Apan Desh | আপন দেশ

আদিবাসী স্বীকৃতির দাবিকে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে পিসিসিপি স্মারকলিপি

রাঙামাটি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৪:১১, ১৮ মার্চ ২০২৫

আদিবাসী স্বীকৃতির দাবিকে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে পিসিসিপি স্মারকলিপি

ছবি: আপন দেশ

পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) রাঙামাটি জেলা শাখা  জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছে। তারা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের 'আদিবাসী' হিসেবে স্বীকৃতির দাবিকে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ বলে আখ্যা দেয়।

মঙ্গলবার  (১৮ মার্চ) সকালে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

এ সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) রাঙামাটি জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দিন নুহাশ, প্রচার সম্পাদক ইসমাঈল গাজী, দফতর সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম বাবু,  অর্থ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক সাজেদা বেগম, সহ-ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস বিথীসহ পৌর ও কলেজ শাখার পিসিসিপি'র নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

স্মারকলিপিত উল্লেখ করা হয়, আদিবাসী স্বীকৃতির দাবির আড়ালে দেশ ভাগের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামকে আলাদা রাষ্ট্র তথাকথিত 'জুমল্যান্ড' বানানোর জন্যই ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী দেশীয় ষড়যন্ত্রকারী কতিপয় কিছু স্বার্থান্বেষী মহল আদিবাসী স্বীকৃতির দাবি তুলে তা ব্যবহার করেই যাচ্ছে। 

বস্তুত কাক যেমন ময়ূরের পেখম লাগালে ময়ূর হয় না, তেমনি এদেশের ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী কখনো ‘আদিবাসী’ নয়। এদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে (রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি) ১১ টি ক্ষুদ্র উপজাতি (যেমন-চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, খুমি, বম, তংচংগা, লুসাই, চাক, পাংখোয়া, খেয়াং ও ম্রো) বাস করে। এছাড়াও সাঁওতাল, গারো, হাজং উপজাতি নেত্রকোনায়, গারো পাহাড়, ময়মনসিংহে, রাজশাহীর কিছু অঞ্চলে, সিলেটের জাফলং এ বসবাসরত খাসিয়া উপজাতি, মনিপুরীরা কমলগঞ্জ, লাওয়া ছড়া, মৌলভীবাজারে ও রাখাইনরা রামু, কক্সবাজার অঞ্চলে বসবাসরত রয়েছে। এসব উপজাতিরা আদিবাসী কিনা? এদের আদিবাসী স্বীকৃতি দিলে সমস্যা কোথায়? তা জানতে বিশদভাবে আদিবাসী ইস্যুটি আলোচনায় আনতে হবে। 

পার্বত্য চট্টগ্রামে ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বসবাসরত ক্ষুদ্র  নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর বসবাসের ইতিহাস ৩০০ বছরের নিচে। জাতিসংঘ কর্তৃক প্রণীত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০০৭ (আইএলও) কনভেনশনে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ‘সংজ্ঞা’ মতে আদিবাসী হতে হলে- নির্দিষ্ট স্থানে কয়েক হাজার বছর বসবাস করতে হবে, যাদের বসতি স্থাপনের বা যথাস্থানে বসবাসের সুনির্দিষ্ট ইতিহাস বিদ্যমান ও তাদের কথ্য ও লেখ্য ভাষা ভান্ডারে থাকতে হবে কমপক্ষে দেড় হাজার শব্দভাণ্ডার। বর্ণিত বিষয়গুলো থাকলেই জাতিসংঘের (আইএলও) কনভেনশন এর সংজ্ঞা মতে আদিবাসী জনগোষ্ঠী স্বীকৃত হবে না। 

আরও পড়ুন>>>রাঙ্গামাটিতে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু

তাদের সুনির্দিষ্ট ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, ব্যবসা-বাণিজ্য, জীবনযাত্রা, চালচলন ও খাদ্যাভ্যাস প্রভৃতি কিছুটা সংশ্লিষ্টদের থেকে আলাদা বিদ্যমান থাকতে হবে।

উল্লেখ্য যে, ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর তৎকালীন পার্বত্য চুক্তিতে উপজাতিরা ‘আদিবাসী’ হিসেবে দাবি না করে নিজেদের উপজাতি হিসেবে উল্লেখ করে চুক্তি স্বাক্ষরিত করেছিলো। 

আপন দেশ/এমবি

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়

শীর্ষ সংবাদ:

৬ দিন মহাসড়কে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান চলাচল বন্ধ মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করল ইরান সড়কে ঘরমুখো মানুষের চাপ, যানজট না থাকায় স্বস্তি বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ৩ বর্জ্য অপসারণে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারের নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর ঈদের দিন কালবৈশাখীর আভাস ঈদযাত্রায় বেশি ভাড়া নিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে : আইজিপি ঈদ বোনাস দিয়েছে ৯৭.৭৯ শতাংশ পোশাক কারখানা বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে হামলা ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথে একই পরিবারের ৩ জন নিহত সীমিত পরিসরে ব্যাংক কার্যক্রম চলছে আফগানিস্তানে হাসপাতালে পাকিস্তানের হামলা, নিহত ৪০০ ঈদযাত্রায় সব টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়েছে নিজেদের পুরো আকাশসীমা বন্ধ করল আমিরাত