করার পরিকল্পনা করতে হবে।

সংলাপে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ সভাপতিত্ব করেন। এ সময় সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান এবং অতিরিক্ত পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

আপন দেশ/কেএম/জেডআই

 

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়