ছবি: আপন দেশ
গীতি, নৃত্য এবং ফ্যাশন শো’-এর এক ছন্দময় উপস্থাপণার মধ্য দিয়ে ঠাকুর বাড়ি এবং রবীন্দ্র সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য নারী চরিত্রগুলোর এক অসাধারণ রূপায়ন মঞ্চস্থ হয়ে গেল রাজধানী ঢাকায়। বাংলা সাহিত্যের প্রাণপুরুষ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকীকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (০৭ মে) সন্ধ্যায় গুলশানের একটি হোটেলে ব্যতিক্রমী এ আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয়।
একঝাঁক শিল্পী ও কলা-কুশলী তাদের অনবদ্য উপস্থাপণার মাধ্যমে চোখের সামনে হাজির করেছিলেন ‘শেষের কবিতা’র লাবণ্য, ‘গোরা’র সুচরিতা, ‘নষ্টনীড়ে’র চারুলতা, ‘ঘরে-বাইরে’র বিমলা, নৃত্যনাট্য থেকে চিত্রাঙ্গদা, চন্ডালিকা এবং শ্যামাসহ অনেককে।
ঠাকুরবাড়ির নারীদের মধ্যে কাদম্বরী দেবী, জ্ঞানদানন্দিনী, স্বর্ণকুমারী, সরলা, ইন্দিরা দেবী, মৃণালিণী দেবী, মাধুরীলতা, রেণুকা, মীরাদেবীর মত চরিত্র প্রাণবন্ত হয়ে ওঠেন সবার মাঝে।
শিল্পী ও কলা-কুশলীদের মধ্যে লাবণ্য চরিত্র চরিত্র রূপায়ণ করেন রিপা, বিমলার চরিত্র রূপায়ণ করেন ইলা, গিরিবালা চরিত্র রূপায়ণ করেন রুনি, মৃণালিনীর চরিত্র রূপায়ণ করেন সাদিয়া, চারুলতার চরিত্র রূপায়ণ করেন সানজিদা, সুচরিতার চরিত্র রূপায়ণ করেন রিফাত, নন্দিনীর চরিত্র রূপায়ণ করেন বাবলি।
রবীন্দ্রগীতি ও নৃত্যনাট্যে শ্যামা চরিত্র রূপায়ণ করেন সাবা, চিত্রাঙ্গদা চরিত্র রূপায়ণ করেন অন্তরা এবং চন্ডালিকা চরিত্র রূপায়ণ করেন সুস্মিতা। ভানু সিংহের পদাবলিতে নৃত্য পরিবেশন করেন সামিনা হুসেন প্রেমা।
রবীন্দ্র সংগীত পরিবেশন করেন স্বপ্নিল সজীব, ফারহিন খান জয়ীতা, মহুয়া মঞ্জুরী এবং সেমন্তী মঞ্জুরীসহ অনেকে। কাব্যপাঠ ও ধারাবিবরণীতে ছিলেন ত্রপা মজুমদার ও আশিকুল ইসলাম।
আরও পড়ুন<<>>বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী আজ
এ আয়োজনটি নির্দ্বিধায় ফ্যাশন শো জগতের এক নতুন সংযোজন। কারণ এর মধ্য দিয়ে ঠাকুর বাড়ি এবং রবীন্দ্র সাহিত্যের নারীদের পোষাক, সাজ-সজ্জা, স্টাইল এবং ব্যক্তিত্বকে রূপায়ণ করা হয় নিখুঁদভাবে।
বাংলা সাহিত্য, কাব্য, সুর, সংগীত, সংস্কৃতি, সভ্যতা এবং ঐতিহ্যকে এক মঞ্চে একাকার করে দেয়ার মত এক অনবদ্য প্রচেষ্টা ছিল এ আয়োজনটিতে। মঞ্চসজ্জা থেকে শুরু করে সমগ্র প্রযোজনাটি কানায় কানায় পূর্ণ ছিল বাঙালিয়ানায়।
“নব আনন্দে জাগো” শিরোনামে এ অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে ফ্যাশন ডিজাইন কাউন্সিল অব বাংলাদেশ, ভারতীয় হাইকমিশন, বাংলাদেশ এবং ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার। সন্ধ্যা ছয়টা থেকে শুরু অনুষ্ঠানটি সংগীত, আবৃতি, গীতিনাট্য, নৃত্যনাট্য এবং ফ্যাশন শো-এর মধ্য দিয়ে অবিরত ছিল রাত ১০ টা অবধি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই-কমিশনার প্রণয় ভার্মা সাহিত্য, সংগীত ও কাব্যসহ সমাজ, রাষ্ট্র, মানবতা এবং বিশ্বশান্তির জন্য রবীন্দ্রনাথের অবদান তুলে ধরেন।
ফ্যাশন ডিজাইন কাউন্সিল অব বাংলাদেশের সভাপতি মাহীন খান তার বক্তব্য রবীন্দ্রনাথ, ঠাকুর পরিবার এবং ঠাকুরবাড়ি ও রবীন্দ্র সাহিত্যের নারীদের নিয়ে তার এ ভাবনা প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। স্বাগত বক্তব্য দেন ফ্যাশন ডিজাইন কাউন্সিল অব বাংলাদেশের সাধারন সম্পাদক শৈবাল সাহা।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































