Apan Desh | আপন দেশ

ফ্রান্সে বিভিন্ন শহরে আংশিক কারফিউ জারি

আন্তজাতিক ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ২১:৩৮, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

ফ্রান্সে বিভিন্ন শহরে আংশিক কারফিউ জারি

ফাইল ছবি, আপন দেশ

ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে সহিংস বিক্ষোভ ও দাঙ্গার পর প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানীয়ভাবে আংশিক কারফিউ জারির জন্য আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু। দেশটির সরকার স্বীকার করেছে, সপ্তাহান্তের সহিংস বিক্ষোভের সময় কয়েকটি স্থানে পুলিশ পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) জরুরি মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর লেকর্নু বলেন, জনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে তিনি পুরোপুরি সংকল্পবদ্ধ। প্রয়োজন হলে স্থানীয় ও আংশিক কারফিউ জারি করা যেতে পারে।

তবে প্যারিসের মতো পুরো শহরে কারফিউ জারির কোনো প্রশ্নই নেই বলে তিনি জানান। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা প্রয়োজন বলে বিবেচিত হলে সরকার তা করতে পারে।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আংশিক কারফিউই ‘অধিক উপযুক্ত’ বলে মনে হচ্ছে। কোন কোন শহরে এবং কীভাবে কারফিউ কার্যকর করা হবে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি।

শনিবারের বিক্ষোভের সময় কয়েকটি শহরে পুলিশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল বলে এর আগে স্বীকার করেন ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ। দাঙ্গা বন্ধে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা পর্যালোচনা এবং নতুন কার্যপদ্ধতি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

সোমবার নুনেজ বলেন, বিক্ষোভের প্রস্তুতিতে আগাম পরিস্থিতি আঁচ করার ঘাটতি ছিল। বিক্ষোভের আশপাশে দাঙ্গা ও লুটপাট মোকাবিলায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুলিশের সংখ্যাও পর্যাপ্ত ছিল না বলে তিনি স্বীকার করেন।

ঘটনার জন্য নিজেকে সবকিছুর জন্য দায়ী মনে করে তিনি মাখোঁর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। তবে মাখোঁ তা গ্রহণ করেননি। পরিবর্তে পরিকল্পনা ও গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতি নিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দেন। 

আরও পড়ুন<<>>ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুকে আরাগচির হুঁশিয়ারি

উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভের ধারাবাহিকতায় এ সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এসব বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে কখনো কখনো সহিংস সংঘর্ষ হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ছয় মাস আগে এবং অর্থনৈতিক চাপ বাড়তে থাকার মধ্যে এ পরিস্থিতি দেশটিকে অস্থির করে তুলেছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি পৌরসভা ভবনসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে এবং সেগুলোতে আগুন দেয়া হয়েছে। আনুমানিক দুই হাজার দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে। প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের ৭০ শতাংশই প্রাপ্তবয়স্ক। এ ছাড়া প্রায় এক হাজার পুলিশ ও জেন্ডারম সদস্য আহত হয়েছেন।

নুনেজ বলেন, সারা দেশে ৬০ হাজার পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে প্যারিস, মার্সেই ও লিয়নের মতো বড় শহরে সংগঠিত ও সহিংস দাঙ্গাকারীদের নিয়ন্ত্রণে এ সংখ্যা যথেষ্ট ছিল না।

রোববারও দাঙ্গা ও লুটপাট অব্যাহত ছিল। প্যারিসের মেয়র ইমানুয়েল গ্রেগোয়ার সোমবার বলেন, আগের দিন রাজধানীতে প্রায় ৩০টি দোকান হামলার শিকার হয়েছে। রাতভর আরও ৩৫০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রোববার টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে মাখোঁ বেপরোয়া সহিংসতার সমালোচনা করেন। আগামী কয়েক দিনে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কিছু বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করতে পারবে বলেও জানান তিনি। তবে জরুরি অবস্থা বা কারফিউ জারির মতো কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দেননি।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়