Apan Desh | আপন দেশ

তালাবদ্ধ ঘর থেকে একই পরিবারের চার মরদেহ উদ্ধার

রংপুর প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ০৯:১২, ২৩ আগস্ট ২০২৬

তালাবদ্ধ ঘর থেকে একই পরিবারের চার মরদেহ উদ্ধার

ফাইল ছবি

রংপুর মহানগরের কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি তিনতলা ভবন থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২২ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভবনটি থেকে মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়।

নিহতরা হলেন—গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী (১৪) এবং মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৮)।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বাড়িটি কয়েক দিন ধরেই তালাবদ্ধ ছিল। পরিবারটি সম্প্রতি বাড়িটির দোতলায় বসবাস শুরু করেছিল। নিচতলা তখনো নির্মাণাধীন। নতুন এলাকায় হওয়ায় প্রতিবেশীদের সঙ্গেও পরিবারের খুব বেশি ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়নি। কয়েক দিন ধরে পরিবারের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে একপর্যায়ে প্রীতিলতার বোন পূজা চক্রবর্তী সেখানে আসেন। বাড়িতে তালা দেখে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি পুলিশকে খবর দেন।

পুলিশ এসে ফটক বন্ধ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। পরে দরজা ভেঙে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সিআইডির প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডটি তিন থেকে চার দিন আগে ঘটে থাকতে পারে। ফলে এতটা সময় ধরে একটি পরিবার নিখোঁজ থাকার বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ঘটনাস্থলের সবচেয়ে ভয়াবহ দিকগুলোর একটি হলো, চারজনের মরদেহ এক জায়গায় ছিল না। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতার মরদেহ পাওয়া যায় দোতলার সিঁড়ির কাছে। মেয়ে পার্থীর মরদেহও সেখানে ছিল বলে জানানো হয়েছে। আর ছোট ছেলে আয়াসের মরদেহ পাওয়া যায় একটি কক্ষের খাটের নিচে। গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ ছাদের এক প্রান্তে পড়ে ছিল বলেও পুলিশ জানিয়েছে।

ঘরের ভেতর ছিল পচা লাশের তীব্র গন্ধ। কাপড়চোপড় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। মেঝেতে পড়ে ছিল গয়নার বাক্স। বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে থাকায় প্রথম দেখাতেই ডাকাতির আলামত বলে মনে হয়েছে তদন্তকারীদের কাছে।

আরও পড়ুন<<>>সিলেটে ট্রাক-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ৪

তবে একটা প্রশ্নও উঠছে। ডাকাতির ঘটনা হলে পরিবারের চার সদস্যকে কেন এভাবে আলাদা আলাদা স্থানে পাওয়া গেল? তারা কি ডাকাতদের বাধা দিয়েছিলেন? নাকি হত্যাকারীদের উদ্দেশ্য ছিল শুধু লুটপাট নয়, আরও কিছু?

রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (গোয়েন্দা) সনাতন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, নিহতদের গলায় দড়ি প্যাঁচানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। পুরো বাড়ি তছনছ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ডাকাতির বিষয়টি সামনে রেখে তদন্ত করা হচ্ছে।

ঘটনার পর ঘটনাস্থলে গোয়েন্দা পুলিশ, সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক দল কাজ করেছে। তারা বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং ক্রাইম সিন বিশ্লেষণের পর মৃত্যুর সময় ও হত্যার ধরন সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

নিহত গণপতি চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক। গত বছর শিক্ষকতা থেকে অবসর নেওয়ার পর নগরীর সমবায় মার্কেটে একটি হোমিওপ্যাথি চেম্বারে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দিতেন। তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছিলেন। আর ছোট ছেলে আয়াস চক্রবর্তী ছিল রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

গণপতি চক্রিতীর পরিবার ওই বাড়িতে সম্প্রতি বসবাস শুরু করেছিল। নিচতলার নির্মাণকাজও শেষ হয়নি। ফলে এলাকায় পরিবারের চলাফেরা, তাদের দৈনন্দিন রুটিন কিংবা বাড়ির নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে খুব বেশি মানুষ জানত কি না, সেটিও তদন্তের বিষয় হতে পারে।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়