ফাইল ছবি
রাজধানীর বাজারে পোলাও চাল কিনতে গিয়ে বাড়তি খরচের মুখে পড়ছেন ক্রেতারা। সাত মাসের ব্যবধানে প্যাকেটজাত সুগন্ধি চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা। বর্তমানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত চিনিগুঁড়া ও কালিজিরা চাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ২৩০ টাকায়।
অন্যদিকে, মানভেদে খোলা পোলাও চালের দাম ১০০ থেকে ১৯০ টাকা। প্যাকেটজাত চালের বাড়তি দামের কারণে অনেক ক্রেতাকে তুলনামূলক কম দামের খোলা চাল কিনতে হচ্ছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে খোলা পোলাও চালের মধ্যে নিম্নমানের চাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১০০ টাকায়। মাঝারি মানের চালের দাম ১৬০ টাকা এবং উন্নত মানের চালের দাম ১৯০ টাকা। চাষী, প্রাণ, রূপচান্দা, পুষ্টি ও ফ্রেশসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত চিনিগুঁড়া ও কালিজিরা চালের দাম কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ২৩০ টাকা।
মিরপুর-৬, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও ও ৬০ ফিটসহ আশপাশের বাজারের তথ্য অনুযায়ী, সাত থেকে আট মাস আগে নিম্নমানের খোলা পোলাও চালের দাম ছিল কেজিপ্রতি ৮০ টাকা। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০০ টাকায়। অর্থাৎ এ সময়ে খোলা চালের দাম বেড়েছে ২০ টাকা। বিপরীতে, একই সময়ে প্যাকেটজাত পোলাও চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা। ফলে প্যাকেটজাত চাল কিনতে ক্রেতাদের বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে বেশি।
আরও পড়ুন<<>>ফাঁকা রাজধানীতে সবজির দাম চড়া, ডিমে স্বস্তি
পোলাও চালের দাম বৃদ্ধির পেছনে সুগন্ধি চাল রফতানির অনুমোদন এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ উঠেছে। গত জুন ও জুলাই মাসে দুই দফায় ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে ৪৫ হাজার ৩২০ টন সুগন্ধি চাল রফতানির অনুমোদন দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এসব প্রতিষ্ঠান আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চাল রফতানি করতে পারবে।
চাল রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, দেশে বছরে কমপক্ষে ১০ লাখ টন সুগন্ধি চাল উৎপাদিত হয়। এর বিপরীতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা প্রায় চার লাখ টন। ফলে বছরে প্রায় ছয় লাখ টন চাল উদ্বৃত্ত থাকে। এই উদ্বৃত্ত চালের একাংশ রফতানি করা হলেও দেশের বাজারে সরবরাহ ঘাটতি হওয়ার কথা নয় বলে মনে করেন তারা।
অন্যদিকে, কিছু ব্যবসায়ীর দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে সুগন্ধি চালের চাহিদা বেশি থাকায় দেশের বাজারেও দাম বাড়ছে। এবার প্রতি কেজি সুগন্ধি চালের সর্বনিম্ন রফতানিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার। বর্তমান ডলারের বিনিময় হার অনুযায়ী, এর মূল্য কেজিপ্রতি প্রায় ২০০ টাকা। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানির সুযোগও দেশের বাজারে চালের দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
আপন দেশ/এমকে/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































