Apan Desh | আপন দেশ

এবার নান্দনিক সাজে মহাখালী ফ্লাইওভার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:২৯, ৩১ জানুয়ারি ২০২৪

এবার নান্দনিক সাজে মহাখালী ফ্লাইওভার

দূষণ ও যানজটে নাকাল রাজধানী। একটু সাচ্ছন্দ্যের জন্য ঢাকায় তৈরি হয়েছে একাধিক উড়াল সড়ক। এসব উড়াল সড়কের নানা জায়গায় এতদিন সাটানো থাকত পোস্টার। এ ছাড়া আর্ট করা ছিল নানা বিজ্ঞাপন। 

এর মাঝে সৌন্দর্য বর্ধনের অংশ হিসেবে মৌচাক-মগবাজার উড়াল সড়কে আঁকা হয় না চিত্রকর্ম। এবার ব্যস্ততম মহাখালী ফ্লাইওভারে ফুটে উঠছে নান্দনিক চিত্রকর্ম। গ্রাম বাংলা এবং দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে এসব চিত্রকর্ম আঁকা হচ্ছে। সম্পূর্ণ কাজ শেষ না হলেও ফ্লাইওভারটি অনেকাংশই ছেয়ে গেছে রঙিন চিত্রকর্মে। 

পথচারী থেকে শুরু করে সামাজিক মাধ্যমে এখন ফ্লাইওভারের চিত্রকর্ম নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। নগরবাসী বলছেন, এখন জীবন্ত মনে হচ্ছে শহরকে। এভাবে ঢাকার বড় স্থাপনা ও দেয়ালকে রঙিন করে সাজালে ঝিমিয়ে পড়া শহরকে আরও প্রাণবন্ত মনে হবে। মানুষের রুচি ও ভাবনায় পরিবর্তন আসবে।

গত বছরের ডিসেম্বরে ঢাকা উত্তর সিটি কপোরেশনের উদ্যোগে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের সহযোগিতায় মহাখালী ফ্লাইওভারে স্ট্রিট আর্ট শুরু হয়। আগামী মার্চের মধ্যে পুরো ফ্লাইওভারে এই কাজ সম্পন্ন করা হবে।

মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় ইতোমধ্যে অর্ধেকের বেশি অংশে চিত্রকর্মের কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ চলমান। বাংলা ভাষা, গ্রাম্য মেলার টেপা পুতুল, পাখি, বাউল, নানা আলপনাসহ শহরের রিকশা, বাসের চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে মহাখালীর ফ্লাইওভারজুড়ে। এসব ছাড়াও ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে চলাচল করা মানুষজনের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে ‘গাছা বাঁচাও জীবন বাঁচাও’, ‘হর্ন বাজানো নিষেধ’, ‘বাঁচলে দেশ আমরা বাঁচবো বেশ’ এমন নানা স্লোগান লেখা আছে চিত্রকর্মের মাঝে। মহাখালীর রাওয়া কনভেনশন সেন্টারের সামনে থেকে আমতলী সিগন্যাল পর্যন্ত উড়াল সড়কে মোট ১৪টি খুঁটির সবগুলো সাজবে রঙে।

আরও পড়ুন <> ঘরেই লাগাতে পারেন ঔষধি গাছ

মহাখালী ফ্লাইওভারটি সাজাচ্ছেন মো. রাসেল রানা ও শাকিল মৃধা নামে দুই শিল্পী। তাদের নির্দেশক হিসেবে আছেন আরিফ সিদ্দিক নিটল ও তাহসিনা ফেরদাউস রিনিয়া।

চিত্রকর্মের বিষয়ে শিল্পীরা বলেন, মহাখালী ফ্লাইওভার সাজাতে আমরা ফোক সাবজেক্ট বেছে নিয়েছি। কারণ এই চিত্রকর্ম সব শ্রেণির মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য। এ ছাড়া কালারফুল করতে ফোক এবং দেশীয় আলপনার একটা সমন্বয় করেছি। এতে উৎসব বিষয়টি ফুটে উঠছে। যাতে ক্লান্ত পথিকের মনে রঙ ছুঁয়ে যায়।

উপরে চিত্রকর্ম ছাড়াও ফ্লাইওভারের নিচে ফাঁকা জায়গায় টেবিল টেনিস এবং দাবা খেলার বোর্ডের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ।

ডিএনসিসির পক্ষ থেকে বলা হয়, শহরকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করতেই এই উদ্যোগ। সৌন্দর্য বর্ধনের পাশাপাশি ফ্লাইওভারের বিভিন্ন পিলারে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে, যাতে কেউ এসব চিত্রকর্ম নষ্ট করতে না পারে। এই দৃষ্টিনন্দন স্ট্রিট আর্টের ওপর পোস্টার লাগালে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এর আগে ঢাকার মৌচাক-মগবাজার উড়াল সড়কেও এ ধরনের চিত্রকর্ম করিয়েছে ডিএনসিসি; যা চলাচলকারী পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

