ছবি: আপন দেশ
অপরাধ থেকে ফিরে এসে স্বাভাবিক ও আত্মনির্ভরশীল জীবন গড়ে তুলতে সাজাপ্রাপ্ত ও মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বাগেরহাটে সেলাই মেশিন, ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি ও শুকনো খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
রোববার (০২ আগস্ট) সকালে বাগেরহাট জেলা প্রবেশন অফিসারের কার্যালয়ে জেলা অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতির উদ্যোগে এসব বিতরণ করা হয়। এতে সহযোগিতা করে সমাজসেবা অধিদফতর ও বাগেরহাট জেলা কারাগার।
অনুষ্ঠানে চারজন উপকারভোগীর মধ্যে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি, চারটি সেলাই মেশিন এবং শুকনো খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। উপকারভোগীদের মধ্যে মোংলা উপজেলার জালাল শেখকে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি প্রদান করা হয়। এছাড়া কচুয়া উপজেলার মোছাম্মৎ আকলিমা বেগম, মোরেলগঞ্জ উপজেলার লাইলী বেগম এবং চিতলমারী উপজেলার আয়েশা আক্তার ও চম্পা রানী পালের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাগেরহাট জেলা কারাগারের জেলার মুহাম্মদ আবু সাদ্দাত। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রবেশন অফিসার শেখ সহিদুর রহমান। এ সময় বাগেরহাট প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবু সাঈদ শাওন, সাধারণ সম্পাদক হেদায়েত হোসেন লিটন, সমাজসেবা অধিদফতর, জেলা কারাগার ও সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন<<>>রাজশাহীতে শিশু শহীদদের স্মরণে ফুটবল টুর্নামেন্ট
বক্তারা বলেন, পুনর্বাসনের মাধ্যমে সাজাভোগ শেষে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা গেলে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যাবে। একই সঙ্গে তারা আত্মসম্মান বজায় রেখে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন।
উপকারভোগী জালাল শেখ বলেন, দীর্ঘ ২৩ বছর কারাভোগের পর মুক্তি পেয়েছি। জেলা কারাগারের পক্ষ থেকে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি পেয়েছি। এটি চালিয়ে সৎভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে পারব। এজন্য আমি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। আকলিমা বেগম বলেন, আমি ২৬ বছর কারাভোগ করেছি। একই মামলায় আমার স্বামীও কারাগারে ছিলেন। ২০০৬ সালে তিনি কারাগারেই মারা যান। কারাগারে থাকাকালে দর্জির কাজ শিখেছি। মুক্তির পর একটি সেলাই মেশিন পেয়েছি। এটি দিয়ে সৎভাবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারব।
বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন,পাপকে ঘৃণা করতে হবে, পাপীকে নয়। সাজাভোগ শেষে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে পুনর্বাসন কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে তাদের সেলাই মেশিন, ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি ও শুকনো খাদ্যসামগ্রী দেয়া হয়েছে। সমাজের সবাই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তাদের গ্রহণ করলে তারা নতুনভাবে জীবন শুরু করতে পারবেন। অপরাধ দমনে শুধু শাস্তি নয়, সামাজিক সচেতনতা ও মানবিক সহযোগিতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































