ছবি: আপন দেশ
পেট্রোল ও অকটেন বিক্রির ক্ষেত্রে ফুয়েল পাস চালুর চিন্তা করছে সরকার।
সোমবার (৩০ মার্চ) সচিবালয়ে সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী এ কথা জানান।
প্রাথমিকভাবে পেট্রোল এবং অকটেনের ক্ষেত্রে এ পাস চালু হবে। এজন্য একটি অ্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। এরই মধ্যে কিছু কিছু জেলায় জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ফুয়েল পাস চালু হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন যুগ্ম-সচিব।
যুগ্ম-সচিব বলেন, আমরা একটা ফুয়েল পাস করার চিন্তা-ভাবনা করছি। অনেক জেলায় ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা প্রশাসকরা এরই মধ্যে তাদের নিজস্ব অধিক্ষেত্রে কিছু কিছু করেছেন। যেমন আজকে সকালের মিটিংয়ে আমি দেখেছি ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক বিশেষ করে মোটরসাইকেলের জন্য একটা পাস ইস্যু করছেন তিনি।
পাসটা এ রকম, পাস ইস্যু করার পর প্রথমেই বাদ পড়ে যাবে যাদের রেজিস্ট্রেশন নেই তারা। তারা এ পাসটা পাবে না। তাহলে এটা কমে প্রায় অর্ধেক হয়ে যাচ্ছে। এরপরে যারা থাকলো তাদের আমরা ফিলিং স্টেশনগুলোতে অ্যালাউ করছি। ফিলিং স্টেশনে যাবে এবং সেখানে তাদের যে পাসটা দেয়া হবে এবং তেলের পরিমাণ লিখে দেয়া হবে এবং সেটা ডিডাক্ট করা হবে।
মনির হোসেন বলেন, আমাদের প্রতিটা ফিলিং স্টেশনে এখন আমরা প্রত্যেক জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করার জন্য নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছি। অর্থাৎ ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা প্রশাসক তো মাত্র ৬৪ জন কিংবা ইউএনওদেরও অনেক কাজ আছে। আমরা অন্যান্য যেসব অফিসার আছে তাদের প্রত্যেককে সম্পৃক্ত করে কীভাবে এ ম্যানেজমেন্টটা আমরা করতে পারি।
আরও পড়ুন<<>>‘রাশিয়া থেকে ৬ লাখ টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া চলছে’
তিনি বলেন, বিপিসি তো তেল এনে তেল বিক্রি করে। কিন্তু ফিলিং স্টেশনের একটা ম্যানেজমেন্ট আছে বা অন্যান্য যেসব ম্যানেজমেন্ট আছে এগুলোতে আসলে বিপিসির ওইভাবে দায়িত্ব ছিল না। কিন্তু সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা দেখতে পাচ্ছি না এগুলো ম্যানেজ করতে হবে। না হলে আমরা জনগণকে ওই অর্থে শান্তিটা দিতে পারছি না। সেজন্য সরকারি এসব কর্মকর্তাদের প্রত্যেকটা ফিলিং স্টেশনে না হলেও এক দুইটা ফিলিং স্টেশন একজন ট্যাগ অফিসার আমরা নিয়োগ করার জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দিয়েছি।
ডিসি অফিসে গিয়ে ফুয়েল পাস নেয়া তো একটা কঠিন কাজ হবে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলেই তিনি বলেন, এটা আসলে অত সহজ নয়। তবে আমাদের বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসকরা মোটামুটি সফলভাবে একটি সুনির্দিষ্ট যানবাহনকে লক্ষ্য করে তারা কাজ করছে। সেটা হচ্ছে মোটরসাইকেল।
তিনি বলেন, ৬৩ শতাংশ ডিজেল সরবরাহ করি, ৬ দশমিক ০৮ শতাংশ অকটেন দেই। লাইন কিন্তু অকটেনের। ডিজেলের ক্ষেত্রে কোথাও সমস্যা নেই। এজন্যই এ সমস্যাটা (অকটেন সংকট) কৃত্রিম।
বড় পরিসরে কবে ফুয়েল পাস দেয়া হবে সে বিষয়ে জানানো হবে। তবে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে এ রকম কিছু করা যেতে পারে। আমরা একটা অ্যাপ তৈরি করছি।
তিনি আরও বলেন, এটা করতে একটু সময় লাগবে, কারণ একটা কিউআর কোড দিতে হবে। এক সপ্তাহের তার একটা সীমা দিতে হবে। যেন এ সময়ের মধ্যে একবার তেল নিলে আবার তেল নিতে গেলে যেন টের পাওয়া যায়। এ ব্যবস্থাটা হয়তো কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
কোন কোন গাড়ির ক্ষেত্রে ফুয়েল পাস দেয়া হবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে যুগ্ম-সচিব বলেন, বিষয়টি এখনো বিবেচনার পর্যায়ে আছে। সবগুলো একসঙ্গে করাটা খুব কঠিন হয়ে যাবে। হয়তো পেট্রোল, অকটেনচালিত যেগুলো সেগুলোকে টার্গেট করে ফুয়েল পাস চালু হতে পারে।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































