Apan Desh | আপন দেশ

চাকরিচ্যুতির বিধান রেখে সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ জারি

নিজস্ব প্রতিবদেক

প্রকাশিত: ২২:২০, ২৫ মে ২০২৫

আপডেট: ০৯:৩১, ২৬ মে ২০২৫

চাকরিচ্যুতির বিধান রেখে সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ জারি

ছবি: সংগৃহীত

সচিবালয়ে কর্মচারীদের আন্দোলনের মধ্যেই সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫ প্রকাশ করা হয়েছে। রোববার (২৫ মে) রাতে এ অধ্যাদেশ জারি করা হয়।

এ অধ্যাদেশ অনুমোদনের প্রতিবাদে সচিবালয়ের ভেতরে আজও দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ-মিছিল করেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মচারীরা। তারা এ অধ্যাদেশকে ‘নিবর্তনমূলক ও কালাকানুন’ আখ্যায়িত করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। তা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণাও দিয়েছেন তারা।
 
বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের ব্যানারে এ আন্দোলন হচ্ছে।
 
এর আগে বৃহস্পতিবার (২২ মে) অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সরকারি চাকরি আইন- ২০১৮ সংশোধন করে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ -এর খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়। আজ তা অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হয়।
  
আন্দোলনরত কর্মচারীরা অভিযোগ করেছেন, সাড়ে চার দশক আগের বিশেষ বিধানের কিছু ‘নিবর্তনমূলক ধারা’ সংযোজন করে এ অধ্যাদেশটি করা হয়েছে।
 
অধ্যাদেশে অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের (আইনানুযায়ী সবাই কর্মচারী) চারটি বিষয়কে অপরাধের আওতাভুক্ত করা হয়। সেগুলো হলো, সরকারি কর্মচারী যদি এমন কোনো কাজে লিপ্ত হন, যা অনানুগত্যের শামিল বা যা অন্য যেকোনো সরকারি কর্মচারীর মধ্যে অনানুগত্য সৃষ্টি করে বা শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে বা কর্তব্য সম্পাদনে বাধার সৃষ্টি করে; অন্যান্য কর্মচারীর সঙ্গে সমবেতভাবে বা এককভাবে ছুটি ছাড়া বা কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া নিজ কর্ম থেকে অনুপস্থিত থাকেন বা বিরত থাকেন বা কর্তব্য সম্পাদনে ব্যর্থ হন; অন্য যেকোনো কর্মচারীকে তার কর্ম থেকে অনুপস্থিত থাকতে বা বিরত থাকতে বা তার কর্তব্য পালন না করার জন্য উসকানি দেন বা প্ররোচিত করেন; যেকোনো সরকারি কর্মচারীকে তার কর্মে উপস্থিত হতে বা কর্তব্য সম্পাদনে বাধাগ্রস্ত করেন, তাহলে তিনি অসদাচরণের দায়ে দণ্ডিত হবেন।

আরও পড়ুন>>>রাজধানী এখন আন্দোলনের নগরী

এসব অপরাধের শাস্তি হিসেবে বলা হয়েছিল, দোষী কর্মচারীকে নিম্নপদ বা নিম্ন বেতন গ্রেডে নামিয়ে দেয়া, চাকরি হতে অপসারণ বা চাকরি থেকে বরখাস্ত করার দণ্ড দেয়া যাবে।
 
তবে অধ্যাদেশ অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে সহজেই শাস্তি দেয়ার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। কারণ বিভাগীয় মামলা রুজু ছাড়াই শাস্তি দেয়ার সুযোগ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, অভিযোগ গঠনের সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হবে। আর অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করা হলে তাকে কেন দণ্ড আরোপ করা হবে না, সে বিষয়ে আরও সাত কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হবে। তার ভিত্তিতে দণ্ড আরোপ করা যাবে। এভাবে দণ্ড আরোপ করা হলে দোষী কর্মচারী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে সে আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন। তবে, রাষ্ট্রপতি দেয়া আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না। যদিও আদেশ পুনর্বিবেচনার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করবে পারবেন।
 
আন্দোলনকারী কর্মচারীরা অধ্যাদেশকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক আখ্যায়িত করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
 
আপন দেশ/এমবি
 

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়

শীর্ষ সংবাদ:

টেংরাটিলায় বিস্ফোরণের ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তারা হ্যাঁ/না ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাতে পারবেন না শেরপুরে সংঘর্ষের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ইউএনও-ওসিকে প্রত্যাহার পদ্মা সেচ প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করার প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের পডকাস্টে আগামীর বাংলাদেশের রোডম্যাপ শোনাবেন তারেক রহমান তারেক রহমান উত্তরবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন আজ আরও ১৩ নেতা এনসিপি ছাড়লেন ১২ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায় তেহরানের প্রতি কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর বার্তা ট্রাম্পের ছাদখোলা বাসে ঘরে ফিরবেন সাবিনারা ভরিতে ১৬২১৩ টাকা বাড়িয়ে রেকর্ড দাম নির্ধারণ শীত নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা জামায়াত কর্মীর নিহতের ঘটনায় সরকারের বিবৃতি ই-ভ্যাট সিস্টেমের সেবা সাময়িক বন্ধ থাকবে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাংলাদেশ ভ্রমণে যুক্তরাজ্যের সতর্কবার্তা