Apan Desh | আপন দেশ

জেল সুপারের মানবিকতায় নিজ দেশে ফিরলেন নেপালি যুবক

পাবনা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৬:৩১, ১১ মার্চ ২০২৫

আপডেট: ১৬:৩২, ১১ মার্চ ২০২৫

জেল সুপারের মানবিকতায় নিজ দেশে ফিরলেন নেপালি যুবক

সীমান্ত পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছিলেন নেপালী যুবক রাম রিশি চৌধুরী (২৩)। পাবনার ঈশ্বরদী থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। এরপর পাবনা কারাগারে কাটতে থাকে দিন। বিষয়টি নজরে আসে জেল সুপার ওমর ফারুকের। অবশেষে তার উদ্যোগে এক বছর ৮ মাস ২৫ দিন পর আদালতের মাধ্যমে নিজ দেশে ফিরে যান নেপালি যুবক।

রাম রিশি চৌধুরী নেপালের সরলাহি জেলার খার কাটোল গ্রামের মি. রামজি চৌধুরী ও পুন্ডি কুমারি চৌধুরীর ছেলে।

জেলা কারাগার সূত্রে জানা যায়, ঘুরতে ঘুরতে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছিলেন রাম রিশি। এরপর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে পাবনার ঈশ্বরদীতে যান তিনি। এক পর্যায়ে ২০২৩ সালের ১১ জুন অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে ওই যুবককে আটক করে ঈশ্বরদী পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে রাম রিশিকে কারাগারে পাঠানো হয়। এভাবেই কারাগারে দিন কাটছিল তার।

আরওপড়ুন<<>>ড. ইউনূসের সুনামের কারণে অনেক দেশ পাচারের অর্থ ফেরত দিতে চায়

জেল সুপার ওমর ফারুক বলেন, আটকের পর ওই যুবক প্রথমে নিজেকে ভারতীয় দাবি করেছিলেন। পরে জানায়, তিনি নেপালি। মানসিকভাবে বেশ অস্বাভাবিক ছিলেন রাম রিশি। চিকিৎসা দিয়ে তাকে সুস্থ্য করা হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করি। ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-২ এ নেপালী যুবকের কক্তব্যসহ একটি আবেদন পাঠাই। আইনজীবির মাধ্যমে নথি উপস্থাপনের পর যুবক নেপালী কি না তা যাচাই করার জন্য একজন দোভাষীর প্রয়োজন বলে জানান বিচারক।

তিনি বলেন, তখন আমি ঢাকাস্থ নেপালী দূতাবাসে যোগাযোগ করি। সেখান থেকে রিয়া ছেত্রী নামের একজনকে দোভাষী হিসেবে আদালতে পাঠায়। তার বয়ানে ও স্বাক্ষ্য প্রমাণ শেষে রাম রিশিকে নেপালি হিসেবে চিহ্নিত করেন আদালত। গত ২৩ জানুয়ারি বিচারক মোস্তাফিজুর রহমান আদেশ দেন, যেহেতু সে ভারতীয় নাগরিক নয়। তাই অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে তাকে সাজা দেয়া যাচ্ছে না। তাই সংশ্লিষ্ট জেল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ওই বন্দিকে নেপালে পাঠানোর জন্য নির্দেশ দেয়া হলো।

এরপর সরকারি আদেশ, আদালতের অনুমোদনসহ আইনগত বিষয় শেষ করে গত ৬ মার্চ পাবনা কারাগার থেকে নেপালি দূতাবাসের সেকেণ্ড সেক্রেটারি ইয়োজানা বামজানের কাছে রাম রিশি চৌধুরীকে হস্তান্তর করা হয়। দূতাবাসের মাধ্যমে তিনি নিজ দেশে পরিবারের কাছে ফিরে যান।

এক প্রতিক্রিয়ায় ওমর ফারুক বলেন, এমন কাজ করতে পেরে নিজের কাছে অনেক শান্তি লাগে। মানষিকভাবে তৃপ্তি পাই। 

আপন দেশ/এমএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়