ছবি: আপন দেশ
কেবল শিক্ষা নয়, তারুণ্যের শক্তি শিক্ষার সাথে আবাসনসংকট থেকে শুরু করে মূল্যবৃদ্ধি, দুর্নীতি এবং সর্বোপরি রাজনৈতিক জবাবদিহির দাবিতে দেশেকে দেশ তোলপাড় করে দিচ্ছে তরুণরা। নেপাল, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, ভারত মাড়িয়ে এশিয় অঞ্চল ছাড়িয়ে সেই তেজ ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অব্যবস্থাপনা, কর্মসংস্থানের সংকট, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, দুর্নীতি, আবাসন সংকট এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে নিজেদের কথা গুরুত্ব না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে রাস্তায় নামছে জেন-জি প্রজন্ম। কোথাও বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে, আবার কোথাও তীব্র আন্দোলনে নিশ্চিত করছে রাজনৈতিক পরিবর্তন।
বাংলাদেশে ২০২৪ সালে এবং নেপালে ২০২৫ সালে তরুণদের নেতৃত্বে আন্দোলনের পর চলতি বছর ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও জেন-জির বিক্ষোভ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্যারিসের উপকণ্ঠ থেকে সার্বিয়ার বেলগ্রেড, ইতালির মিলান থেকে আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানাসহ বিভিন্ন শহরে হাজারো তরুণের বিক্ষোভ দেশগুলোতে চমকের জন্ম দিয়েছে। তাদের মন্তব্য-বক্তব্যসহ আন্দোলনের ভাষায় অভিনবত্ব। ভিন্ন এক স্টাইল। বাংলাদেশের মানুষ যা বিশেষভাবে দেখেছে চব্বিশের জুলাই-আগস্টের ৩৬ দিনে। মূলত জেন-জি এমন একটি শব্দবন্ধ, যার সঙ্গে আগে আমাদের কোন পরিচয় ছিল না। কেবল নাইন্টিজ কিড বা নব্বইয়ের শিশু-কিশোর বলে একটি পরিচয়ের গণ্ডিতে একটি প্রজন্মকে পৃথক করা যেত।
বর্তমানে এই প্রজন্মের সদস্যদের বয়স ১২ থেকে ২৭ বছর। এই প্রজন্মের বৈশিষ্ট্য, ভালো দিক, মন্দ দিক নিয়ে অনেক কথা হয়, অনেক গবেষণা ও আলাপও হয়। এদের কমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। জেন জি হলো একটি সমাজবিজ্ঞানভিত্তিক প্রজন্মগত শ্রেণিবিন্যাস। ভয় পায় না বলে তাদের অন্য নাম অভয় প্রজন্ম। সাধারণত ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া তারুণ্যকে বোঝায়। বাংলাদেশে এই প্রজন্মের প্রতিনিধিরা এখন তরুণ ভোটার, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, নতুন চাকরিপ্রার্থী কিংবা উদ্যোক্তা। এরা ইন্টারনেট-নেটিভ, সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় এবং বৈশ্বিক বিষয়ে অধিক সচেতন। কেবল বাংলাদেশ নয়, প্রায় সব দেশেই রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশ পরিচালনার কঠিন দায়িত্বও তাদের সামনে এসেছে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও তাদের প্রার্থীদের সরকার হটানোর অভিজ্ঞতা থাকলেও মাঠের রাজনীতি ও প্রশাসন পরিচালনার অভিজ্ঞতা নেই। বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভারতের তরুণদের বিক্ষোভের পর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে একই অবস্থা। আন্দোলনগুলোর দাবিতে দেশভেদে পার্থক্য থাকলেও কয়েকটি বিষয়ে মিল রয়েছে-শিক্ষার মান, কর্মসংস্থান, জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে তরুণদের অংশগ্রহণ। অনেকের কাছে সমস্যা শুধু অর্থনৈতিক নয়; নিজেদের কথা শোনা হচ্ছে না এবং ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ সীমিত হয়ে আসছে-এমন