Apan Desh | আপন দেশ

‘দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি-স্থিতিশীলতায় মানুষে মানুষে সম্পর্কের বিকল্প নেই’

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৮:০৫, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬

‘দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি-স্থিতিশীলতায় মানুষে মানুষে সম্পর্কের বিকল্প নেই’

ছবি: আপন দেশ

দক্ষিণ এশিয়ায় টেকসই শান্তি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সার্বিক উন্নয়ন অগ্রগতির জন্য সরকারিভাবে কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রয়োজন। পাশাপাশি সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে মানুষে মানুষে সম্পর্ক সুদৃঢ় করার কোনো বিকল্প নেই। এমন মন্তব্য করেছেন সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও সার্ক কালচারাল সোসাইটির উপদেষ্টা মসয়ুদ মান্নান।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে সার্ক কালচারাল সোসাইটির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মসয়ুদ মান্নান বলেন, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকলেও সংস্কৃতি, শিক্ষা, সাহিত্য ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা ও বোঝাপড়া গড়ে তোলা সম্ভব।

তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মানুষের ভাষা, সংস্কৃতি ও ইতিহাসে গভীর মিল রয়েছে। এ মিল শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, এ অভিন্নতাকে কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করতে হবে।

সার্ক কালচারাল সোসাইটির কার্যকরী সভাপতি এটিএম মমতাজুল করিমের সভাপতিত্বে সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সংগঠনের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক সুজন দে।

সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সার্ক গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

তারা বলেন, পরবর্তীতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সার্কের প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি এ অঞ্চলে শান্তি ও পারস্পরিক সহযোগিতার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে কাজ শুরু করেন।

আরও পড়ুন <<>> পুলিশ সংস্কারের ঘাটতির কথা স্বীকার করলেন আইন উপদেষ্টা

বক্তারা আরও বলেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সমন্বয়হীনতা ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে গত এক যুগ ধরে সার্ক কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে। এ বাস্তবতায় রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বাইরে সংস্কৃতিকর্মী, সাংবাদিক, কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবীদের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বক্তারা বলেন, সংস্কৃতি চর্চা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমেই মানুষে মানুষে সম্পর্ক সবচেয়ে সহজ ও কার্যকরভাবে গড়ে তোলা সম্ভব। এ সম্পর্ক যত দৃঢ় হবে, আঞ্চলিক শান্তি ও সহযোগিতার ভিত্তিও তত মজবুত হবে।

সভায় বক্তব্য দেন সংগঠনের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মোশারফ হোসেন মনির, এইচ এম ইব্রাহিম ভূঁইয়া ও আব্দুল জলিল।

আরও বক্তব্য দেন কবি নজরুল বাঙালি, নরেশ হালাদার, সাধারণ সম্পাদক সুজন দে, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদ বিপ্লব ও ইশতিয়াক আহমেদ রিগান।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন ড. জাহাঙ্গীর আলম, যুগ্ম আন্তর্জাতিক সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা টিনা খান, পারভেজ অনিক, রেদওয়ান আবির চৌধুরী জয়, রাজন আহমেদ শিশির, মেহেদী হাসান ইমন, জিনিয়া জোসনা, মলয় নাথ, মো. খায়রুল আলম, রবিউল আলম রবি, সামান্তা শাহিন, মঞ্জুর হোসেন ঈসা, এম. আজমল খান, মো. কাইয়ুম খান ও আমজাদ হোসেন। সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বন্ধন জোরদারে সার্ক কালচারাল সোসাইটির কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

আপন দেশ/এবি/এসএস

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়