Apan Desh | আপন দেশ

নবনিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের ‘জনগণের পুলিশ’ হওয়ার আহবান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৪:৩৬, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৫:২৫, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

নবনিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের ‘জনগণের পুলিশ’ হওয়ার আহবান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ছবি: আপন দেশ

নবনিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সততা, দক্ষতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করার আহবান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেছেন, সকল প্রকার ভয়-ভীতি ও পক্ষপাতিত্ব উপেক্ষা করে অসহায় মানুষকে সেবা দেয়ার মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।সত্যিকার অর্থেই ‘জনগণের পুলিশ’ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজশাহীর সারদাহে অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির ঐতিহাসিক প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। 

এটি ছিল ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট এবং ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর ব্যাচের পাসিং-আউট প্যারেড।

সালাহউদ্দিন আহমদ নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে নির্দেশনা দিয়ে বলেছেন, দুর্ব্যবহার, পক্ষপাতদুষ্টতা ও পেশী শক্তির পরিবর্তে পেশাদারিত্ব, দক্ষতা আর মানবিক পুলিশিংয়ের মাধ্যমে আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর ব্যবস্থা নেয়া নয়; বরং এমন পরিবেশ গড়ে তোলা। যেখানে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার ঝুঁকি কমে আসে। মানুষ নিরাপদে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।

আরও পড়ুন <> জাতীয় নির্বাচনের মতোই গুরুত্ব পাচ্ছে উপ-নির্বাচন: সিইসি

পুলিশের দায়িত্ব ও ক্ষমতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেকোনো ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় সংবিধান ও দেশের মৌলিক আইনে পুলিশকে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। তবে সেই ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে সংবিধান, প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে।

পরিবর্তিত অপরাধ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান সময়ে অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রচলিত অপরাধের পাশাপাশি সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা, আর্থিক জালিয়াতি, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ, মানব পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ পুলিশের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধু প্রচলিত অভিজ্ঞতা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, তথ্য বিশ্লেষণ, বৈজ্ঞানিক তদন্ত, অপরাধের ধরন সম্পর্কে হালনাগাদ জ্ঞান এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা।

তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে এবং তৃণমূল পর্যায়ে পুলিশি সেবা পৌঁছে দিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফরেনসিক ও ডিজিটাল ফরেনসিক, ডিএনএ পরীক্ষাগার, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার, বিট পুলিশিং, নারী-শিশু-বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী সার্ভিস ডেস্ক এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯। সাইবার জগতে সংঘটিত অপরাধ মোকাবিলায় স্বতন্ত্র সাইবার পুলিশ ইউনিটও প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা, দক্ষতা ও মানবিকতা বজায় রাখতে হবে। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানুষের অধিকার রক্ষা এবং জনসাধারণের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ তৈরি করাও পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

অনুষ্ঠানে কুচকাওয়াজের অভিবাদন গ্রহণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন তিনি। কুচকাওয়াজে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ব্যাচের ৮৪ জন এবং ৪৩তম ক্যাডেট এসআই ব্যাচের ১৬২ জনসহ মোট ২৪৬ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন। এএসপি প্রবেশনার মো. মাহবুব হোসেন প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন।

অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এবং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদার প্রিন্সিপাল (অতিরিক্ত আইজিপি) মো. মাইনুল হাসান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন পদমর্যাদার সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ব্যাচে বেস্ট সার্জেন্ট নির্বাচিত হন মো. ওমর ফারুক, বেস্ট একাডেমিক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন, বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ সাইফুল ইসলাম এবং বেস্ট শুটার মো. আসাদুজ্জামান।

অন্যদিকে, ক্যাডেট এসআই ব্যাচে বেস্ট ক্যাডেট নির্বাচিত হন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, বেস্ট একাডেমিক মো. বোরহানুল ইসলাম, বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ দেওয়ান গোলাম রসুল এবং বেস্ট শুটার মো. কামাল গনি।

আপন দেশ/এমটিআই

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়