কমিশনার মো. সরওয়ার
আগামী ৬ মাসের মধ্যে ঢাকার সড়কে পূর্ণাঙ্গরূপে স্বয়ংক্রিয় মামলা চালু সম্ভব হবে। সার্জেন্ট বা ট্রাফিক পরিদর্শকদের ম্যানুয়াল মামলা খুব একটা করা লাগবে না। যেকোনো স্থানে ট্রাফিক আইন বা মোটর ট্রান্সপোর্ট আইন ভাঙলে স্বয়ংক্রিয় মামলা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে বিমানবন্দর ক্রসিং সৌর শক্তির ‘ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান ডিএমপি ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ইতোমধ্যে ঢাকার ৩০ পয়েন্টে এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। গত সপ্তাহ থেকে সফটওয়্যারের মাধ্যমে যানবাহনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল মামলা বা অটোমেটিক মামলা করা শুরু হয়েছে। সফটওয়্যারটি আইন ভঙ্গকারী যানবাহন শনাক্ত করে কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও ফুটেজ তৈরি করছে। ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে আমাদের সঙ্গে বিআরটিএ ডাটাবেজের যে কানেক্টিভিটি আছে, সে কানেক্টিভিটির ঠিকানা থেকে মালিকদের ঠিকানা নিয়ে সেসব ঠিকানায় প্রসিকিউশন চিঠি পাঠানো হচ্ছে।
কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে বা মোবাইলের এসএমএসের মাধ্যমে মামলার তথ্য পাঠানো হবে, সে অনুযায়ী তারা জরিমানা পরিশোধ করবে। বিভিন্ন পয়েন্টে সিগন্যাল লাইটের পোলগুলোতে পর্যায়ক্রমে ‘এআই বেজড সিসি ক্যামেরা’ স্থাপন করা হবে।
তিনি জানান, সিটি করপোরেশন গত কয়েক মাসে জাহাঙ্গীর গেট থেকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল পর্যন্ত সাতটি ক্রসিংয়ে সিগন্যাল লাইট স্থাপন করেছে। এ ছাড়া গুলশান-১ নম্বরে আগে থেকেই ছিল, আর গুলশান-২ নম্বরেও সিটি কর্পোরেশন সিগন্যাল লাইন স্থাপন করেছে।
আরও পড়ুন<<>>সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠন করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
এর বাইরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন হাইকোর্ট ক্রসিং থেকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং পর্যন্ত ৬টা পয়েন্টে সিগন্যাল লাইট স্থাপন করছে, যা কয়েক দিনের মধ্যে চালু হবে। এর বাইরে ১৫টি পয়েন্টে ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট স্থাপন করেছে ডিএমপি। পরে সিটি করপোরেশন ঢাকা মহানগরে আরও অনেক ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট স্থাপন করবে। তিনি বলেন, এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে গত এক সপ্তাহে ৩ শতাধিক মামলা হয়েছে। ভবিষ্যতে দেখা যাবে যে প্রতিদিন হয়তো ১ হাজার মামলা হবে।
২০২২ সাল থেকে অনেকেই ট্রাফিক জরিমানা পরিশোধ করছিল না। এমন প্রায় ১ লাখ মামলা পুলিশের কাছে পড়ে ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ডিএমপির ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ইতিমধ্যে প্রায় ৬৭ হাজার মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। আরও ৩৮ হাজার এমন মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে।
সড়কে গাড়ি চলাচলের গতি বেড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সড়কে গতি আনতে ইতমধ্যে ঢাকার প্রায় ৭০টি স্থানের কোথাও ইউটার্ন, কোথাও রাইট টার্ন বন্ধ করার মতো ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ২০২৪ সাল পর্যন্ত ঢাকার গড় গতিবেগ (রাস্তায় যানবাহনের গড় গতি) ছিল ৫ কিলোমিটারের নিচে, কিন্তু ২৫-২৬ সালে আমরা মনে করি ঢাকা মহানগরের গাড়ির গড় গতিবেগ এখন ১০ কিলোমিটারের উপরে হয়ে গেছে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ক্যামেরা বসিয়ে মামলা করার ফলে ওভার স্পিড কমেছে। সে অনুযায়ী ৩০০ ফুট পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়েতেও ক্যামেরা বসিয়ে ‘ডিজিটালি কন্ট্রোল’ করা হবে।
রাস্তা কাটাকাটি কমেছে দাবি করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, আমরা বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কোঅর্ডিনেশন করে রাস্তাঘাট উন্নয়নের চেষ্টা করছি। বিভিন্ন সময় ডিপিডিসি, ডেসকো এবং সিটি কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন সংস্থা রাস্তা কাটে। এটাও আমরা সমন্বয় করছি। এর ফলে দেখবেন যে গত এক বছর রাস্তায় কাটাকাটির ফলে ট্রাফিক জ্যাম খুব একটা চোখে পড়ে না। যেখানে প্রয়োজন সেখানে কাটবে, তবে সমন্বয় করে কাটবে; বাইপাস রোড করে কাটবে। কুড়িল বিশ্বরোডের চাপ কমাতে ৩০০ ফুট থেকে ইউনাইটেড গ্রুপ-স্বদেশ ভ্যালি-আফতাবনগর পর্যন্ত একটি সড়ক চালু করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ঢাকা শহরে ট্রাফিক ব্যবস্থায় যে বিশৃঙ্খলা ছিল, সেটা থেকে শৃঙ্খলা আনতে হলে আমাদের একটু সময় লাগবে। ধীরে ধীরে সব সেক্টরেই হস্তক্ষেপ করে আমরা ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থা ভালো করব।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































