Apan Desh | আপন দেশ

সবাইকে প্রতিবছর একটি করে গাছ লাগাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ১৮:৪৫, ২৯ জুন ২০২৬

সবাইকে প্রতিবছর একটি করে গাছ লাগাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: আপন দেশ

প্রতি বর্ষা মৌসুমে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, জীবদ্দশায় সবাইকে প্রতিবছর একটি করে গাছ লাগাতে হবে। এমকি নবাগতকে স্বাগত জানিয়েও গাছ লাগাতে হবে।

সোমবার (২৯ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের বাইরে নিমগাছ লাগিয়ে দেশব্যাপী ২৯ হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।

সৌদির নিমগাছের উদাহরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আরাফাতের ময়দানে অনেকগুলো নিমগাছ লাগানো রয়েছে। ৫০ বছর আগে সেখানে কোনো গাছ ছিল না। সম্ভবত ১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ওমরা পালন করতে গিয়ে তৎকালীন সৌদি বাদশাকে হাজিদের ছায়ার জন্য নিমগাছ রোপণের পরামর্শ দেন। সে সময় দেশ থেকে প্রায় ১ লাখের মতো নিমগাছের চারা পাঠিয়েছিলেন তিনি। এখন গাছগুলোকে সৌদি আরবের মানুষজন নিমগাছ হিসেবে ডাকে না, ‘জিয়া ট্রি’ নামে ডাকে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) গাছ রোপণের কথা বলে গিয়েছেন। সবুজ রংটা নবীর খুব পছন্দ ছিল। তিনি অনেক গাছ রোপণও করেছেন। গাছ পরিবেশ থেকে শুরু করে বিভিন্নভাবে আমাদের জীবনে উপকার করে থাকে। তাই তোমরা যত দিন বাঁচবে, প্রত্যেক বছর একটা করে গাছ রোপণ করবে। গাছটা যখন একটু বড় হবে তখন তোমার বন্ধুর মতো মনে হবে। গাছটা যত বড় হতে থাকবে তুমিও বড় হতে থাকবে। তোমার পাশাপাশি যখন গাছটা বড় হবে দেখবে যে একটা অদ্ভুত একটা ভালোলাগা কাজ করবে। 

আরও পড়ুন<<>>অতীতে না তাকিয়ে সামনের দিকে এগোতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

গাছ রোপণে উৎসাহ দিয়ে তারেক রহমান বলেন, শুধু আজকের দিন নয়, প্রতি বর্ষা মৌসুমে অন্তত একটা করে গাছ রোপণ করতে হবে। ছাত্র-ছাত্রীদের গাছ রোপণে উৎসাহ দিতে হবে। স্বাভাবিকভাবে দেশে গাছ যত বাড়বে, আমাদের পরিবেশ তত ঠাণ্ডা হবে। পরিবেশ ঠাণ্ডা হলে আমাদের থাকতেও তত আরাম হবে।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছের ভূমিকা বিষয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বর্ষা মৌসুম শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু যে অনুপাতে বৃষ্টি হওয়া উচিত ছিল, তা হচ্ছে না। আমরা যখন ছোট ছিলাম এ বর্ষাকালে টানা বৃষ্টি হতো। এখন সে বৃষ্টিটা হচ্ছে না। প্রয়োজন কিংবা অপ্রয়োজনেও গাছ কাটা পড়ছে। ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ দেশেই আমাদের থাকতে হবে। আমার ঘর যদি আমি সুন্দর করে গুছিয়ে না রাখি তাহলে আমিও একটা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকব। এতে করে আমার মানসিক এবং শারীরিক ক্ষতি হবে।

এর আগে বিএনসিসি সদস্যদের গার্ড অব অনার গ্রহণ শেষে প্রধানমন্ত্রী। বিএনসিসির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জনপ্রতিরক্ষা ধারণার সঙ্গে বিএনসিসির ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এ কারণেই সংগঠনটিকে দেশের দ্বিতীয় সারির প্রতিরক্ষা শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বিএনসিসি নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সর্বস্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিএনসিসির কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারণ এবং অধিক সংখ্যক তরুণ-তরুণীকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ শুরু করেছে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আরও যুগোপযোগী ও শক্তিশালী করতে যথাযথ বিনিয়োগ ও পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করা গেলে বিএনসিসি দেশের তরুণ সমাজের নৈতিক বিকাশ নেতৃত্বের গুণাবলি এবং দেশপ্রেমে জাগ্রত করতে অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, উপদেষ্টা মাহদী আমিন প্রমুখ।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement