Apan Desh | আপন দেশ

বরিশালে নির্মাণাধীন সড়কের মধ্যে স্থাপনা, দায় এড়াচ্ছে কর্মকর্তরা

বরিশাল প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৮:০৪, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বরিশালে নির্মাণাধীন সড়কের মধ্যে স্থাপনা, দায় এড়াচ্ছে কর্মকর্তরা

ছবি: আপন দেশ

বরিশাল নগরীর ব্যস্ততম পোর্ট সড়কের মাঝখানে একটি দোকানঘর রেখেই নির্মাণাধীন কাজ এগিয়ে নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ও সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে।

প্রায় ৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে এ সড়কের পুনর্নির্মাণের কাজ চলছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে প্রায় চার কিলোমিটার সড়ক আরসিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণের কথা রয়েছে। 

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, পোর্ট রোডের একটি অংশে সড়কের বড় অংশজুড়ে রডের জাল বিছিয়ে ঢালাইয়ের প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্যেই একটি স্থাপনা দাঁড়িয়ে রয়েছে। স্থাপনাটিকে ঘিরে সড়কের নির্মাণকাজ এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে সড়কের স্বাভাবিক চলাচল ও প্রশস্ততা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে বরিশাল বন্দর নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাস্তা সংস্কারের সময় যে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে, তা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কারণে। বিষয়টি তিনি দেখবেন। তবে স্থাপনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমজাদ হোসেন ভালো বলতে পারবেন। 

আরও পড়ুন<<>>রামপালের এক ইউনিট বন্ধ, উৎপাদন নেমেছে ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে

অন্যদিকে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমজাদ হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সড়কের মধ্যে থাকা দোকানটি বিআইডব্লিউটিএর স্থাপনা। কেন সেটি সড়কের মধ্যেই রাখা হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বিষয়টি বন্দর নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান ভালো জানেন বলে জানান।

এভাবে দুই কর্মকর্তার বক্তব্যে বিষয়টির দায় একে অপরের উপর বর্তানোর চিত্র পাওয়া যায়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক নির্মাণের আগে স্থাপনাটি নিয়ে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও সিদ্ধান্ত কেন নেয়া হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম খান রাজন বলেন, মানুষের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে এমন স্থাপনা থাকলে তা অপসারণের ব্যবস্থা করা হবে। সংশ্লিষ্ট স্থাপনাটির বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি এর সঙ্গে কোনো প্রভাবশালী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জড়িত রয়েছেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।

বিষয়টি বরিশালের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মামুন খন্দকারকে অবহিত করা হলে তিনি সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, স্থাপনাটি রাস্তার মধ্যে পড়েছে। রাস্তার এলাইনমেন্ট অনুযায়ীই সড়ক নির্মাণ করা হবে। সেখানে কোনো অবৈধ স্থাপনা থাকলে তা অবশ্যই অপসারণ করা হবে। 

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি বিআইডব্লিউটিএর সঙ্গে কথা বলেছেন। স্থাপনাটি অপসারণের জন্য বলা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ এটি অপসারণ না করলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানা যায়, প্রায় ৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে পোর্ট রোডের প্রায় চার কিলোমিটার অংশ পুনর্নির্মাণের প্রকল্প নেয়া হয়েছে। গত বছরের ৭ ডিসেম্বর প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। প্রকল্পে টেকসই আরসিসি সড়কের পাশাপাশি দুই পাশে ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে সড়কের পাশের কয়েকটি স্থাপনা নিয়ে জটিলতার কারণে ড্রেনের একটি অংশের নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ থাকার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, জমি নিয়ে মামলা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ওই অংশের কাজ আপাতত করা হয়নি। তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন না হলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনে ভোগান্তি বাড়তে পারে।

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থে বাস্তবায়নাধীন গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পে কোনো স্থাপনা বা ব্যক্তিস্বার্থ যেন সড়ক নির্মাণের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি না করে, তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রকল্পের নকশা ও রাস্তার নির্ধারিত এলাইনমেন্ট অনুযায়ী কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়