অনুভূতিও ক্ষোভ বাড়াচ্ছে। এরা জন্ম থেকেই ইন্টারনেট, স্মার্টফোন, সোশ্যাল মিডিয়া ইত্যাদির মাঝে বড় হয়েছে। প্রযুক্তি এদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক- এসব মাধ্যমে এদের জীবনের বড় সময় কাটে। তথ্য গ্রহণ ও প্রকাশ—দুটিই এরা এ মাধ্যমেই বেশি করে। এদের নিয়ে বড়দের অনেক ধরণের অভিযোগ থাকলেও তারা ঠিকই তাদের জায়গায় অটুট। সামাজিক বিচার, জলবায়ু পরিবর্তন, লিঙ্গবৈষম্য, বর্ণবাদ ইত্যাদি বিষয়ে এরা সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চায়। স্বাধীনতা চায় নিজের পছন্দ-অপছন্দ, যৌন পরিচয়, ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক পরিচয়ে।
বাংলাদেশে যারা প্রায় ২০০০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছে, তারা মূলত জেন জি। অর্থাৎ, ২০২৫ সালে তারা প্রায় ১৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী। তারা এখন এমন এক মোহনার দিকে যাচ্ছে, যেখানে তাদের হাতেই আছে ভবিষ্যতের সমাজ, প্রযুক্তি, রাজনীতি এবং সংস্কৃতি পুনর্গঠনের ক্ষমতা। কিন্তু, রাজনীতির মাঠে কুলাতে পারছে না। এর নানা কারণও বিদ্যমান। প্রেক্ষিতও কিছুটা ভিন্ন। চব্বিশের ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত চলা জুলাই বিপ্লব মূলত ছিল বেতনভিত্তিক ৩০% সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহালের দাবিতে শুরু হওয়া শান্তিপূর্ণ আন্দোলন। সরকারের পক্ষ থেকে ইন্টারনেট বন্ধের আদেশ, কারফিউ, হামলা এবং ছাত্র হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করে। পুলিশ ও RAB-এর হাতে মারা যায় অনেক। যেটি পরে জুলাই গণহত্যা নামে পরিচিতি পায়। এই পরিস্থিতিতে সামরিক-পুলিশ বাহিনী, মধ্যবিত্ত ও নাগরিক সমাজের সচেতন অংশ আন্দোলনে শরীক হয় এবং শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতা ছেড়ে চলে যান।
২০০৯ সাল থেকে টানা ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য প্রশংসিত হলেও সময়ের সাথে সাথে মানবাধিকার হ্রাস, বাক-স্বাধীনতার সংকোচন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও নির্বাচনব্যবস্থার প্রশ্নবিদ্ধতার জন্ম দিয়েছিল। রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও সেন্সরশিপ তারা একেবারেই পছন্দ করেনি। ২০২০–২১ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ভূমিকায় ছিল তারা। তাছাড়া চাকরি সংকট ও শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতায় ক্ষতিগ্রস্ত জেন জি প্রজন্ম। জেনারেশন জি-এর কিশোর-কিশোরীরা পুর্ববর্তী প্রজন্মগুলোর তুলনায় একাডেমিক পারফরম্যান্স এবং চাকরির সুযোগ নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। মেধাবীরা বিদেশে চলে যেতে চায়, যা রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা বলে তারা গন্য করেছে। এই সুযোগে প্রবাসী বাঙালিরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক হিউম্যান রাইটস গ্রুপে সরব হয়ে পড়ে। তারা পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে বাংলাদেশের সরকারের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ২০১৮ সালে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে জেন জি সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিল।