মহাখালী ও মৌচাক-মগবাজার ফ্লাইওভার ছাড়াও মিরপুর ১০ এর একটি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে (এসটিএস) শক্তি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ্যে বিভিন্ন রঙিন চিত্রকর্ম আঁকা হয়। এ ছাড়া ফার্মগেট থেকে বিজয় সরণি পর্যন্ত রাস্তার মাঝের বিভাজনেও রঙের ছোঁয়া লেগেছে।

মহাখালী ও মগবাজার ফ্লাইওভার দুটির নিচ দিয়ে যাতায়াত করা সাধারণ জনগণ ফ্লাইওভারজুড়ে বড় রঙিন চিত্রকর্ম দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, ‘মাথার ওপর এত রঙের ছড়াছড়ি যেন উৎসবের আমেজ’।

মগবাজার ফ্লাইওভারের নিচে পথচারী জাহাঙ্গির মিয়া বলেন, ‘আমাদের চারপাশ এখন অনেক বেশি মলিন হয়ে গেছে। শহরে ধুলা-ময়লা, মানুষের মনেও আনন্দ নাই। এরকম অবস্থায় যখন ফ্লাইওভারজুড়ে এসব চিত্রকর্ম দেখা যায় তখন ভালোই লাগে। কিছুক্ষণের জন্য হলেও চোখে শান্তি পাওয়া যায়। মনের মাঝেও একটা সুন্দর ভাবনা আসে।’

মহাখালী ফ্লাইওভারের নিচে বাসযাত্রী ইব্রাহিম মিয়া বলেন, ‘এরকম বড় আঁকাআঁকি আগে দেখি নাই। মনে হচ্ছে মাথার ওপরে রঙের ছাতা। দেখতেই ভালো লাগছে।’

মহাখালীর দোকানদার আলম শেখ বলেন, ‘দেখতে তো ভালোই লাগছে। আমরাও চাই আমাদের শহরটা সুন্দর দেখাক। কিন্ত যেখানে সেখানে পোস্টার লাগানোর কারণে সেই সুন্দরটা আর থাকে না। এখানে যেন কেউ পোস্টার লাগাতে না পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। যারা লাগাবে তাদের জরিমানার ব্যবস্থা করতে হবে।’

ডিএনসিসির কর্মকর্তারা বলেছন, ঢাকা শহর একটি দ্রুত বর্ধনশীল শহর। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শহরের সৌন্দর্য ও পরিবেশের অবনতি ঘটছে। পোস্টার লাগানো, ময়লা আবর্জনা ফেলে দেয়া, গাড়ির ধোঁয়া ইত্যাদি কারণে শহর দিন দিন নোংরা ও দূষিত হয়ে উঠছে। এই সমস্যা সমাধানে স্ট্রিট আর্ট একটি কার্যকর উপায় হতে পারে বলেই এই ধরনের কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। আর স্ট্রিট আর্টের মাধ্যমে নান্দনিক চিত্রকর্ম তৈরি করে শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং পরিবেশকে আরও মনোরম করে তোলা হবে।

বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রূপালী চৌধুরী বলেন, ঢাকা শহরে ট্রাফিক জ্যামে আটকে থেকেও একজন ব্যক্তি এমন শিল্পকর্ম দেখতে পারবেন ফ্লাইওভারের মতো আধুনিক স্থাপনার গায়ে। এই শিল্পকর্মের রঙ, এর সৌন্দর্য তাদের মানসিক শান্তি দেবে। শহরের বুকেও মনে করিয়ে দেবে তার শেকড়ের কথা। রঙের নান্দনিকতায় এভাবেই ইতিবাচকতার চর্চা হবে।

ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি ফ্লাইওভারের বিভিন্ন পিলারে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে, যাতে কেউ এসব চিত্রকর্ম নষ্ট করতে না পারে। এই দৃষ্টিনন্দন স্ট্রিট আর্টের ওপর পোস্টার লাগালে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মেয়র বলেন, আমরা শহরকে দৃষ্টিনন্দন করার অনেক কাজই করি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, সে কাজগুলো কিছুদিন পরেই পোস্টারের আড়ালে ঢেকে যায়। মহাখালীতে যে দৃষ্টিনন্দন স্ট্রিট আর্ট করা হয়েছে, তার ওপর আমি কোনো পোস্টার দেখতে চাই না। যে পোস্টার লাগাবে তাকে সবাই মিলে প্রত্যাখ্যান করবো। এতো সুন্দর চিত্রকর্মে পোস্টার লাগালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব। পোস্টার লাগিয়ে এই শহরকে নোংরা করার অধিকার কারো নেই। যারা পরিবেশ নষ্ট করে, তাদের ধিক্কার জানাতে হবে।

আপন দেশ/এমআর

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়