Apan Desh | আপন দেশ

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ০৯:২০, ১০ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ০৯:২৫, ১০ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস আজ

ফাইল ছবি

আজ ১০ অক্টোবর (শনিবার), বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দ থেকে প্রতি বছর এদিনে দিবসটি পালন করা হয়। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও নানা আয়োজনে পালিত হবে দিবসটি। এ বছরে দিবসটির প্রতিপ্রাদ্য- ‘বাস্তব অভিজ্ঞতা শোনা: আসল কণ্ঠস্বর, প্রকৃত পরিবর্তন’।

বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভুগছেন। জাতীয় জরিপগুলোতে দেখা যায়, প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি পাঁচজনের প্রায় একজন কোনো না কোনো ধরনের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত। অথচ তাদের অধিকাংশই কখনো সহায়তা পান না। গবেষণায় দেখা গেছে, চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে এ ব্যবধান ৯০ শতাংশেরও বেশি। অর্থাৎ, যাঁদের শনাক্তযোগ্য মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, তাদের বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ কোনো চিকিৎসা বা সেবা পান না। ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা মূলত শহরাঞ্চলের হাসপাতালগুলোতেই সীমাবদ্ধ ছিল।

বিষণ্নতা, উদ্বেগ, মাদকদ্রব্য ব্যবহারের সমস্যা এবং আত্মহত্যা এ বোঝাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। প্রতি বছর আত্মহত্যায় বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়; তরুণ ও নারীদের মধ্যে এর প্রভাব বিশেষভাবে লক্ষণীয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) হিসাব অনুযায়ী, ২০২১ সালে বাংলাদেশে আত্মহত্যায় ৪ হাজার ৭১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল, অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩ জন। একই সঙ্গে সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে, আত্মহত্যা প্রতিরোধযোগ্য।

প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছেন একজন মানুষ, একটি পরিবার এবং একটি সমাজ, যারা পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করছেন—প্রায়ই একাকী এবং নীরবে। এ সমস্যার অন্যতম বড় কারণ সামাজিক কলঙ্ক। অনেকেই এখনো মানসিক অসুস্থতাকে স্বাস্থ্যগত সমস্যা হিসেবে না দেখে দুর্বলতা বা ব্যক্তিগত ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচনা করেন। এর ফলে মানুষ সাহায্য চাইতে দ্বিধা করেন এবং পরিবারগুলোও খোলাখুলিভাবে এ বিষয়ে কথা বলতে পারে না। একই সঙ্গে যাদের মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাদেরও কী ধরনের সেবা দেয়া হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আলোচনার বাইরে রাখা হয়।

আরও পড়ুন<<>>বিশ্ব ডিম দিবস আজ 

বাংলাদেশ ইতোমধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে, যদিও সামনে এখনো দীর্ঘ পথ বাকি। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ মানসিক স্বাস্থ্য আইন প্রণয়ন করে, যার মাধ্যমে ১৯১২ সালের ঔপনিবেশিক আমলের আইনটি প্রতিস্থাপিত হয়। নতুন আইনটি মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের অধিকার, মর্যাদা ও সম্পত্তি সুরক্ষিত করে এবং মানসিক হাসপাতালগুলোর পরিচালনা ও তদারকির জন্য নিয়ম নির্ধারণ করে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্যনীতি এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য কৌশলগত পরিকল্পনা রয়েছে। সারা দেশে কীভাবে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, জনবল নিয়োগ ও অর্থায়ন করা হবে, এসব নথি সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেয়।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, মানসিক রোগ দুই ধরনের। এর মধ্যে গুরুতর হলো সিজোফ্রেনিয়া, বাইপোলার মুড ডিজঅর্ডার, ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশতা, আলঝেইমারস। আর সাধারণ মানসিক সমস্যার মধ্যে রয়েছে দুশ্চিন্তা, অনিদ্রা, শুচিবায়ু, ফোবিয়া বা ভীতি ও বিষণ্নতায় ভোগা। বাইপোলার ডিজঅর্ডার দীর্ঘমেয়াদি মানসিক সমস্যা। ওষুধ বা চিকিৎসার মাধ্যমে রোগটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, তবে রোগী পুরোপুরি সুস্থ হয় না।

আপন দেশ/জেডআই

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়