ভবিষ্যতের রাজনৈতিক অস্থিরতার ক্ষেত্রে এরা যে বড় ভূমিকা রাখতে পারে সরকার তখন বিশ্বাস ও আমলে নেয়নি। কিন্তু ২০২৪ সালে এসে তারা তা প্রমাণ করেছে। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াতের মতো বুর্জোয়া-ধর্মকে পুঁজি করা দল থেকে দূরে থাকার মানসিকতা থাকলেও তাতে অটুট থাকতে পারেনি। শিকার করার বদলে নিজেরাই মাঝেমধ্যে শিকারে পড়ছে। রাজনৈতিক প্রথাগত দলের মতো কারো না কারো কাছে ঘেঁষে নিজেদের ইমেজ ও পুঁজি নষ্টের কাজ অনেকটা করে ফেলেছে। এদিক-ওদিক ঘেঁষতে ঘেঁষতে নির্বাচনের আগে জোটবদ্ধ হয়ে গেছে জামায়াতে ইসলামীর সাথে। নিজেদের গুরুত্ব বাড়াতে, সাংগঠনিক ছিন্নভিন্নতা কাটাতে দলের নিরাসক্ত বা হতাশদের আবার দলে ভিড়িয়েছে। কিন্তু, সেই আদর আর পাচ্ছে না। তবুও কখনো রাজনৈতিক পরিস্থিতি হঠাৎ উত্তাল হলে, বিশেষ করে কোনো নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তারা বড় ট্রিগার হয়ে উঠতে পারে- এমন ধারণা কারো কারো। মোটকথা এ প্রজন্মের ভবিষ্যতে ব্যাপক সম্ভাবনা এবং চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
চব্বিশের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পটপরিবর্তনে তারা ফ্রন্টলাইনার এবং কারিগর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও তাদের সামনে জেকে বসেছে কঠিন সংকট। গড়পড়তা হিসাবে ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান এবং ২০২৬ সালের নির্বাচনী আবহ স্পষ্ট করে দিয়েছে বাংলাদেশের তরুণ ভোটাররা মোট ভোটারের প্রায় ৩৫%-এর বেশি। বলা যায় দেশের রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণের প্রধান শক্তি। কিন্তু, নিদারুণ বাস্তবতায় তাদের গড়া দলটি। জামায়াতের সাথে মিলে এনসিপি নির্বাচনে আসন পেয়েছে মাত্র হাফ ডজন। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকে শুরু করে রাষ্ট্র সংস্কারের বিভিন্ন স্তরে তরুণদের চিন্তাভাবনার প্রতিফলন দেখা গেলেও বাস্তবটা বিপরীত। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বরেণ্যরা বিভিন্ন সময় মন্তব্য করেছেন, আগামীর বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে এই নতুন প্রজন্মই। শুনতে ভালো শোনালেও মাঠের চিত্র সেই সায় দিচ্ছে না। তারুণ্যের প্রতি অগ্রাহ্য-অসহিষ্ণুতা ব্যাপক। রাজনৈতিক দৌড়ে কুলাতে না পেরে তাদের অনেকে ঝুঁকছে সরকারি বা প্রথাগত কর্পোরেট চাকরির চেয়ে ফ্রিল্যান্সিং, তথ্যপ্রযুক্তি, স্টার্ট-আপ এবং নিজের মতো করে কিছু করার দিকে। দেশের চাকরির বাজারের সাথে শিক্ষাব্যবস্থার অসামঞ্জস্যের কারণে তাদের একটি বড় অংশকে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
এরইমধ্যে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করতে শুরু করেছেন, ২০৪২ সালের পর থেকে বাংলাদেশে তরুণ জনসংখ্যা কমতে শুরু করবে এবং বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়বে। ফলে বর্তমান জেন-জিদের সম্ভাবনা আগামী এক দশকের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তর হওয়া নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। তখন তাদের কী হবে? নতুন করে কার শিকারে পড়বে? - গুরুতর প্রশ্ন। জেন-জি প্রজন্মের চিন্তা ও পেশাগত ভাবনা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বহুমুখী গবেষণা হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠান গবেষণা করেছে, তাদের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্যের স্যানট্যানডার