ছবি: আপন দেশ
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বেশ কিছু সুপারিশ করেছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।
এরমধ্যে সরকারের ব্যাংক ঋণ গ্রহণ সীমিত রাখা, ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) সত্যিকার অর্থে কার্যকর করা এবং রাজস্ব প্রশাসনের পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল রূপান্তরের জোরাল সুপারিশ করা হয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে মতিঝিল ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘২০২৬ অর্থবছরের দ্বি-বার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি: প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব সুপারিশ তুলে ধরেন ডিসিসিআইয়ের সভাপতি তাসকীন আহমেদ।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান ও ড. জায়েদি সাত্তার। এ ছাড়াও আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
অর্থনীতির বর্তমান চিত্র ও চ্যালেঞ্জ মূল প্রবন্ধে ২০২৬ অর্থবছরের বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরেন তাসকীন আহমেদ।
তার উপস্থাপনা অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের জিডিপি ৫০১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং প্রবৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ। তবে মূল্যস্ফীতি একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা জুলাই ২০২৬-এ ৮ দশমিক ৩২ শতাংশে পৌঁছেছে। এ ছাড়া ব্যাংকিং খাতে খেলাপির মোট ঋণের ৩০ দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত হওয়া এবং বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের ধীরগতি (৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ) বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ডিসিসিআই সভাপতি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরেন। সেগুলো হলো,
ব্যাংক ঋণ নিয়ন্ত্রণ: সরকার যাতে ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ঋণ না নেয়, সে সুপারিশ করা হয়েছে। এর বদলে তুলনামূলক সহজ শর্তের বৈদেশিক অর্থায়ন এবং ব্যাংক-বহির্ভূত উৎসের ওপর গুরুত্ব দেয়ার কথা বলা হয়েছে।
এনবিআরের ডিজিটালাইজেশন: এ-চালানসহ রাজস্ব আদায়ের পুরো প্রক্রিয়া দ্রুত ডিজিটাল করার মাধ্যমে ২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।
প্রণোদনা প্যাকেজ: ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এমএসএমই) জন্য নির্ধারিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ যাতে প্রকৃত উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহৃত হয়, তা নিশ্চিত করতে কঠোর তদারকির প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন<<>>দেশে স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভরিতে কত বাড়ল?
বিনিয়োগ ও ব্যবসা সহজীকরণ (Deregulation) বিদেশি ও স্থানীয় বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে ডিসিসিআই সভাপতি কিছু সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের দাবি জানান। সেগুলো হলো,
* বিনিয়োগকারীদের জন্য ৫ বছরের মাল্টিপল ভিসা মাত্র ৭ দিনের মধ্যে নিশ্চিত করা।
* বিদেশি কর্মীদের কাজের অনুমতি (ওয়ার্ক পারমিট) ৭ দিনের মধ্যে এবং অর্জিত মুনাফা বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া মাত্র ১ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করা।
* কোম্পানি রেজিস্ট্রেশনের পুরো প্রক্রিয়া ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে আরও শক্তিশালী করা।
খাতভিত্তিক বিশেষ সুপারিশগুলো তাসকীন আহমেদের বক্তব্যে বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতের সমস্যা ও সমাধানের পথ উন্মোচন হয়। এরমধ্যে রয়েছে,
তৈরি পোশাক (আরএমজি): শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃত্রিম তন্তু (Man-Made Fiber) আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে।
চামড়া শিল্প: পিপিপি মডেলের মাধ্যমে সাভারের চামড়া শিল্প নগরীর সিইটিপি আধুনিকায়ন এবং কাঁচা চামড়ার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী সংরক্ষণ নেটওয়ার্ক তৈরির প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
কৃষি ও আইসিটি: জলবায়ু সহনশীল বীজের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং আইসিটি খাতে দক্ষতা বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিল্প-নির্ভর ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ স্থাপনের ওপর জোর দেয়া হয়েছে।
এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পরবর্তী প্রস্তুতি ২০২৯ সালে স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে উত্তরণের (এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন) চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাসকীন আহমেদ একটি শক্তিশালী 'স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি' (এসটিএস) তৈরির তাগিদ দেন।
তিনি বলেন, উত্তরণ পরবর্তী সময়ে রপ্তানি সুবিধা ধরে রাখতে দ্রুত বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এফটিএ ও পিটিএ চুক্তি সম্পাদন এবং আন্তর্জাতিক শ্রম ও পরিবেশগত মানদণ্ডগুলো কার্যকর করা অপরিহার্য।
আপন দেশ/মিম/জেডআই/এনএম
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































