Apan Desh | আপন দেশ

অস্ট্রেলিয়ায় শরিফুলের ইতিহাস

ক্রীড়া প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১০:১০, ২৩ আগস্ট ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ায় শরিফুলের ইতিহাস

ছবি : সংগৃহীত

ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এরেনায় সকালের মিষ্টি রোদেই যেন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের জন্য বিভীষিকা হয়ে উঠলেন এক তরুণ বাংলাদেশি পেসার! অবিশ্বাস্য এক ইয়র্কারে ক্যামেরন গ্রিনকে সাজঘরে ফিরিয়ে ইনিংসে নিজের ৭ উইকেট পূর্ণ করলেন শরিফুল ইসলাম। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে একাধিক কীর্তিতে নাম লিখিয়েছেন এ টাইগার পেসার। 

ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এক ইনিংসে সেরা বোলিংয়ের তালিকায় শরিফুলের ৭/৪৮ পারফরম্যান্স তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। তার আগে আছেন তাইজুল ইসলাম ও সাকিব আল হাসান।

২০১৪ সালে ঢাকায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তাইজুল ইসলাম ৩৯ রান দিয়ে ৮ উইকেট শিকার করেছিলেন, যা বাংলাদেশের হয়ে এক ইনিংসে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড। এরপর ২০০৮ সালে চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাকিব আল হাসান ৩৬ রান দিয়ে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন।

তবে পেসার হিসেবে শরিফুলই প্রথম বাংলাদেশি বোলার, যিনি ৭ উইকেট নেয়ার কীর্তি দেখালেন। এর আগে এই কীর্তিটি ছিল শাহাদাত হোসেনের দখলে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২০০৮ সালে ২৭ রানের বিনিময়ে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন দীর্ঘদেহী এ পেসার।

এছাড়া বিদেশের মাটিতে টেস্ট ইনিংসে এটিই কোনো বাংলাদেশির সেরা বোলিং। এর আগে বিদেশে সেরা বোলিংয়ের কীর্তিটি ছিল তাইজুলের দখলে। চলতি বছরের জুনেই হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইনিংসে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন তাইজুল। তবে এজন্য তাকে খরচ করতে হয়েছে ১৩৮ রান। 

দেশ ও বিদেশ মিলিয়ে টেস্টে ৭ উইকেট নেয়া বাংলাদেশের পঞ্চম বোলার শরিফুল। তার আগের চার জনই স্পিনার- তাইজুল (তিনবার), সাকিব আল হাসান, এনামুল হক জুনিয়র ও মেহেদী হাসান মিরাজ। 

আরও পড়ুন<<>>শরিফুলের ৬ উইকেট, স্মিথ-গ্রিনের জুটিতে অজিদের লিড

দেশীয় রেকর্ড ছাড়াও আন্তর্জাতিক রেকর্ডেও নাম লিখিয়েছেন শরিফুল। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দীর্ঘ ১৪৩ বছর পর কোনো বাঁহাতি পেসার হিসেবে ৭ উইকেট নেয়ার কীর্তি গড়লেন শরিফুল। এর আগে এই কৃতিত্ব ছিল কেবল ইংল্যান্ডের দুই বাঁহাতি পেসার টম এমেট (১৮৭৯ সালে ৬৮ রানে ৭ উইকেট) ও রিচার্ড বার্লোর (১৮৮৩ সালে ৪০ রানে ৭ উইকেট)।

এদিকে দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশন শেষে বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেট হারিয়ে করে ৬৯ রান। মুশফিকুর রহিম ২০ এবং হাসান মাহমুদ ০২ রানে অপরাজিত আছেন।  অস্ট্রেলিয়াকে আবার ব‍্যাটিংয়ে পাঠাতে আরও ৭৭ রাান প্রয়োজন সফরকারীদের।

এর আগে অস্ট্রেলিয়াকে ২১০ রানে অলআউট করে ১৪৬ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস খেলতে নেমেছিল তারা। কিন্তু শুরুতেই স্টার্কের তোপের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। তৃতীয় ওভারে অজি পেসারের কাছে টানা দুটি উইকেট হারায় সফরকারীরা। প্রথম ২ ওভারে ৫ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। তৃতীয় ওভারে স্টার্ক সাদমান ইসলামকে (১) পয়েন্টে মার্নাস লাবুশেনের ক্যাচ বানান। পরের বলে মুমিনুল হকের অফস্টাম্প ভেঙে দেন। ৫ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে সফরকারীরা।

শান্ত এসে মারমুখী ব্যাটিং করেন। এর মধ্যে নবম ওভারে স্টার্ককে টানা দুটি চার মারেন তিনি। প্রায় একশ স্ট্রাইক রেটে রানের গতি বাড়ান অধিনায়ক। কিন্তু তানজিদ হাসান তামিম বেশিক্ষণ তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি। অষ্টম ওভারে প্যাট কামিন্সের বলে বাউন্ডারির সামনে স্টার্কের ক্যাচ হন তিনি। ৩৪ বলে ৯ রান আসে এক নম্বরে নামা ব্যাটারের কাছ থেকে। ডারউইনে প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরির পর টানা দুটি ইনিংসে ডাক মারেন তানজিদ, এবার রানের খাতা খুললেও দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পারেননি। 

৮ উইকেটে ১৬৫ রানে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিল অস্ট্রেলিয়া। দিনের অষ্টম ওভারে সেট ব্যাটার ক্যামেরন গ্রিনকে ফেরান শরিফুল। বাংলাদেশ এলবিডব্লিউর আবেদন করেছিল। কিন্তু কুমার ধর্মসেনা আউট না দিলে রিভিউ নেয় তারা। শরিফুলের ইনসুইং ইয়র্কার গ্রিনের পায়ের আঙুলে লেগে তাকে ছিটকে ফেলে দেয়। বলটি ডিপ থার্ডে গড়িয়ে গেলে তারা একটি লেগ বাই রান নেয়। রিভিউয়ে সফল হয় বাংলাদেশ। ১০৫ বলে ১০ চারে ৬৭ রানে থামেন গ্রিন।

তারপর নাথান লায়ন ও জশ হ্যাজেলউড ২৪ রানের জুটি গড়ে ব্যবধান বাড়াতে থাকেন। লায়ন ৬২ বলে চার চার ও এক ছয়ে ৩২ রানে অপরাজিত ছিলেন। হ্যাজেলউডকে ৬ রানে সাদমান ইসলামের ক্যাচ বানান তাইজুল ইসলাম।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়