ব্যাংক, অনলাইন মার্কেটপ্লেস আপওয়ার্ক, ফোর্বস ম্যাগাজিন, হার্ভার্ড ল স্কুল, হ্যারিস পোল ও গুগল ওয়ার্কস্পেস। এসব গবেষণার ফলাফল প্রতিবেদন আকারে পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এ নিয়ে হয়েছে বিস্তর তর্কবিতর্ক। সেসব গবেষণার ফলাফলের দিকে যাওয়ার আগে বলা প্রয়োজন, জেন-জির সঙ্গে এর আগের প্রজন্ম মিলেনিয়ালের (১৯৮১-১৯৯৬) চিন্তাভাবনায় ফারাক অনেক বেশি। প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে পার্থক্যই এই ব্যবধান তৈরি করেছে। মিলেনিয়াল প্রজন্ম মনে করে, জেন-জিদের মধ্যে উদ্দীপনার অভাব আছে। এরা পরিশ্রম ছাড়াই সাফল্য পেতে চায়। যদিও অভিযোগটির সারবত্তা নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ আছে।
জেন-জি প্রজন্মের যাদের বয়স ২৭, তাঁরা ইতিমধ্যে লেখাপড়া শেষ করে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করেছেন। উন্নত বিশ্বে ২৬-২৭ বছর বয়সী জেন-জি ‘বস’ও আছেন হাজার হাজার। আবার বাংলাদেশের মতো অনেক দেশে লেখাপড়া শেষ করে চাকরির জন্য জুতোর সুকতলা ক্ষয় করছেন জেন-জি প্রজন্মের অনেকেই। লক্ষণীয় হলো, জেন-জি প্রজন্মের জন্য বড় আঘাত হয়ে আসে করোনা মহামারি। ২০২০ সালে পৃথিবীব্যাপী যখন এই ভাইরাস আতঙ্ক ছড়ানো শুরু করে, জেন-জি প্রজন্মের ‘সিনিয়র সিটিজেন’দের বয়স তখন ২৩ বছর। কেউ স্নাতক শেষ করেছেন। কেউ করতে পারেননি। কেউ কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করেছেন, কিন্তু কাজ করতে হয়েছে ঘর থেকে। চাকরির শুরুতেই ‘হোম অফিস’ করতে বাধ্য হওয়ায় অনেকেরই যোগাযোগদক্ষতায় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। আর যাঁরা স্নাতক শেষ করতে পারেননি, তাঁদের বারবার শুনতে হয়েছে পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ার দুঃসংবাদ।
অনেকেই হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। শুনতে হয়েছে ‘অটো পাসে’র বদনাম। অনেকেই কম্পিউটার-মুঠোফোন নিয়ে দিনরাত পড়ে থেকেছেন। পরিবারের সঙ্গে অনেকেরই ব্যবধান তৈরি হয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখছে না, কর্মসংস্থান প্রশ্নে বাংলাদেশের জেন-জিদের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার এবং উপযুক্ত কর্মসংস্থান তৈরির ওপর।
রাষ্ট্র তাদের জন্য দুর্নীতিমুক্ত ও সমতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে এই নির্ভীক ও প্রযুক্তি-সচেতন প্রজন্ম আরো এগুবে। বিপরীতটা ঘটলেই মহাবিপদ। অর্থনৈতিক মন্দা ও কর্মসংস্থানের অভাব তাদের মধ্যে তীব্র হতাশা এবং দেশত্যাগের প্রবণতা বাড়িয়ে দেবে, যার উদাহরণ তিউনিশিয়ায় ঘটেছে জেসমিন বিপ্লবের ফ্রন্টলাইনারদের ক্ষেত্রে। তাদের অনেকের জীবন নিঃস হয়ে গেছে। অপমৃত্যুর শিকার হয়েছে অনেক। দেশ ছেড়ে প্রাণ বাঁচিয়েছে কেউ কেউ। এখনো কারাবাসে অনেকে। আর তিউনিসিয়ার কিছু সংখ্যক তরুণ দেশটির গভীর অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব এবং রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতার বিরুদ্ধে ভূমিকা রাখতে গিয়ে নাজেহাল হচ্ছে। নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় কিছুটা ব্যাতিক্রম। অপেক্ষা বাংলাদেশের তারুণ্যের বর্তমানসহ ভবিষ্যৎ দেখার।
লেখক: সাংবাদিক-কলামিস্ট; ডেপুটি হেড অব নিউজ, বাংলাভিশন
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































