Apan Desh | আপন দেশ

‘সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ১৯:০৯, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৯:০৯, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

‘সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে’

ফাইল ছবি, আপন দেশ

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় তথ্য বিনিময়ে ঘাটতি ছিল বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এ ঘাটতি কেন হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে সৌদি আরবের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে বলেও জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

সৌদির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কেমন সেটিও তুলে ধরলেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর ভালো ও গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ ও সৌদি আরব জেনেভা কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ। এ ঘটনায় তথ্য বিনিময়ের প্রক্রিয়ায় কোথায় ঘাটতি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তথ্য আদান-প্রদানের প্রক্রিয়ায় কেন ঘাটতি হয়েছে, তা জানতে সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যে অভিযোগ বা অপরাধের দায়ে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, তা বাংলাদেশের জন্য হতাশাজনক। পবিত্র মক্কায় মানুষ ধর্মীয় ও পবিত্র উদ্দেশ্য নিয়ে যান। সেখানে এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেছেন, রায় কার্যকর হয়ে যাওয়ায় এখন ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ নেই। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো, তথ্য বিনিময়ের প্রক্রিয়ায় কোথায় ঘাটতি ছিল, তা চিহ্নিত করা।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রতিমন্ত্রী জানান, তাদের পরিচয় গণমাধ্যমের খবরে এসেছে। বিদেশে কোনো বাংলাদেশি অপরাধে জড়ালে সংশ্লিষ্ট দেশের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে অবহিত করা গুরুত্বপূর্ণ। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কনস্যুলার সেবা দেয়ার সুযোগ থাকে। 

আরও পড়ুন<<>>সরকারের যত কাছেরই হোক, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়: আইনমন্ত্রী

সৌদি আরবে যাওয়া বাংলাদেশিদের দেশটির আইন সম্পর্কে সচেতন থাকার আহবান জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, পবিত্র স্থানে মানুষ পবিত্র উদ্দেশ্য নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট দেশের স্থানীয় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার বিষয় রয়েছে। 

ভারতের সঙ্গে কনস্যুলার সংলাপ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, সংলাপে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে। দুই পক্ষের যেসব বিষয়ে আগ্রহ থাকবে, সেগুলো নিয়েই আলোচনা করা হবে।

দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার বিষয়ে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতের কাছে জানতে চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার। দণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশকে কেন জানানো হলো না, সেটিও জানতে চাওয়া হয়েছে। বিদেশে কোনো দেশের নাগরিকের বিচার ও শাস্তি কার্যকরের আগে সংশ্লিষ্ট দেশকে জানানোর বিধান থাকলেও এ ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি বলে সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ বিন জাফর এইচ বিন আবিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয় বিষয়াবলি) মো. নজরুল ইসলাম। বেলা সাড়ে তিনটায় শুরু হয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা চলা এ বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি গত সপ্তাহে মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টিও উঠে আসে।

আলোচনা শেষে সৌদি রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, তিনি রিয়াদে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে বিস্তারিত জানবেন। এরপর বিষয়টি বাংলাদেশকে অবহিত করবেন।

জানা যায়, মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুই বাংলাদেশির নাম নাজেরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সিতি আক্তার বলে জানিয়েছে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত বুধবার ওই দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। মসজিদে অনৈতিক কাজ করার দায়ে তাদের এ সাজা দেয়া হয় বলে জানানো হয়েছে।

দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) এক প্রতিবেদনে জানায়, সৌদি নিরাপত্তা বাহিনী ওই দুই বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করে। পরে তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় এবং সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হয়। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই দুই বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। মক্কা অঞ্চলে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।

অপরাধের গুরুত্ব এবং স্থানের পবিত্রতা লঙ্ঘনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ইসলামি আইনের তাজির ধারায় এ সাজা দেয়া হয় বলে জানিয়েছে দেশটি।

তাজির হলো ইসলামি আইনে বিচারকের বিবেচনাধীন শাস্তি। রায়ের পর রাজকীয় আদেশের মাধ্যমে সাজা কার্যকর করতে বলা হয় বলে উল্লেখ রয়েছে বিবৃতিতে।

তবে ঠিক কী ধরনের অপরাধের জন্য তাদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে, মক্কার কোন মসজিদে ঘটনাটি ঘটেছিল কিংবা কী অবস্থায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়