Apan Desh | আপন দেশ

মান্দায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে অবরুদ্ধ প্রধান শিক্ষক

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ২০:০২, ৪ আগস্ট ২০২৬

মান্দায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে অবরুদ্ধ প্রধান শিক্ষক

ছবি: আপন দেশ

শিক্ষার্থীদের মারধর ও অশালীন আচরণের অভিযোগে নওগাঁর মান্দা উপজেলার একটি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।

এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের হস্তক্ষেপে প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়া হয়।

মঙ্গলবার (০৪ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে উপজেলার বিলবয়রা গয়েশিয়া উচ্চবিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত নানা সমস্যার সমাধান না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। অভিযোগ রয়েছে। শ্রেণিকক্ষগুলো জরাজীর্ণ; ছাউনির টিন ফুটো থাকায় বৃষ্টির সময় শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে। দরজা-জানালা না থাকায় সন্ধ্যার পর সেখানে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। এতে শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এসব বিষয়ে ব্যবস্থা না নিয়ে প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এসব সমস্যার প্রতিবাদ করায় সোমবার (০৩ আগস্ট) ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী কৃষ্ণ কুমার ও সপ্তম শ্রেণির সাজেদুল ইসলামকে মারধর করেন প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান। একই ঘটনার ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সপ্তম শ্রেণির রিফাত হোসেন ও আব্দুল্লাহকেও মারধর করা হয়। এতে আব্দুল্লাহ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। 

আরও পড়ুন<<>>বসতঘরে মিলল তিন জনের গলিত মরদেহ

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ছাত্রী অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক প্রায়ই তাদের সঙ্গে অশালীন ভাষায় কথা বলেন। কোন কারণ ছাড়াই শারীরিক শাস্তি দিতেন। এসব ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা তার অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে তাকে বিদ্যালয়ে অবরুদ্ধ করা হয়। এসময় তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে আগুন দেয়া হয়।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ফেরদৌস রহমান বলেন, প্রধান শিক্ষক মাঝেমধ্যেই শিক্ষার্থীদের মারধর করতেন। তার আচরণে বিরক্ত হয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে গেছে। বিদ্যালয়ের পরিবেশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ থেকেই এ ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষকদের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশের অভিযোগ, বিভিন্ন পদে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অবরুদ্ধ থাকায় এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যও জানা সম্ভব হয়নি।

খবর পেয়ে বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম আজম ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।

মান্দা থানার ওসি খোরশেদ আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়