Apan Desh | আপন দেশ

নিত্যপণ্যের বাজার চড়া, চাপে সীমিত আয়ের মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ১২:৩৬, ২৬ জুন ২০২৬

নিত্যপণ্যের বাজার চড়া, চাপে সীমিত আয়ের মানুষ

ছবি: আপন দেশ

প্রকৃতিতে এখন আষাঢ় মাস। সে অনুযায়ী চলছে বর্ষা কাল। অসহনীয় গরমের পাশাপাশি হঠাৎ বৃষ্টিতে তৈরি হয় জলাবদ্ধতা। এ সুযোগে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা অতি মুনাফার লোভে দাম বাড়িয়ে দেন। যদিও গ্রীষ্মকালীন সবজিতে ভরপুর রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলো। রয়েছে পর্যাপ্ত সরবরাহ। তবুও নাগালের মধ্যে নেই দাম। নিত্যপণ্যের দাম বেশি থাকায় এখনো স্বস্তি ফেরেনি। মাছ, মুরগি ও সবজির উচ্চমূল্যে চাপে রয়েছেন সীমিত আয়ের মানুষ।

সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। 

ব্যবসায়ীদের দাবি, পাইকারি বাজারে দাম না কমায় খুচরা বাজারেও স্বস্তি ফেরানো সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একই উচ্চমূল্যের বাজারে সংসার চালানো দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।
 
রাজধানীর মুগদা কাঁচাবাজে গিয়ে দেখা গেছে দেশি জাতের শসা ৬০ টাকা কেজি ও হাইব্রিড শসা ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কেটে রাখা প্রতি ফালি মিষ্টি কুমড়া বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকাতে। চিচিঙ্গা প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছিল ৫০ টাকায়। ঝিঙার দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। 

কাঁকরোল বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি। বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৩০ টাকা ও পটল ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে বেগুনের দাম ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। লম্বা ও গোল বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের দাম ফের বাড়তে শুরু করেছে। শুক্রবার ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গেল সপ্তাহে ছিল ১২০ টাকা। তার আগের সপ্তাহে ৮০ থেকে ১০০ টাকাতেও মিলেছে।

বাজারে আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়; পেঁয়াজ মিলছে গেল সপ্তাহের মতো ৪০ থেকে ৪৫ টাকাতে। তবে ডিমের দামও কমতে শুরু করেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে লাল ও সাদা ডিম কমেছে ডজনে ১০ টাকা। বাজারে খামারের প্রতিডজন লাল ডিম ১২০ টাকা ও সাদা ডিম ১১০ টাকায় বিক্রি হয়। আগের সপ্তাহে প্রতি ডজন লাল ডিম ছিল ১৩০ টাকা।

আরও পড়ুন<<>>আজ কত দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ

বাজারে ব্রয়লার মুরগির কেজি গেল সপ্তাহের মতো ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালী জাতের মুরগির দাম কেজিতে ৪০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। বাজারে এ জাতের মুরগি ৩৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।

প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও এদিন বাজারে ৭৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। দুই সপ্তাহ আগে বাজারে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছিল ৮৫০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া আগের সপ্তাহের মতোই আছে ছাগলের মাংসের দাম। এদিন খাসির এক কেজি মাংস বিক্রি হচ্ছিল ১৩০০ টাকায়। ১২০০ টাকা ছিল বকরির মাংসের কেজি।

মাছের বাজারও চড়া। আকারভেদে ইলিশ মাছ কেজিপ্রতি ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। পাঙ্গাস মাছ কেজিপ্রতি ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে বড় রুই ৩ থেকে ৩৫০ টাকা, মাঝারি রুই ২৫০ থেকে ২৭০ টাকা, কাতলা আকারভেদে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, পাবদা আকারভেদে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, গলদা চিংড়ি ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা এবং শিং মাছ ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া ছোট কাঁচকি মাছ ৩০০ টাকা এবং মলা মাছ ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি পর্যায়েও সামুদ্রিক মাছের দাম তুলনামূলক বেশি। বড় সাইজের সুরমা মাছ ৩০০ টাকা, রুপচাঁদা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, লাল কোরাল ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং বাটা মাছ ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) সর্বশেষ তথ্যেও নিত্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর খুচরা বাজারে মোটা চাল, খোলা সয়াবিন তেল, আমদানি করা রসুন, হলুদ, আদা, ব্রয়লার মুরগি, বেগুন, আলু, দেশি পেঁয়াজ, দেশি রসুন, কাঁচামরিচ ও শসার দাম বেড়েছে। অন্যদিকে বেশির ভাগ পণ্যের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

আপন দেশ/জেডআই

 

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement