ফাইল ছবি, আপন দেশ
রাতের খাবার পরিবেশনের পর অবশিষ্ট ভাত ও ডাল খোলামেলা অবস্থায় রেখে দেয়া হয়। এ ভাতেই দেখা মেলে তেলাপোকা হাঁটার দৃশ্য। সকালে আবার সেই ভাত নতুন ভাতের সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হয়। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কাজী নজরুল ইসলাম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী রুবায়েত হোসেন নিজ হলের ডাইনিংয়ের ব্যাপারে এমনই তথ্যই জানান।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, যেখানে চাল-ডাল ধোয়ার কাজ করা হয়, সেখানেও প্রচুর ময়লা। রাতে খাবার শেষে ডাইনিং টেবিল ঠিকমতো পরিষ্কার করা হয় না।
চলতি বছরের ০৭ জুলাই ক্যাম্পাস ফুড সেফটি অ্যাওয়ারনেস শীর্ষক সেমিনারে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শরীফুল করীম খাদ্য প্রস্তুত, সংরক্ষণ ও পরিবেশনের প্রতিটি ধাপে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহবান জানান।
বাবুর্চি এবং স্টাফদের স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে রুবায়েত বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মানা তো অনেক দূরের ব্যাপার, রান্নার সময় বেশিরভাগ সময় তাদের খালি গায়েই দেখি।
নারী শিক্ষার্থীদের সুনীতি-শান্তি হলেও একই চিত্র বলে জানান সেখানকার আবাসিক শিক্ষার্থী সুবর্ণা আক্তার। তিনি বলেন, বাবুর্চি এবং স্টাফরা যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই খাবার তৈরি করছেন। দীর্ঘক্ষণ খাবার খোলামেলা রাখার কারণে মাছিসহ বিভিন্ন পোকামাকড় বসে। রান্নাঘর ও সরঞ্জাম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে।
ফুড সেফটি অ্যাওয়ারনেস শীর্ষক সেমিনারে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করার ব্যাপারে উপাচার্য গুরুত্বারোপ করেন। তবে সুবর্ণা খাবারের মান নিয়ে অসন্তোষ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দুপুর আর রাতের খাবার কোনোমতে খাওয়া গেলেও সকালের খাবারটি একদমই খাওয়ার যোগ্য নয়।
আরও পড়ুন<<>>কুবিতে চালু হচ্ছে ভাষা ইনস্টিটিউট
ব্যতিক্রম নয় বিজয়-২৪ হলও। অপরিষ্কার রান্নাঘর, পুষ্টিহীন খাবার ও স্বাস্থ্যবিধি পালনে চরম অবহেলাসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে আবাসিক শিক্ষার্থীদের।
ডাইনিংয়ের এমন দুর্দশার চিত্র ফুটে উঠেছে সেখানকার আবাসিক শিক্ষার্থী তাহমিদ শান্তর কণ্ঠে। তিনি জানান, আমাদের যে খাবার দেয়া হয়, সেটি পুষ্টি ও স্বাদহীন। অনেক সময় দুর্গন্ধযুক্ত মাছ দেয়া হয়। তাছাড়া রান্নাঘর খুবই অপরিষ্কার এবং তারা যে জুতা পরে বাইরে যায়, সেটি নিয়েই আবার রান্নাঘরে প্রবেশ করে। স্বাস্থ্যবিধি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে বাবুর্চি এবং ডাইনিং বয়রা খুবই অসচেতন।
শান্ত মনে করেন, প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি ও কঠোর পদক্ষেপই পারে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর ২০২৬ সালের ৪ জুনের তথ্য বলছে, দূষিত খাবারের কারণে বিশ্বে প্রতিবছর আনুমানিক ৮৬ কোটি ৬০ লাখ মানুষ অসুস্থ হন। ১৫ লাখ ২০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। দূষিত খাবার থেকে ২০০-এর বেশি রোগ হতে পারে বলে সংস্থাটি তথ্য দিয়েছে।
নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টি নিশ্চিতে ছাত্র পরামর্শক ও নির্দেশনা দফতরের পরিচালক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন বলেন, আমরা খাবারের মানোন্নয়ন ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে ক্যাফেটেরিয়া কমিটি ও হলের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আশা করি, খুব দ্রুত এ সমস্যাটির সমাধান করা সম্ভব হবে।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































