এডিস মশাবাহী ডেঙ্গুর হটস্পট রাজধানী ঢাকা। অবশ্য ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশেই। চলতি বছর দেশে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ৩২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার হাসপাতালগুলোতেই মারা গেছেন ২৫৮ জন। ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে আরও ৬৯ জনের। ডেঙ্গুতে যত মৃত্যু, তার প্রায় ৭৯ শতাংশই ঢাকায় হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেয়া তথ্য পর্যালোচনা করে এই হিসাব পাওয়া গেছে। এদিকে রোববার (৬ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে সোমবার (৭ আগস্ট) সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ১৪ জন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে মারা গেছেন ১০ জন। ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে মারা গেছেন আরও চারজন। এর আগে গত ২৬ জুলাই এক দিনে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল ডেঙ্গুতে।
এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ঢাকাতেই বেশি। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ঢাকায় মোট ৩৬ হাজার ৭২০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। ঢাকার বাইরে আক্রান্ত হয়েছেন ৩২ হাজার ৭৬৩ জন। সব মিলিয়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৬৯ হাজার ৪৮৩ জন। এর মধ্যে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন দুই হাজার ৭৫১ জন।
আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে আক্রান্ত ১৭ হাজার ৬৫১ জনের মধ্যে ১০ হাজার ১৩১ জন ঢাকার বাইরের। একই সময়ে ঢাকায় আক্রান্ত হয়েছেন সাত হাজার ৫২০ জন।
ঢাকা শহরে এবং ঢাকা শহরের বাইরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য নিয়মিতভাবে প্রকাশ করে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম। এই কন্ট্রোল রুমের (নিয়ন্ত্রণকক্ষ) তথ্য বলছে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যু বেশি হচ্ছে ২১ থেকে ২৫ বছর বয়সী মানুষেরা। চলতি বছরে আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে এই বয়সীর হার ১৬ শতাংশ। আবার যারা মারা গেছেন, তাদেরও ১০ শতাংশ এই বয়সী।
এ বছর ডেঙ্গুতে পুরুষেরা বেশি আক্রান্ত হলেও মারা যাচ্ছেন বেশি নারীরা। চলতি বছর এখন পর্যন্ত মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১৮৪ জনই নারী। পুরুষ মারা গেছেন ১৪৩ জন।
মাসের হিসাবে এ বছর ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে গত জুলাইয়ে, ২০৪ জন। আর চলতি আগস্ট মাসের প্রথম সাত দিনে মারা গেছেন ৭৬ জন।
এর আগে ২০১৯ সালে দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় ১৭৯ জনের। ২০২০ সালে মারা যান সাত জন এবং ২০২১ সালে ১০৫ জনের মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন <> ডেঙ্গুতে মৃত্যুর মিছিলে যোগ হলো ১৪, ঢাকাতেই ১০ জন
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, এডিস মশার নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা জটিল। বহুতল ভবনে সিটি করপোরেশনের একজন মশককর্মীর জন্য প্রবেশ করা কঠিন। নগরবাসীকে সম্পৃক্ত না করতে পারলে এবার ডেঙ্গু পরিস্থিতি সামাল দেয়া মুশকিল। ডেঙ্গুর হটস্পটগুলোকে (বেশি সংক্রমণ এমন এলাকা) আলাদা গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষ করে হটস্পটগুলোতে উড়ন্ত মশা মারতে ব্যবস্থা নিতে হবে।
ঢাকা উত্তরের উপপ্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোস্তফা সারওয়ার বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের মশকনিধনে আমার কাজে আমি সন্তুষ্ট না। সিটি করপোরেশন জনসচেতনতা বাড়াতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে।’
ঢাকা দক্ষিণের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ফজলে শামসুল কবির বলেন, আমরা মশকনিধন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।
খ্যাতিমান মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেছেন, চলতি বছর আক্রান্ত ও মৃত্যুর যে হিসাব আসছে, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি। অনেকের ঘরেই জ্বরের রোগী আছে, চিকিৎসা নিচ্ছে না। ঘরে থেকেই ভালো হয়ে যাচ্ছে। সেগুলোতো রিপোর্টে আসে না। এভাবে যদি বাড়তে থাকে অবস্থা আগামী এক থেকে দুই মাসে আরও খারাপের দিকে যাবে। যত আক্রান্ত হবে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সোমবার বলেন, যেহেতু প্রতিটি জেলায় আমরা ডেঙ্গু রোগী পাচ্ছি। তার মানে সব জেলায় এডিস মশা আছে। কাজেই এখন সারাদেশে মশা নিধন কার্যক্রম হওয়া উচিত। শুধুমাত্র এই মৌসুমে নয়, সারাবছরই মশা নিধন কার্যক্রম চলমান থাকা প্রয়োজন। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কারও একার পক্ষে সম্ভব না। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে।
আপন দেশ/আরএ





































