Apan Desh | আপন দেশ

তামাক নিয়ন্ত্রণে সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে: ফরিদা আখতার

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ১৬:২৮, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১৭:৫১, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

তামাক নিয়ন্ত্রণে সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে: ফরিদা আখতার

ফাইল ছবি

তামাক নিয়ন্ত্রণ কোনো একক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয়। এটি একটি সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য ইস্যু, যেখানে সব মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। এমন মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর কার্যকর বাস্তবায়ন বিষয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফরিদা আখতার বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকেই একটি ভ্রান্ত ধারণা ছড়ানো হচ্ছে তামাক নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিলে সরকারের রাজস্ব কমে যাবে।

তিনি বলেন, এমনভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করা হচ্ছে যেন তামাক কোম্পানির অর্থেই রাষ্ট্র পরিচালিত হয়। যা সম্পূর্ণ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর। এ যুক্তি দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তামাক ব্যবহারের কারণে প্রতিবছর স্বাস্থ্য খাতে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও সেটি আলোচনায় আসে না। বরং তামাক কোম্পানির রাজস্ব প্রদানের বিষয়টি গুরুত্ব পায়, অথচ তামাকজনিত রোগ, সামাজিক ক্ষতি ও অর্থনৈতিক চাপ আড়ালেই থেকে যায়।

সরকারি শেয়ার থাকা তামাক কোম্পানির বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, যে কোম্পানির পণ্যের কারণে মানুষের মৃত্যু ঘটে, সেখানে সরকারের শেয়ার থাকা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। বরং এসব কোম্পানিকে নিরুৎসাহিত করে জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করাই সরকারের দায়িত্ব।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণে শুধু আইন সংশোধন নয়। একটি বাস্তবভিত্তিক ও পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ তৈরিতে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল যৌথভাবে সে রোডম্যাপ প্রণয়ন করেছে বলেও জানান ফরিদা আখতার।

আরও পড়ুন <<>> মিয়ানমারের ছোড়া গুলিতে দুই বাংলাদেশি কিশোর গুলিবিদ্ধ

আইন সংশোধনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অন্তত বর্তমান সরকারের সময়েই কার্যক্রম শুরু করা গেলে ভবিষ্যৎ সরকারগুলো সেটিকে এগিয়ে নিতে পারবে।

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহবান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, যারা সত্যিকার অর্থে জনগণের কল্যাণ চান, তাদের নির্বাচনের আগেই তামাক নিয়ন্ত্রণে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার জানাতে হবে। নির্বাচনী প্রচারণায় বিনামূল্যে সিগারেট বা তামাকজাত দ্রব্য বিতরণের ঘটনাকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো এ সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আরও কঠোর ভূমিকা কামনা করেন তিনি।

একই সঙ্গে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০৫-এর সংশোধনী কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হবে।

মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান।

এছাড়া সভায় বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহামেদ, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের কর্মসূচি পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফরসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়