ছবি: আপন দেশ
আসন্ন এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকার ওপর জোর দিয়েছে অবসরপ্রাপ্ত বিসিএস অফিসার্স ফোরাম। সোমবার (০৫ জানুয়ারি) রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি স্পষ্ট ভাষায় জানায়, এ নির্বাচন শুধু একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়, বরং গণতন্ত্রে উত্তরণ ও রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি কঠিন পরীক্ষা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। সে প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালের নির্বাচন জাতির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফোরামের মতে, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে হলে মাঠ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব সরকারি কর্মকর্তাকে অবশ্যই দলনিরপেক্ষ অবস্থান নিতে হবে।
সংগঠনটি বিশেষভাবে রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে জানায়, প্রার্থী বাছাই পর্বেই নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়লে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট হয়ে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে প্রার্থী মনোনয়ন বাতিলকে ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা সংগঠনটিকে উদ্বিগ্ন করেছে বলে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, অনেক ক্ষেত্রে ‘টেকনিক্যাল’ ব্যাখ্যা দেখিয়ে প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। অতীতে রাজনৈতিক কর্মীরা মিথ্যা মামলা ও হয়রানির শিকার হওয়ার বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে আপিল নিষ্পত্তিতে নির্বাচন কমিশনকে খোলা মন ও ন্যায়সঙ্গত দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের আহবান জানানো হয়।
ফোরাম তাদের দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বিষয়ে জোর দেয়। এর মধ্যে রয়েছে- যেসব নির্বাচনী কর্মকর্তার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাদের দ্রুত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি; প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন; অভিযোগ উঠলেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কাজ থেকে প্রত্যাহার; কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ে অভিযোগ বক্স স্থাপন এবং নিয়মিত ব্রিফিং।
সবচেয়ে বিশেষ দাবি হিসেবে ফোরাম জানায়, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বিশেষ সহকারী ও চুক্তিভিত্তিক শীর্ষ কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিতে হবে যে তারা পরবর্তী সরকারের অংশ হবেন না। একই সঙ্গে নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পুলিশ সুপার ও থানার ওসিদের নির্বাচন শেষে এক সপ্তাহের মধ্যে বদলির দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে ফোরাম জানায়, তাদের একমাত্র লক্ষ্য একটি গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা, যাতে জনগণের ভোটাধিকার বাস্তব অর্থে প্রতিষ্ঠিত হয়।
আপন দেশ/এবি
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































