Apan Desh | আপন দেশ

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

ভোট গ্রহণ চলছে, ভোটার উপস্থিতি কম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯:১২, ৭ জানুয়ারি ২০২৪

আপডেট: ০৯:৪৩, ৭ জানুয়ারি ২০২৪

ভোট গ্রহণ চলছে, ভোটার উপস্থিতি কম

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। আজ রোববার (৭ জানুয়ারি) সকাল আটটা থেকে জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে নওগাঁ-২ আসনের ভোট গ্রহণ বাতিল করা হয়েছে। ভোট গ্রহণ চলবে বিকাল চারটা পর্যন্ত।

নির্বাচন কমিশনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে এক হাজার ৯৭০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইসিতে নিবন্ধিত ৪৪টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে এই নির্বাচনে ২৮টি রাজনৈতিক দলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এক হাজার ৫৩৪ জন প্রার্থী। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে আছেন ৪৩৬ জন। ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজার ২৪টি। এসব কেন্দ্রে ভোটকক্ষ দুই লাখ ৬১ হাজার ৯১২টি।

সকাল ৯টা পর্যন্ত এক ঘণ্টায় সারা দেশের কোথাও থেকে নির্বাচনকেন্দ্রীক অপ্রীতিকর কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। বেশিরভাগ কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতিও খুবই কম। 

এরমধ্যে সকাল ৮টার কিছু পরে রাজধানীর সিটি কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভোট দিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথাও বলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, নির্বাচন আমরা সুষ্ঠুভাবে করতে পারছি এজন্য আমি আমার দেশের মানুষের প্রতি, জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। অনেক বাধা-বিপত্তি ছিল, কিন্তু দেশের মানুষ তাদের ভোটের অধিকারের বিষয় সচেতন হয়েছে। পাঁচ বছর পর নির্বাচন আসে জনগণ ভোট দেবে, সে নির্বাচনের ভোট দেয়ার পরিবেশ আমরা তৈরি করতে পেরেছি । যদিও এখানে বিএনপি-জামায়াত জোট জ্বালাও-পোড়াও অনেক ঘটনা ঘটিয়েছে।  

এদিকে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে রাজধানীর শান্তিনগরে হাবীবুল্লাহ্‌ বাহার ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ভোটারের উপস্থিতি কম নাকি বেশি সেগুলোর আমি কিছুই জানি না। আমি এসে আমার ভোট দিয়ে গেলাম। ইসির কাজটা হচ্ছে ভোট আয়োজন করা। কেউ ভোট দিতে আসবেন কি আসবেন না সেটি দেখা আমাদের কাজ নয়।

তিনি বলেন, আর নির্বাচনে কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটলে সেটি আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দেখবেন। কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, আজকে ভোট শুরু হয়েছে, ভালো লাগছে। পাঁচ বছর পর পর জাতীয় সংসদের এই ভোটটি হয় সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায়, সহযোগিতায়। আপনারা (সাংবাদিক) আমাদেরকে সহযোগিতা করে থাকেন।

আরও পড়ুন <> ভোট দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বললেন নৌকার জয় হবে

তিনি বলেন, আমি আপনাদের অনুরোধ করব ভোটের দৃশ্যমানতা ও স্বচ্ছতা যতটা তুলে ধরা যায়। ভোট নিয়ে যদি মানুষের মধ্যে কোনো অনাস্থা থাকে, সেই অনাস্থা যেন ক্রমন্বয়ে কেটে যায়।

সর্বশেষ প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৮৯ হাজার ২৮৯ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ছয় কোটি সাত লাখ ৬৯ হাজার ৭৪১ ও নারী ভোটারের সংখ্যা পাঁচ কোটি ৮৯ লাখ ১৮ হাজার ৬৯৯। এ ছাড়া সারাদেশে এবার তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আছেন ৮৪৯ জন।

এদিকে, শনিবার (৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে ভোটারদের কেন্দ্রে গিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। একই সঙ্গে তিনি প্রার্থীদের উদ্দেশে বলেছেন, শক্ত ও অনুগত পোলিং এজেন্ট না থাকলে সম্ভাব্য ভোট কারচুপি প্রতিরোধ করা সম্ভব নাও হতে পারে।

কোনো প্রার্থী বা প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনে কারচুপির প্রমাণ পেলে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচন বিষয়ক আইন ও বিধিবিধান সংশ্লিষ্ট সবাইকে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ভোটকেন্দ্রসমূহের পারিপার্শ্বিক শৃঙ্খলাসহ, প্রার্থী, ভোটার ও নির্বাচনী কর্মকর্তাসহ সর্বসাধারণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। কোনো প্রার্থী বা প্রার্থীর পক্ষে জাল ভোট, ভোট কারচুপি, ব্যালট ছিনতাই, অর্থের লেনদেন ও পেশীশক্তির সম্ভাব্য ব্যবহার কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, এ ধরনের কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা তাৎক্ষণিক বাতিল করা হবে। প্রয়োজনে কেন্দ্র বা নির্বাচনী এলাকার ভোটগ্রহণ সামগ্রিকভাবে বন্ধ করে দেয়া হবে।

ভোট শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করতে জনগণকেও ঐক্যবদ্ধ হয়ে সকল প্রকারের নির্বাচনী অনিয়ম-অনাচার প্রতিহত করার উদাত্ত আহ্বান জানান সিইসি।

ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ গণমাধ্যমকে জানান, নির্বাচন পরিচালনা ও আইনশৃঙ্খলা খাত মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছিল। পরে বরাদ্দের চাহিদা বেড়ে সবমিলিয়ে ব্যয় প্রায় দুই হাজার ৩০০ কোটি টাকায় দাঁড়াতে পারে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, এবারের নির্বাচনে তিন হাজারের মতো ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবেন। এ ছাড়া, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের সংখ্যা ও মোতায়েনের সময় বাড়ায় ব্যয় বেড়েছে। এবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চাহিদা অনুযায়ী সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ২২৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা। আর নির্বাচন পরিচালনা খাতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৫০ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

এর আগে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও পরে তা বাড়ানো হয়েছিল। তার আগে, দশম সংসদ নির্বাচনে প্রায় ২৬৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, নবম সংসদ নির্বাচনে ১৬৫ কোটি টাকা, অষ্টম সংসদ নির্বাচনে ৭২ কোটি ৭১ লাখ টাকা, সপ্তম সংসদ নির্বাচনে ১১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে ৩৭ কোটি টাকা, পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে ২৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, চতুর্থ সংসদ নির্বাচনে পাঁচ কোটি ১৫ লাখ টাকা, তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে পাঁচ কোটি ১৬ লাখ টাকা, দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছিল। আর ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ দেশের প্রথম সংসদ নির্বাচনে মোট ৮১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা ব্যয় হয়।

আরও পড়ুন <> রাজধানীর সড়কে নেই গণপরিবহন

এবারের নির্বাচনে সারাদেশে আনসার সদস্য থাকছেন পাঁচ লাখ ১৬ হাজার জন। পুলিশ ও র‌্যাব থাকছেন এক লাখ ৮২ হাজার ৯১ জন, কোস্টগার্ড দুই হাজার ৩৫০ জন এবং ৪৬ হাজার ৮৭৬ জন বিজিবি সদস্য থাকছেন। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য থাকছেন প্রায় অর্ধলাখ। এ ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এবার চার লাখ ছয় হাজার ৩৬৪ প্রিজাইডিং অফিসার, দুই লাখ ৮৭ হাজার ৭২২ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং পাঁচ লাখ ৭৫ হাজার ৪৪৩ জন পোলিং অফিসার থাকছে। এ ছাড়া বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা এবং ইসি সচিবালয় ও প্রশিক্ষণেও বিপুল অর্থ খরচ হচ্ছে।

যে ২৮ দল নির্বাচনে আছে : শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ (প্রতীক নৌকা), গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জি এম কাদের) ও মো. মুজিবুল হকের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি (প্রতীক লাঙ্গল), আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও শেখ শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি-জেপি (প্রতীক বাইসাইকেল), দিলীপ বড়ুয়ার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (প্রতীক চাকা), বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম ও হাবিবুর রহমান তালুকদার বীর প্রতীকের নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ (প্রতীক গামছা), মো. আরশ আলী ও ডা. শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণতন্ত্রী পার্টি (প্রতীক কবুতর), আইভি আহমেদ ও মোহাম্মদ আলী ফারুকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (প্রতীক কুঁড়েঘর), রাশেদ খান মেনন ও ফজলে হোসেন বাদশার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (প্রতীক হাতুড়ি), অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও মেজর (অব.) আবদুল মান্নানের নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা বাংলাদেশ (প্রতীক কুলা), হাসানুল হক ইনু ও শিরীন আখতারের নেতৃত্বাধীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ, প্রতীক মশাল), মোস্তফা আমীর ফয়সল ও এজাজুর রসুলের নেতৃত্বাধীন জাকের পার্টি (প্রতীক গোলাপ ফুল), সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী ও ড. সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশন (প্রতীক ফুলের মালা) এবং শেখ ছালাউদ্দিন ছালু ও মো. ইদ্রিস চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (প্রতীক আম)। 

অংশ নেয়া দলগুলোর মধ্যে আরও আছে মো. জাকির হোসেন ও আহমেদ আলী শেখের নেতৃত্বাধীন গণফ্রন্ট (প্রতীক মাছ), অধ্যাপক ডা. এম এ মুকিত ও জাফর আহমেদ জয়ের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (প্রতীক কাঁঠাল), সৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী ও আবুল বাশার মুহাম্মদ জয়নুল আবেদীনের নেতৃত্বাধীন ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ (প্রতীক চেয়ার), মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক ও আবদুল আউয়াল মামুনের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি (প্রতীক হাতঘড়ি), হাফেজ মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী ও মুফতি ফয়জুল্লাহর নেতৃত্বাধীন ইসলামী ঐক্যজোট (প্রতীক মিনার), মাওলানা এম এ মতিন ও অধ্যক্ষ স উ ম আবদুস সামাদের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (প্রতীক মোমবাতি), শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী ও মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (প্রতীক হাতের পাঞ্জা), আবু লায়েস মুন্না ও মো. শাহজামাল আমিরুলের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (প্রতীক ছড়ি), এস এম আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ (প্রতীক টেলিভিশন), কাজী রেজাউল হোসেন ও অ্যাডভোকেট মো. ইয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ কংগ্রেস (নিবন্ধন প্রতীক ডাব), শমসের মুবিন চৌধুরী ও তৈমুর আলম খন্দকারের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল বিএনপি (প্রতীক সোনালী আঁশ), শাহ মো. আবু জাফর ও ড. মো. শাজহাজানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম (প্রতীক নোঙ্গর), শাহাজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ ও মো. আব্দুল আজিজ সরকারের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (প্রতীক একতারা), মাওলানা হাফেজ আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী ও মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন (প্রতীক বটগাছ) এবং গণফোরাম (প্রতীক উদীয়মান সূর্য)।

আপন দেশ/এমআর

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়