Apan Desh | আপন দেশ

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ০৯:১০, ৩০ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ০৯:১১, ৩০ আগস্ট ২০২৬

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস আজ

ফাইল ছবি

দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ শুনলেই এখনো চমকে ওঠেন স্বজনরা। ভাবেন, এ বুঝি ফিরল প্রিয়জন। কিন্তু দরজা খুলতেই সে অসীম শূন্যতা। এভাবে বছরের পর বছর ধরে এমন অপেক্ষার প্রহর গুনছেন দেশের শত শত পরিবার। বাবা, ভাই, ছেলে কিংবা স্বামী, সবাই প্রিয়জনদের ফিরে আসার পথ চেয়ে পার করছেন দীর্ঘসময়। দিন, মাস, বছর যায়, আর আসে। কিন্তু আসে না প্রিয়জন। 

আজ  ৩০ আগস্ট (রোববার), আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। বিশ্বজুড়ে গুম হওয়া মানুষের স্বজনদের অমলিন স্মৃতি আর অন্তহীন অপেক্ষার গল্পে গাঁথা এ দিনটি বিচারহীনতার নিদারুণ বাস্তবতার কথা মনে করিয়ে দেয় সকলকে। বাংলাদেশেও গেল দেড় দশকে গুমের শিকার হয়েছেন প্রায় সাতশ' মানুষ। গুম হওয়া এসব ব্যক্তির ফিরে আসার প্রতীক্ষা এখনো সময় পার করছেন স্বজনরা।

জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী গুমের শিকার ব্যক্তিদের উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার স্মরণে ২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়ে আসছে। এবার ‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাউ’ প্রতিপাদ্যে দিবসটি পালিত হচ্ছে। গুম প্রতিরোধ, ভুক্তভোগীদের স্মরণ, তাদের পরিবারের প্রতি সংহতি এবং এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি নিশ্চিত করাই দিবসটির অন্যতম লক্ষ্য।

দিবসটি উপলক্ষ্যে এদিন গুম হওয়া ব্যক্তির স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’সহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে।

দিবসটির ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুম বন্ধের পাশাপাশি এই অপরাধের জন্য দায়মুক্তি বন্ধ করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তার লক্ষ্যে ২০০৬ সালের ২০ ডিসেম্বর গুম হওয়া সব ব্যক্তির জন্য আন্তর্জাতিক সনদ হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়।

পরে ২০১০ সালের ডিসেম্বরে ‘ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর প্রটেকশন অব অল পারসন্স অ্যাগেইনস্ট এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়্যারেন্স’ সম্মেলনে যে আন্তর্জাতিক সনদ কার্যকর হয়, সে সনদে ৩০ আগস্টকে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন, সরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা এ দিবস পালন করে।

আরও পড়ুন<<>>আমি চাইব না আর কেউ গুম হোক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দিবসটির মূল উদ্দেশ্য ছিল গুম নামক মানবতাবিরোধী অপরাধকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা এবং রাষ্ট্রগুলোর ওপর জবাবদিহিতার চাপ সৃষ্টি করা। ২০১১ সাল থেকেই বাংলাদেশে দিনটি পালিত হতে থাকে।

শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ‘আয়নাঘর’ হিসেবে পরিচিত গোপন বন্দিশালা থেকে দীর্ঘ সময় পর বেশ কয়েকজন ব্যক্তি মুক্ত হওয়ার পর গুমের বিষয়টি জোরালোভাবে সামনে আসে।

বেসরকারি মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশে সাত শ’র বেশি মানুষ গুম হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১৫০ জনের বেশি মানুষের খোঁজ এখনো পাওয়া যায়নি।

গুমকে স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য ও আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গুম প্রতিরোধ, দায়ী ব্যক্তির শাস্তি নিশ্চিতকরণ, ভুক্তভোগী ও তাদের অধিকার সংরক্ষণ ও প্রতিকার প্রদান এবং মানবাধিকার, ব্যক্তি স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল-২০২৬’ ২৭ আগস্ট সংসদে উত্থাপিত হয়েছে। গুমের অপরাধে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আর গুমের কারণে মৃত্যু হলে, মরদেহ উদ্ধার হলে বা পাঁচ বছর পরও ব্যক্তির সন্ধান না মিললে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড দেয়া যাবে।

উল্লেখ্য, গুমবিরোধী সনদটি ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়। ৩২টি দেশ এটি অনুস্বাক্ষর করার পরে ২০১০ সালে তা বাস্তবায়ন শুরু হয়। সামগ্রিকভাবে এ সনদের লক্ষ্য গুম বন্ধের পাশাপাশি এ অপরাধের জন্য দায়মুক্তি বন্ধ করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তা দেয়া।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়