ছবি সংগৃহীত
নবাগত, বর্তমান ও সাবেক চ্যাম্পিয়নদের দুর্দান্ত লড়াইয়ে ঘটন-অঘটনের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের খেলা। প্রথমবার ৪৮ দলের টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে ১৬টি দল। আর ১২ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ ২৪ দলের সঙ্গে সেরা আটটি তৃতীয় স্থান অধিকারী দল জায়গা করে নিয়েছে শেষ বত্রিশে।
এরইমধ্যে শুরু হয়ে গেছে নকআউট পর্বের লড়াই। বাঁচা-মরার লড়াইয়ের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ইতিহাস গড়ে প্রথমবার শেষ ষোলোর টিকেট নিশ্চিত করেছে কানাডা। এবার ম্যাচে এশিয়ার পরাশক্তি জাপানের বিপক্ষে মাঠে নামছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। বাংলাদেশ সময় সোমবার (২৯ জুন) রাত ১১টায় হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে শুরু হবে হাইভোল্টেজ এ ম্যাচ।
গুরুত্বপূর্ণ এ ম্যাচে কার্লো আনচেলত্তির দল পাচ্ছে না তাদের অন্যতম প্রধান তারকা রাফিনিয়াকে। উরুর চোটের কারণে দলের সঙ্গে হিউস্টনে যাননি বার্সেলোনার এ ফরোয়ার্ড; পুনর্বাসনের জন্য তিনি থেকে গেছেন নিউজার্সির বেস ক্যাম্পে। তবে দলের অন্যতম সেরা তারকা নেইমার খেলবেন গুরুত্বপূর্ণ এ ম্যাচে।
শুরুটা ভাল না করতে পারলেও পরের দুই ম্যাচে শক্তি দেখিয়ে রাউন্ড অব বত্রিশে জায়গা করে নিয়েছে ব্রাজিল। অপরদিকে যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে বত্রিশে জায়গা করে নিয়েছে সূর্যদয়ের দেশ জাপানও। এরইমধ্যে ব্রাজিলকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন জাপানের কোচ হাজেমি মোরিয়াসু। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গতি, ম্যাথেউস কুনিয়ার আক্রমণ আর নেইমারের সৃজনশীলতা থামানোর নতুন ছক কসেছেন তিনি।
জাপানের ফুটবল দর্শন অন্যদের থেকে আলাদা। তারা অযথা বলের দখল ধরে রাখতে চায় না। বরং প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে মুহূর্তের মধ্যেই পাল্টা আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়াই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি ।
আরও পড়ুন<<>>ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলার মানুষের পাশে নেইমার
দাইচি কামাদা, ওয়াতারু এন্দো কিংবা কেইতো নাকামুরারা ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে এগোনোর চেয়ে দ্রুত ওয়ান টাচ পাস আর নিখুঁত টাইমিংয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণে ফাঁক তৈরি করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। আর সামনে ফের্ডের স্ট্রাইকার আয়াসে উয়েদার বুদ্ধিদীপ্ত অফ দ্য বল রান ডিফেন্ডারদের অবস্থান ভেঙে দিয়ে তৈরি করছে গোলের সুযোগ। শুধু পরিকল্পনাই নয়, ম্যাচের গতিপ্রকৃতি বদলালে মুহূর্তেই নিজের কৌশলও বদলে ফেলেন মোরিয়াসু।
কাগজে কলমে ব্রাজিলই হয়তো এগিয়ে। ইতিহাস, তারকা আর অভিজ্ঞতায়ও সেলেসাওদের পাল্লা ভারী। কিন্তু আধুনিক ফুটবল বারবার দেখিয়েছে, শুধু বড় নাম দিয়ে ম্যাচ জেতা যায় না। সঠিক পরিকল্পনা, নিখুঁত বাস্তবায়ন আর শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল দিয়ে যেকোনো পরাশক্তিকেই চাপে ফেলা সম্ভব।
এদিকে আসরের ‘ফেভারিট'দের একটি হলেও, ব্রাজিলের আক্রমণভাগ নিয়ে কিছুটা প্রশ্ন রয়েই গেছে। চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরা নেইমার এখনও হয়ে আছেন নিজের ছায়া। ভিনিসউস ও কুইয়া এখন পর্যন্ত মেটাচ্ছেন দলের গোলের দাবি। ১৯ বছর বয়সী হায়ান অবশ্য উইংয়ে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন স্কটল্যান্ড ম্যাচে।
প্রথমবার শুরুর একাদশে জায়গা পেয়ে, সপ্তম মিনিটে দলকে এগিয়ে নেয়া ভিনিসিউসের গোলে অবদান রাখেন তিনি। পেলের পর ব্রাজিলের হয়ে সবচেয়ে কম বয়সে বিশ্বকাপে অ্যাসিস্ট করার কীর্তি এখন তার। ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে ১৭ বছর বয়সে সতীর্থের গোলে অবদান রেখেছিলেন পেলে। সামনের পথচলায় দল নিয়ে আশাবাদী হায়ান।
তিনি বলেন, মাঠে যেই নামুক, ব্রাজিলের মানের হেরফের হবে না একটুও। মানসম্পন্ন খেলোয়াড়দের নিয়ে আমাদের দলটা খুবই শক্তিশালী। কেউ যদি মাঠে নামে এবং কেউ যদি উঠে যায়, আমি মনে করি, আমরা একই মানের দল থাকব। যদি আমি মাঠ থেকে উঠে যাই, এন্দ্রিক নামবে কিংবা নেইমার নামবে। ম্যাচের নির্দিষ্ট মুহূর্ত অনুযায়ী আনচেলত্তি সেরা খেলোয়াড় বেছে নিচ্ছেন খেলানোর জন্য এবং আমি মনে করি, এটা ভালোভাবে কাজ করছে। যে পথটা আমরা ভালোভাবে অনুসরণ করে আসছি, সে পথেই ছুটব।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































