Apan Desh | আপন দেশ

‘শিক্ষা-ন্যায়বিচার-আইনের শাসন ছাড়া প্রকৃত গণতন্ত্র অসম্ভব’

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১২:২৩, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘শিক্ষা-ন্যায়বিচার-আইনের শাসন ছাড়া প্রকৃত গণতন্ত্র অসম্ভব’

ছবি: আপন দেশ

বর্তমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করে গণতন্ত্রকে একটি স্থায়ী রূপ দিতে হবে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দেয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে সচল রাখতে হলে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে। সর্বজনীন শিক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসন ছাড়া প্রকৃত গণতন্ত্র সম্ভব নয়।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস। দিবসটি গণতন্ত্র সম্পর্কে আগ্রহ সৃষ্টি করা ও আইনের শাসন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার, মানবাধিকার ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানের শক্ত ভিত্তি গড়ে দেয়াকে সমর্থন করে। বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের নীতি প্রচার ও সুসংহত করার উদ্দেশ্যে দিবসটি উদযাপন করা হয়।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র অর্জনের সংগ্রামে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। জীবনদানকারী শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং আহতদের সমবেদনা জানাচ্ছি। দিবসটি উপলক্ষে বিশ্বের গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রতি জানাচ্ছি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

বিএনপির এই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, এই দিবসের গুরুত্ব মানবাধিকার রক্ষা করা। কারণ গণতন্ত্র এমন একটি পরিবেশ তৈরি করে যেখানে মানুষের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা সুরক্ষিত থাকে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা সেবা ও ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সচেষ্ট হয়। গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত থাকলে কোনো স্বৈরশক্তিই মাথাচাড়া দিতে পারে না। আর সে কারণে জনগণকে ক্রীতদাসে পরিণত করা সম্ভব হয় না।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে একদলীয় দুঃশাসনের কালো থাবা এখনও বিরাজমান। দেড় দশক ধরে বাংলাদেশেও নাগরিক স্বাধীনতা, ভোটাধিকার, মানবিক মর্যাদা ও মানবাধিকার উচ্ছেদ করে এক ভয়ঙ্কর আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম ছিল। নানা কালাকানুনের মাধ্যমে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ, ভিন্নমতের কারণে অনেকেই গুম, খুন ও আইনবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছিল।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বাংলাদেশের কিংবদন্তি ও আপসহীন যোদ্ধা দেশনেত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা ও সাজানো মামলায় কারাগারে আটকে রাখা হয়েছিল। গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারাবদ্ধ বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলায় আটক করে বর্বরোচিত নির্যাতন চালানো হয়েছিল।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ভয়াবহ দুর্দিন অতিক্রম করে ১৬ বছর পর দেশবাসী ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ঐতিহাসিক রক্তস্নাত আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পর এখন এদেশে প্রকৃত গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হয়েছে। গণতন্ত্রকে সচল রাখতে হলে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, নারী ও পুরুষ অথবা অন্য কোনো লিঙ্গে সবার সমান অংশগ্রহণ এবং সুবিধা পাওয়ার নিশ্চয়তা লাভ করে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র-সমাজে। গণতন্ত্র লিঙ্গ ভেদে কারও প্রতি বৈষম্যকে বাড়ায় না, বরং সবার জন্য সমান আইনি ও সামাজিক অধিকার নিশ্চিত করে।

বিএনপির এই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, আমরা দুঃসময় কাটিয়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছি, এখন কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার সার্বিক প্রচেষ্টায় আমাদেরকে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।

 

আপন দেশ/এমটিআই

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়