Apan Desh | আপন দেশ

‘বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কাজ করতে চায় চীন’

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৪:৪৯, ২৭ আগস্ট ২০২৬

‘বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কাজ করতে চায় চীন’

ছবি : আপন দেশ

বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় চীন কাজ করতে চায় বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

তিনি বলেছেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে বাংলাদেশের এখনই সৌর বা নবায়নযোগ্য শক্তি বিকাশ করার উপযুক্ত সময়। এ সেক্টরে বাংলাদেশকে সহায়তা করবে চীন।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীনের সফরের মধ্য দিয়ে ২ দেশের মধ্যে সামগ্রিক সহযোগিতার ঐতিহাসিক ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ও রাজনৈতিক সম্পর্ক ঐতিহাসিক। চীন বাংলাদেশর পুরোনো বন্ধু। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানোর পাশাপাশি পারস্পরিক রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর চট্টগ্রামে চীনের বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ শুরু হয়েছে। আমরা মোংলা বন্দর প্রকল্প নিয়েও কাজ করছি। এ ছাড়া তিস্তা নদী প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে কাজ চলছে।

চীনের রাষ্ট্রদূত জানান, অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান নিয়েও কাজ চলছে। বিনামূল্যে বাংলাদেশি জনশক্তিকে দক্ষ করতে এবং তৃতীয় ভাষা (ম্যান্ডারিন) শেখাতে চীন তাদের বিশেষজ্ঞ পাঠিয়ে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তিনি বলেন, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প নিয়ে কথা বলেছি, যা বাংলাদেশে প্রথম এবং একমাত্র প্রকল্প। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় সবকিছু প্রস্তুত রয়েছে জেনে আমরা আনন্দিত। খুব শিগগিরই এটি উদ্বোধন করা হবে। ঢাকা শহরের উন্নয়নে সহায়তা করতে এটি একটি মডেল প্রকল্প হবে।

তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন, ভাষা শিক্ষা, দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরিতে সহায়তা অব্যাহত রাখবে চীন।

ইয়াও ওয়েন বলেন, ঢাকার বস্তি আধুনিকীকরণ প্রকল্প নিয়েও আমরা কাজ করছি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাছে বর্তমানে এটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত একটি বিষয়। এটি দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবিকার সঙ্গে সম্পর্কিত। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বস্তির মানুষদের আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন একটি শহরের পরিবেশে বসবাস ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়তা করতে চান।

আরও পড়ুন: ‘বস্তি আধুনিকায়নে ১০ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে চীন’

চীনা রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে এই প্রকল্পের প্রস্তাব চীনের সঙ্গে শেয়ার করেছে এবং চীনের সহযোগিতা চেয়েছে। যেহেতু এটি দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন সংক্রান্ত একটি প্রকল্প, তাই চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতার ক্ষেত্রে এটি সর্বোচ্চ প্রাধান্য পাবে।

এসময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও সচিব মো. শহিদুল হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আপন দেশ/এনএম

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়