Apan Desh | আপন দেশ

শিক্ষা-শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে একযোগে কাজ করার আহবান মাহ্দী আমিনের

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ২১:২৯, ৫ নভেম্বর ২০২৬

শিক্ষা-শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে একযোগে কাজ করার আহবান মাহ্দী আমিনের

ছবি: আপন দেশ

ইন্ডাস্ট্রি, অ্যাকাডেমিয়া ও সরকারের সম্মিলিত সমন্বয়ের মাধ্যমেই দেশের বিদ্যমান সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। 

তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি খাতের অংশীদারত্ব এবং অ্যাকাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রির যৌথ সমন্বয়ের কোনও বিকল্প নেই।

বৃহস্পতিবার (০৫ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিএইচআই) যৌথ উদ্যোগে শিল্প ও অ্যাকাডেমিয়ার সংযোগ: ব্যবসায়িক উদ্ভাবনের দিকে এআই-এর রূপান্তর শীর্ষক এ সেশন হয়।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক উদ্ভাবনী ভাবনাগুলোকে এগিয়ে নিতে সরকার বিভিন্ন স্টার্টআপ ফান্ড ও অনুদানের ব্যবস্থা করছে বলেও জানান মাহ্দী আমিন।

তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে যারা অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতিতে রয়েছেন, তাদের সম্ভাবনাময় উদ্যোগেও প্রাথমিক মূলধনের জোগান দেয়ার উদ্যোগ চলমান রয়েছে। বৃহৎ শিল্পের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে একটি টেকসই জাতীয় শিল্প বলয় গড়ে তোলা হবে।

মাহদী আমিন যানজট নিরসন, কৃষির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, আবহাওয়া পূর্বাভাসভিত্তিক আধুনিক চাষাবাদ কিংবা শিল্প কারখানায় উৎপাদন বাড়ানোর মতো প্রতিটি সমস্যার স্থানীয় সমাধানে অ্যাকাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রিকে একযোগে কাজ করার আহবান জানান। 

আরও পড়ুন<<>>লেখাপড়ার সঙ্গে সাংস্কৃতিক চর্চাও থাকতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্ভাবনী সমাধান যে শুধু ঢাকার কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকেই আসতে হবে এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। ঢাকার বাইরেও বহু শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও মেধাবী শিক্ষার্থী রয়েছেন, যেখান থেকে সম্ভাবনাময় উদ্যোগ গড়ে উঠছে। তাই জেলা পর্যায়ে স্থানীয় ব্যবসা ও শিল্প উদ্যোগের সঙ্গে স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি কার্যকর যোগসূত্র তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মেধা পাচার (ব্রেন ড্রেইন) প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, দেশের বহু প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী, গবেষকসহ বিভিন্ন বিষয়ের মেধাবীরা বিদেশে অবস্থান করছেন এবং সেখানে শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে সফলতার সঙ্গে কাজ করছেন। এতে প্রমাণ হয় যে, আমাদের মেধার কোনও সংকট নেই। আসল সংকট হলো দেশে তাদের মেধা বিকাশের উপযুক্ত সুযোগ ও প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে না পারা।

সরকার ‘ব্রেন ড্রেই’কে ‘ব্রেন সার্কুলেশনে’ রূপান্তর করার সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানান মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, মেধাবীরা বিদেশে অবস্থান বা বসবাস করলেও যাতে বাংলাদেশের অগ্রগতিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখতে পারেন, সরকার সে ক্ষেত্র প্রস্তুত করবে।

মাহ্দী আমিন বলেন, তরুণ প্রজন্মের অফুরন্ত প্রাণশক্তি, উদ্দীপনা ও মেধা দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের এ সুবর্ণ সময়ে বিপুল যুবশক্তিকে উপযুক্ত নীতি ও প্রণোদনার মাধ্যমে কার্যকর কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হিসেবে রূপান্তর করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রহমানের সঞ্চালনায় সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমান, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ফ্লাক্সের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রাজ্জাক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি) ড. সৈয়দ মুনতাসির মামুন, বুয়েটের শিক্ষার্থী ও নেভোলিনের সিইও মো. রাহিনুর রহমান, আইইউটির শিক্ষার্থী ও অ্যান্টসের সিইও তৌসিফ ইসলাম এবং এআইইউবির সিএসই বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফিরোজ মৃধা।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়