ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ছয় গ্রামের অর্ধলক্ষ মানুষের চলাচলের সরকারি রাস্তা বন্ধ করে কোটি টাকা মূল্যের বাড়ি ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ ওঠেছে অহিদুর রহমান নামে এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে।
এ ছাড়াও বেমালীয়া নদীর একপাশে দেয়াল নির্মাণ করে নদী দখলের অভিযোগও আছে। এ নিয়ে এলাকায় বিরাজ করছে চরম উত্তেজনা। মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে বাড়ির মালিক ও চার গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা।
ঘটনাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামের।
জানা গেছে, ২০১৯ সালের আগষ্টে জেলা প্রশাসনের কাছে সরকারি রাস্তায় দেয়াল নির্মাণ বন্ধ করাসহ বেমালীয়া নদীর তীরে নির্মিত দেয়াল ভেঙ্গে জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক করতে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়। এলাকাবাসীর পক্ষে মো. সিরাজুল ইসলাম এ আবেদন জানান। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে তৎকালীন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিন এসে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণে নিষেধ করেন। কয়েক বছর বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি রাতের আধাঁরে ২০-৩০ জন শ্রমিক দিয়ে সরকারি রাস্তা বন্ধ করে একটি সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করেন অহিদুর রহমান।
আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাটির নিচে বিকট বিস্ফোরণ
শুক্রবার (৪ আগস্ট) সকালে সরেজমিন গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, রতনপুর, পশ্চিমপাড়া, পতুইর, আনন্দপাড়া, পালহাটি ও পূর্বপাড়া এলাকার ৭১২ দাগের রাস্তার উপর স্থানীয়দের চলাচল বন্ধ করে ১০ ফুট উচ্চতার একটি সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ছয় গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। রাস্তা না থাকায় বেমালীয়া নদীর পাড় দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। কিন্তু নদীর পাড়ের অংশ অহিদুর রহমানের ছোট ভাই সাদেক মিয়ার নামে বন্দোবস্ত নেয়ায় সে জায়গাটিও যে কোন সময় বন্ধ করে দিতে পারেন অহিদুর রহমান।
রতনপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. জহিরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, নাসিরনগর এলাকায় বেমালীয়া নদীর পাড় ঘেঁষে ১০ শতক ভূমি বন্দোবস্ত দেয় সাদেক মিয়াকে। নদীর পাড় এবং বিত্তবানদের কোন ভূমি বন্দোবস্ত না দিতে এমপি’র নিষেধ থাকা সত্বের মোটা অংকের লেনদেনের মাধ্যমে সাদেক মিয়া রতনপুর মৌজার ১ নং খতিয়ানের ৭১২ নং দাগের ১০ শতক জায়গা বন্দোবস্ত নিয়ে দখল করে রেখেছেন ১৫ শতক। নাম সাদেক মিয়ার হলেও ভোগদখল করছেন তার বড় ভাই অহিদুর রহমান।
পতুইর গ্রামের হোসেন মিয়া বলেন, আমাদের সরকারি রাস্তা বন্ধ করে দিছে অহিদুর রহমান। রাস্তা ফিরে পেতে যা করা দরকার সবই আমরা করব।
মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, অহিদুর রহমান ও সাদেক মিয়া আপন ভাই। তারা ধনাঢ্য ও বিত্তশালী। অনেক সম্পত্তির মালিক। তার পরও প্রশাসনকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভূমিহীন না হয়েও ভূমিহীনের জায়গা পেয়েছে। এছাড়াও রাতের আধারে বড় কর্তাদের ম্যানেজ করে সরকারি জায়গা দখল করে সীমানাপ্রাচীর ও কোটি টাকা খরচ করে বাড়ি নির্মাণ করছে। রাস্তা মুক্ত না হলে এলাকায় রক্ত ঝরবে।
তবে রাস্তার উপর দেয়াল নির্মাণের কথা স্বীকার করে অহিদুর রহমান আপন দেশকে বলেন, কিছু সরকারি জায়গা পরতে পারে, তবে স্থানীয়দের চলাচলের জন্য বাড়ির ভেতর দিয়ে তো রাস্তা দিয়েছি। আমার বাড়ির পর তো আর রাস্তা নেই। এ বিষয়ে প্রশাসন অবগত আছে।
আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাত্রদল আহ্বায়ককে নদীতে ফেললেন সাবেক নেতারা
চাতলপাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক মিয়া আপন দেশকে বলেন, শত বছর ধরে স্থানীয়রা সরকারি রাস্তাটি ব্যবহার করে আসছে। অহিদুর রহমান যে জায়গায় সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করেছে সেটা সরকারী রাস্তা। এ নিয়ে দুই পক্ষ মুখমোখি অবস্থানে রয়েছে। যে কোন সময় বড় ধরণের রক্ষপাতের মতো ঘটনা ঘটতে পারে। এ বিষয়ে একটি বিচার সালিশ হওয়ার কথা আছে।
চাতলপাড় ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মো. সোহরাব হোসেন বলেন, রাস্তা বন্দের বিষয়টি জেনেছি। উর্দ্ধতন কর্তপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোনাব্বর হোসেন আপন দেশকে বলেন, আমাদের কাছে মো. জহিরুল ইসলাম নামে একজন লিখিত আবেদন করেছেন সরকারি আমিন দিয়ে তাদের জায়ঘা মাপজোক করানোর জন্য। আমি সার্ভেয়ারকে পাঠিয়েছিলাম। প্রতিবেদন পেয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।
আপন দেশ/প্রতিনিধি/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































