Apan Desh | আপন দেশ

রাজনৈতিক সহিংসতায় তিন মাসে নিহত ৩৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৬:৫৫, ১১ এপ্রিল ২০২৬

আপডেট: ১৭:৫৫, ১১ এপ্রিল ২০২৬

রাজনৈতিক সহিংসতায় তিন মাসে নিহত ৩৬

ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ—এ তিন মাসে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। এসময়ে অন্তত ৬১০টি সহিংসতার ঘটনায় ৩৬ জন নিহত এবং ৪০৭৮ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার (১১ এপ্রিল) প্রকাশিত এক ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। এতে নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলামের স্বাক্ষর রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মোট ৬১০টি ঘটনার মধ্যে ৫৭৩টি, অর্থাৎ প্রায় ৯৪ শতাংশ, ঘটেছে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং বিএনপির সঙ্গে অন্যান্য দলের সংঘর্ষে। নিহতদের মধ্যে বিএনপির ২৮ জন, জামায়াতের ৪ জন, আওয়ামী লীগের ১ জন এবং অন্যান্য দলের ৩ জন রয়েছেন।

সহিংসতার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিরোধ, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনা এবং সমাবেশকেন্দ্রিক সংঘর্ষ ছিল প্রধান কারণ। এছাড়া হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও চাঁদাবাজির ঘটনাও ব্যাপকভাবে ঘটেছে।

এসময়ে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ওপর অন্তত ৩৪টি পৃথক হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ২৯ জন আহত হন। পাশাপাশি বিএনপির ১২ জন, আওয়ামী লীগের ৪ জন, জামায়াতের ৩ জন এবং অন্যান্য দলের ৩ জনসহ মোট ২২ জন নিহত হন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এসময় অর্ধশতাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সারা দেশে সাত শতাধিক বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দলীয় কার্যালয়ে হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

মাসভিত্তিক চিত্রে দেখা যায়, জানুয়ারিতে ১৫১টি ঘটনায় ৮ জন নিহত এবং ১২৩৩ জন আহত হন। ফেব্রুয়ারিতে সহিংসতা বেড়ে ৩৪৬টি ঘটনায় দাঁড়ায়। এ মাসে ১০ জন নিহত ও ১৯৩৩ জন আহত হন। মার্চে ঘটনার সংখ্যা কমে ১১৩ হলেও নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮ জনে দাঁড়ায়। আহত হন ৯১২ জন। এতে বোঝা যায়, সহিংসতার তীব্রতা ও প্রাণঘাতিতা বেড়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিশোধমূলক সংঘর্ষ, আধিপত্য বিস্তার এবং রাজনৈতিক বিরোধ সহিংসতার প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করেছে।

আরও পড়ুন <<>> যুদ্ধবিরতি হলেও জ্বালানি সংকট থাকবে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

এছাড়া রাজনৈতিক পরিস্থিতির অস্থিরতাও বেড়েছে। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করে। ফলে দলটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি।

তবে নির্বাচন শেষে ঢাকাসহ অন্তত ৩০টি জেলা ও উপজেলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে ফেরার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। এতে বিভিন্ন স্থানে পাল্টাপাল্টি দখল, হামলা ও উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে।

প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং কার্যকর প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর জোর দেয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনের মধ্যে গঠনমূলক সংলাপ জরুরি।

একই সঙ্গে সতর্ক করা হয়েছে, নির্বাচনি সহিংসতা, মব সহিংসতা, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের সমস্যা সমাধান না হলে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়