ছবি : সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলা সর্বশেষ টেস্ট সিরিজে দুর্দান্ত সাফল্য পেয়েছে টাইগাররা। সে আত্মবিশ্বাস সঙ্গী করেই সংযুক্ত আরব আমিরাতে আরেকটি সাদা পোশাকের ম্যাচ খেলতে নামছে বাংলাদেশ দল। শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে মাঠে নামছে লাল সবুজ দল।
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় বাংলাদেশ এখন ৪ নম্বরে অবস্থান করছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদেরই কন্ডিশনে টেস্ট জিতে ইতিহাস গড়ে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। অজিদের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সে টেস্ট জয়ের পর স্বাভাবিকভাবেই আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে থাকার কথা বাংলাদেশের।
ম্যাচের আগের দিন বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) আবুধাবিতে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আমরা ভালো একটি সিরিজ খেলেছি, তবে আমি বিশ্বাস করি সেটি এখন অতীত। এটি নতুন কন্ডিশন, নতুন প্রতিপক্ষ- তাই পরিকল্পনাও সেভাবেই করতে হবে।
আবুধাবির কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বাংলাদেশ দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় আগেই আরব আমিরাতে পৌঁছান এবং একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেন। অধিনায়ক মনে করেন, এ অভিজ্ঞতা মূল ম্যাচে দলকে বাড়তি সুবিধা দেবে।
তিনি যোগ করেন, এখানকার কন্ডিশন নিশ্চিতভাবেই আলাদা। আমাদের কিছু খেলোয়াড় একটু আগে এসে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে, যা কন্ডিশনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সাহায্য করবে। আমি বিশ্বাস করি দলের সবাই প্রস্তুত এবং দ্রুতই প্রতিপক্ষ ও পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে।
আবুধাবির উইকেট দেখে ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো বলেই মনে হয়েছে শান্তর। তবে ধীরগতির হওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন তিনি, উইকেট গতকালকে একটু দেখার সুযোগ হয়েছে, আজকে আরেকবার একটু দেখব। দেখে ভালো মনে হয়েছে, হয়তো একটু স্লো থাকতে পারে। বাট আমার মনে হয় যে ব্যাটিংয়ের জন্যে ভালো হবে। আশা করছি যে খুব ভালো একটা টেস্ট ম্যাচই হবে।
আরও পড়ুন<<<>>>ঐতিহাসিক সিরিজ খেলতে মাঠে নামছে বাংলাদেশ
গত কয়েক বছরে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের উন্নতিও তুলে ধরেছেন শান্ত। তার মতে, এ সংস্করণে আরও ধারাবাহিক হতে এখনও অনেক জায়গায় উন্নতির প্রয়োজন, লাস্ট কয়েক বছর আমরা ভালো ক্রিকেট খেলছি, বিশেষ করে এ ফরম্যাটে। তবে আমাদের স্কিল আরও উন্নত করতে হবে, ভিন্ন প্রতিপক্ষ ও ভিন্ন কন্ডিশনে খেলতে হবে। আমাদের এখনও অনেক কাজ করতে হবে এবং ধারাবাহিক হতে হবে।
এদিকে আবুধাবির দ্রুততম আউটফিল্ড এবং ম্যাচের প্রথম কয়েক দিনের উইকেট কন্ডিশন বিবেচনা করে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট একাদশে কৌশলী পরিবর্তনের পথে হাঁটতে পারে। প্রথাগত ডানহাতি-বাঁহাতি ওপেনিং জুটির ধারায় বিরতি দিয়ে তানজিদ হাসান তামিমের সঙ্গে আক্রমণাত্মক ব্যাটার সৌম্য সরকারকে ওপেনিংয়ে আনার জোর আলোচনা চলছে।
তিনে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে মিডল অর্ডারে অভিজ্ঞতার ঘাটতি মেটাতে মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিমের ওপর নজর থাকবে সবচেয়ে বেশি। চোট ও রানখরা কাটিয়ে ফেরা উইকেটরক্ষক-ব্যাটার লিটন দাসের জন্য এ ইনিংসটি ফর্মে ফেরার বড় পরীক্ষা। তবে টানা ভালো পারফর্ম করা সত্ত্বেও তরুণ তাওহীদ হৃদয়কে অপেক্ষা করতে হচ্ছে ডাগআউটে।
আবুধাবির তীব্র গরম ও দীর্ঘ পাঁচ দিনের বোলিং ধকল সামলাতে দুই স্পিনারের সঙ্গে তিন পেসার নিয়ে মাঠে নামছে টাইগাররা। স্পিন বিভাগে অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ ও বাঁহাতি তাইজুল ইসলামের জুটিই হবে বাংলাদেশের মূল আক্রমণ। আর পেসার হাসান মাহমুদ, শরিফুল ইসলাম ও এবাদত হোসেনের দীর্ঘ স্পেল করার ক্ষমতা পেস বিভাগকে ভারসাম্য দেবে।
বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ: তানজিদ হাসান, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস (উইকেটকিপার), মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ, শরিফুল ইসলাম ও এবাদত হোসেন।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































