ছবি : আপন দেশ
বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) উদ্যোগে বিমা দাবি পরিশোধ করা হচ্ছে। দ্বিতীয় দফায় পাঁচ হাজার ৮৬৮ পলিসিধারীর মোট ২৩ কোটি ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭১ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট জীবন বিমা কোম্পানিগুলোর নিজস্ব সম্পদ ও সিকিউরিটি বন্ডসহ বিভিন্ন উৎস থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করে এ পাওনা পরিশোধ করা হচ্ছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মতিঝিলে আইডিআরএ কার্যালয়ে গ্রাহকদের হাতে চেক তুলে দেয়া হয়।
দ্বিতীয় দফায় পরিশোধিত অর্থের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ পেয়েছে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের গ্রাহকরা। যেখানে ৩ হাজার ৬০০ পলিসিধারীকে ১২ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৫৮০ গ্রাহক পেয়েছেন ৫ কোটি টাকা। হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১ হাজার ১৪৫ গ্রাহক পেয়েছেন ৪ কোটি ৯৮ লাখ ৮ হাজার ৫১৪ টাকা।
একই সঙ্গে সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৩০০ পলিসিধারীর মাঝে ৫৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা। সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের ২৪৩ জনের মাঝে ৫০ লাখ ১৮ হাজার ৪৫৭ টাকা বিতরণ করা হয়।
এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় ৭টি জীবন বিমা কোম্পানির ২ হাজার ৫৪৯ পলিসিধারীকে ১৪ কোটি ৫১ লাখ ৩ হাজার ১৪৬ টাকা ৫৮ পয়সা পরিশোধ করা হয়েছিল। দুই দফা মিলিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ৮ হাজার ৪১৭ জন গ্রাহকের ৩৭ কোটি ৫৪ লাখ ৬০ হাজার ১১৭ টাকা ৫৮ পয়সা বিমা দাবি সফলভাবে মেটানো সম্ভব হয়েছে।
আরও পড়ুন: ইসলামী ব্যাংকের সামনে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত অনেক
এদিকে, কোম্পানিগুলোর লুটপাট ও অপব্যবস্থাপনার পর জনগণের করের টাকায় গঠিত সরকারি তহবিল থেকে বেইলআউট বা সহায়তা দেয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইডিআরএ চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন। তিনি বলেন, সরকারি তহবিল থেকে টাকা এনে কোম্পানিগুলোকে বেইলআউট দেয়ার ক্ষেত্রে আইডিআরএ অত্যন্ত সতর্ক।
চেয়ারম্যান বলেন, সরকারি সহায়তা কোনো প্রাথমিক সমাধান নয়, বরং তা হতে পারে কেবলই একদম শেষ পদক্ষেপ। শুরুতেই বার্তা দেয়া হয়েছে যে, প্রথম কাজ হবে কোম্পানিগুলোর নিজস্ব উৎস থেকে সব রকম চেষ্টা চালিয়ে টাকা আদায় করা। সব চেষ্টা ব্যর্থ হলে এবং দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলেই কেবল সরকারের কাছে আবেদনের কথা ভাবা যেতে পারে।
আগে দুটি বড় শর্ত পূরণের কথা উল্লেখ করেন নাদিয়া নিভিন। প্রথমত, আদায়ের সব রকম সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা শেষ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, এমন শক্ত আইনি কাঠামো ও তদারকির নিয়মকানুন বা 'গার্ডরেল' প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে কোম্পানিগুলো আর কখনোই এমন সংকট সৃষ্টি করতে না পারে।
সরকার থেকে টাকা এনে দেয়ার পর যদি আবার একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটে, তবে তা গ্রহণযোগ্য নয়। তাই সুনির্দিষ্ট গার্ডরেল ও রেগুলেশন নিশ্চিত করার পর এবং প্রাতিষ্ঠানিক সব চেষ্টা শেষ হওয়ার পর বেইলআউট প্যাকেজের বিষয় বিবেচনা করা হবে।
আইডিআরএ জানিয়েছে, অবশিষ্ট সব বৈধ ও অপরিশোধিত দাবি পর্যায়ক্রমে যাচাই-বাছাই করে পরিশোধের এ উদ্যোগ গ্রাহকদের ন্যায্য অধিকার সুনিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
আপনদেশ/কেএম
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































