গভর্নর মোস্তাকুর রহমান
ইসলামী ব্যাংককে এখন পর্যন্ত ১৩ হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের ঘোষিত মুদ্রানীতি অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।
গভর্নর বলেন, ইসলামী ব্যাংকের বিষয়টি এখন ব্যাংক কোম্পানি আইনের ধারা-টারার বাইরে চলে গেছে। একটু সময় দেন, ঠিক হয়ে যাবে।
গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকে খুরশীদ আলমকে চেয়ারম্যান করে নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর পরই আন্দোলন করে আসছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। আন্দোলনের মুখে ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমসহ সকল স্বতন্ত্র পরিচালকদের নিয়োগ বাতিল করা হয়। এরপর রোববার (১৪ জুন) এক সদস্যর পর্ষদ গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে চেয়ারম্যান ও আশ্রাফুল আলমকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়ে ইসলামী ব্যাংক দেখভাল করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
আরও পড়ুন<<>>বিদেশি ঋণের শর্ত সংসদে প্রকাশের দাবি
এর মাঝে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের ঘটনায় তারল্য সংকটে পড়ে ইসলামী ব্যাংক। সে ধাক্কা সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ধার দিয়ে আসছে ব্যাংকটিকে।
তারল্যসহ অন্যান্য সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, ইসলামী ব্যাংকে এখন পর্যন্ত ১৩ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দেয়া হয়েছে।
ছয় ব্যাংকের অস্বাভাবিক ঋণ গোপন
বেসরকারি ছয়টি ব্যাংকে গত ২৩, ২৪ ও ২৫ জুন ছয়টি দল বিশেষ পরিদর্শন করেছে তথ্য তুলে ধরে গভর্নর বলেন, এ ছয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবহার নিয়ে অডিট করা হয়। সেখানে খুবই অস্বাভাবিকতা পাওয়া গেছে। অনেক ঋণের তথ্য গোপন করা হয়। খেলাপীতেও একই অবস্থা। এছাড়া আইটিও অডিট করা হয়।
তবে সংবাদ সম্মেলনে এ ছয় ব্যাংকের নাম প্রকাশ করেননি গভর্নর।
সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি হলেও নানাভাবে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকার প্রবাহ বাড়ানো হচেছ্। সবশেষ ঋণের সুদহার কমিয়ে আনতে ৪ শতাংশ স্প্রেড ঘোষণা করা হয় আমানত ও সুদ হারের মধ্যে।
এমন প্রেক্ষাপটে মূল্যস্ফীতি কিভাবে কমবে সে প্রশ্নে হাবিবুর রহমান বলেন, ইনফ্লেশনের দুইটা ফ্যাক্টর আছে। একটা ডিমান্ড সাইড ফ্যাক্টর, আরেকটা সাপ্লাই সাইড ফ্যাক্টর। ডিমান্ড সাইড ফ্যাক্টরে যদি আমরা বেশি টাকা এভেলেবল করি তখন ডিমান্ড বাড়বে। ফলে ইনফ্লেশনকে এটা উসকে দিবে। সো ডিমান্ড সাইড ফ্যাক্টরের যে উসকে দেয়ার প্রবণতাকে আমরা প্রশমিত করার জন্য আমাদের পলিসি রেটটাকে হাই রেখেছি। সাধারণত যে তহবিলটার চাহিদা থাকে তার সুদ খরচ বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি স্টিমুলাস প্যাকেজ ও অন্যান্য যে লিকুইডিটি ইনজেকশন(তারল্য বাড়ানো) হচ্ছে, আমরা মনে করি টাকাটা যাবে প্রোডাকশনে (উৎপাদনে)।
চার শতাংশ স্প্রেডের কারণে সুদহার কমে যেতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ স্টিমুলাস প্যাকেজের (প্রণোদনার ঋণ) ব্যাংক রেটে যেটা দেয়া হবে, সেটা কিন্তু অনেকটাই সহায়ক রেট। সেটা প্রোডাকশন কস্টকে কমাবে, পাশাপাশি প্রোডাকশনকে বাড়ানোর ব্যাপারে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। আমাদের ইনফ্লেশন ফাইট (মূল্যস্ফীতি মোকাবেলা) করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে পুনরুজ্জীবিত করার ব্যাপারে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
মেঘনা গ্রুপের বৈদেশিক মুদ্রার আয় সেভাবে না থাকলেও বিদেশি মুদ্রায় ৮ কোটি ডলার ঋণ দেয়ার নীতি নিয়ে প্রশ্নে উঠলে গভর্নর বলেন, আমাদের রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলার পার করেছে। আরও বাড়বে। এখন আমরা স্থিতিশীল আছি। আমরা বিদেশি ঋণ পাওয়া আরও সহজ করব। বিশেষ করে বিদেশি কোম্পানিগুলো কোনো আগাম অনুমতি ছাড়াই ঋণ নিতে পারবে বিদেশি মুদ্রায়।
সিটি গ্রুপের বড় ঋণ নিয়ে ২৯ ব্যাংক সমস্যায় আছে প্রশ্নে গভর্নর বলেন, তাদের ২৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ আছে ২৯ ব্যাংকে। সমস্যা সমাধানে তিনটি লিডিংকের এমডিকে বসেছিলাম। আমরা ফ্যাসিলেটেড(সহযোগিতা) করব। কিছু সল্যুশন (সমাধান) তৈরি করার চেষ্টা করছেন, উনারা কিছু সলিউশন বের করেছেন। আমার মনে হয় যে নেক্সট থ্রি মান্থের(আগামী তিন মাসের) মধ্যে এগুলো এক্সিকিউশনে(বাস্তবায়নে) গেলে সিটি গ্রুপ হয়তো প্রবলেম(সমস্যা) থেকে বের হয়ে আসতে পারবে।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































