ছবি: আপন দেশ
খেলাপী হওয়া সিটি গ্রুপকে নতুন করে ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ সুবিধা দেয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি মূলধনের নামে এ ঋণ দেয়া হবে। এজন্য ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৭কক (৩) ধারা আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত শিথীল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সিটি ব্যাংকের নেতৃত্বে সিন্ডিকেটেড ঋণের আওয়াতায় সিটি গ্রুপের পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে এ ঋণ সুবিধা দেয়া হবে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
চলতি মূলধন পেতে যাওয়া পাঁচ প্রতিষ্ঠান হচ্ছে সিটি সিড ক্রাশিং ইন্ডস্ট্রিজ, সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ. সিটি এডিবল অয়েল লিঃ, সিটি ডাল মিলস্ ও শম্পা ফ্লাওয়ার মিলস্।
দেশের দুই ডজন ব্যাংকের কাছে প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকার খেলাপী ঋণ নিয়ে চলছে ভোগ্য পণ্য থেকে ব্যবসা শুরু করে নানা খাতে যাওয়া সিটি গ্রুপ। গত সেপ্টম্বরে এসব ঋণ খেলাপী হয়ে গেলেও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে খেলাপী না করার সিদ্ধান্ত দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
আরও পড়ুন<<>> পাওয়ার গ্রিডে দুর্নীতি, সফটওয়্যার থেকে ২৬০ ভাউচার গায়েব
খেলাপী না করে উল্টো সিটি গ্রুপকে উদ্ধারে এগিয়ে এসে নতুন ঋণ দেয়ার প্রস্তাব দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু সব ব্যাংক তাতে রাজী না হলে গত সপ্তাহে ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের নিয়ে সভা করা হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে। সেখানে খেলাপী করা নিয়ে দুই ধরনের মতামত দেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা। তাতে আগের অবস্থান থেকে সরে এসে ধীরে ধীরে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথ বেছে নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সিটি গ্রুপের সব ঋণকে কয়েকটি ব্যাংকের নেতেৃত্বে সিন্ডিকেট ঋণে রুপান্তর করে বিষয়টি সামাল দিতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
প্রথম ধাপে সিটি ব্যাংকের নেতৃত্বে সিন্ডিকেট ঋণের আওতায় পাচঁ প্রতিষ্ঠানকে ৩ হাজার কোটি টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত জানালো বাংলাদেশ ব্যাংক। এসবই ভোগ্যপণ্য ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত। আগামী রোজার সময়ে বাজারে পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এ কৌশলে গেল ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
বুধবার (০৪ নভেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, তিন হাজার কোটি টাকার চলতি মূলধন (ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল) সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে সিটি ব্যাংক পিএলসি-এর নেতৃত্বে গঠিতব্য সিন্ডিকেটেড অর্থায়নের জন্য ব্যাংক কোম্পানী আইন ১৯৯১ এর ২৭কক (৩) ধারায় বর্ণিত বিধান আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত কার্যকর হবে না।
বিদ্যমান আইনে যা আছে:
ব্যাংক কোম্পানী আইন ১৯৯১ এর ২৭কক (৩) ধারায় বলা আছে, ‘কোন খেলাপী ঋণ গ্রহীতার অনুকূলে কোন ব্যাংক-কোম্পানী বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কোনরূপ ঋণ সুবিধা প্রদান করিবে না। তবে শর্ত থাকে যে, ধারা ৫ এর দফ (গগ) এর বিধান অনুসারে পরস্পর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট গ্রুপভুক্ত কোন খেলাপী ব্যক্তি বা ক্ষেত্রমত, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানী যদি ইচ্ছাকৃত খেলাপী ঋণ গ্রহীতা না হয় অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট যদি ইহা প্রতীয়মান হয় যে, উক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানী কর্তৃক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হইবার ক্ষেত্রে যুক্তিসঙ্গত কারণ রহিয়াছে, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানী খেলাপী হইবার কারণে ঐ গ্রুপভুক্ত অন্য কোন প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানী খেলাপী বলিয়া গণ্য হইবে না, এবং এইরূপ প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানীকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে তৎকর্তৃক জারীকৃত নির্দেশনা অনুযায়ী ঋণ সুবিধা প্রদান করা যাইবে।’
অর্থাৎ কোনো খেলাপী হওয়া প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে কোনো ব্যাংক ঋণ নিতে পারবে না। আইনের সেই শর্তে ছাড় দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, প্রস্তাবিত ঋণ-সুবিধার বিপরীতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো দায় সৃষ্টি হবে না। ভবিষ্যতে সিটি ব্যাংক পিএলসি বা সিন্ডিকেটভুক্ত অন্য কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে কোনোরূপ আর্থিক সহায়তা দাবি করতে পারবে না।
আরও পড়ুন<<>> ঋণশোধে বিদেশি মুদ্রা কোথায় পাবে মেঘনা গ্রুপ?
নতুন ঋণ সুবিধা দিতে নতুন করে জামানত নিতে হবে ব্যাংকগুলোকে। এর পাশাপাশি আরো শর্ত দিয়ে বলা হয়, নতুন করে দেয়া সিন্ডিকেটেড ঋণের টাকায় কেনা পণ্য বিক্রয় করে পাওয়া অর্থ নির্দিষ্ট ব্যাংকে জমা রাখার সিদ্ধান্ত দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেখান থেকে আনুপাতিক হারে ঋণ দেয়া ব্যাংকগুলো কিস্তি গ্রহণ করবে জানিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ‘এঋণের আওতায় আমদানিকৃত কাঁচামাল ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানসমূহ ঋণদাতা ব্যাংকসমূহের সিকিউরিটি এজেন্টের প্রতিনিধি হিসেবে ক্রয় করবে এবং জিম্মাদার হিসেবে তা প্রক্রিয়াজাত করবে।’
এর মানে হচ্ছে, সিন্ডিকেটেড ঋণের মাধ্যমে পণ্য আমদানি ও তা বাজারে বিক্রি করতে জড়িত হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ দেয়া ব্যাংকের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করবে। সেক্ষেত্রে তৃতীয় কোনো প্রতিষ্ঠান এ প্রক্রিয়া যুক্ত হতে পারবে। পুরো অর্থ ও পণ্য ব্যবস্থাপনা নজরদারি করবে ব্যাংক। এ ঋণের অর্থ অন্য কোথাও ব্যবহার বা স্থানান্তর করতে পারবে না কোনো প্রতিষ্ঠান।
আপন দেশ/এবি
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































