Apan Desh | আপন দেশ

দাঙ্গা ঠেকাতে ফ্রান্সে কারফিউ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৫:২২, ২০ অক্টোবর ২০২৬

দাঙ্গা ঠেকাতে ফ্রান্সে কারফিউ

ছবি : সংগৃহীত

ফ্রান্সে বিক্ষোভ, দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনার পর রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে রাতের কারফিউ জারি করা হয়েছে। 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসনকে কারফিউ জারির ক্ষমতা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু। 

সপ্তাহান্তে বিক্ষোভ ও সহিংসতায় প্রায় দুই হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর বিবিসির।  

রাজধানী প্যারিসের মধ্যাঞ্চলে সোমবার রাত ১১টা থেকে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোর ৬টা পর্যন্ত মানুষের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নিসে বিশেষ করে তরুণদের জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া দক্ষিণের লিওঁ এবং উত্তরের লিলসহ আরও কয়েকটি শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় রাতের কারফিউ আরোপ করা হয়েছে। 

সোমবার প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে এই ক্ষমতা দেয়ার পরই বিভিন্ন শহরে বিধিনিষেধ কার্যকর করার উদ্যোগ নেয়া হয়। 

তিনি বলেন, দাঙ্গাবাজ, চোর ও দুর্বৃত্তদের দ্বারা আমরা পরিচালিত হব না।

গত মাসে স্কুলের পরিবেশ ও পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে আন্দোলনের সূচনা হয়। পরে তা বিস্তৃত হয়ে বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে বড় আকার ধারণ করে। শনিবার দেশজুড়ে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। রোববার শুধু প্যারিসেই তিন শতাধিক মানুষকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় অন্তত পাঁচটি দোকানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। 

আরও পড়ুন <> ইয়েমেনের সরকারি প্রশিক্ষণ শিবিরে বিদ্রোহীদের হামলায় নিহত ৫৮

শনিবার (১৮ অক্টোবর) প্যারিস, বোর্দো, নিস ও মার্সেইসহ বিভিন্ন শহরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। মুখোশধারীরা দোকানের কাচ ভেঙে মালামাল লুট করে, রাস্তায় ব্যারিকেড দেয় এবং বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন ধরিয়ে দেয়। 

রোববার প্যারিসের প্লাস দ্য লা রিপাবলিক চত্বরেও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করে।   

প্রধানমন্ত্রী লেকর্নুর অভিযোগ, ‘চরম বামপন্থী উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো’ ২০২৭ সালের ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে এই আন্দোলনকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।

এদিকে, বিক্ষোভ চলাকালে লুট হওয়া পণ্যের অনলাইন বিক্রি বন্ধ করতে বিভিন্ন বিক্রয় প্ল্যাটফর্মকে নির্দেশ দেয়ার আহবান জানিয়েছেন সরকারি কর্মকর্তারা।

সহিংসতার পর পরিস্থিতি পর্যালোচনায় এখন ক্ষয়ক্ষতির হিসাব, পুলিশের ভূমিকা এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া—সবকিছুই আলোচনায় উঠে এসেছে।

এ পরিস্থিতিতে ফ্রান্সে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস দেশটির নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। বড় জমায়েতের কাছাকাছি থাকলে সতর্কতা অবলম্বন এবং বিক্ষোভকবলিত এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি কারফিউ-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ, ফ্লাইটের সময়সূচি যাচাই এবং যাতায়াতের জন্য অতিরিক্ত সময় হাতে রাখার নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।

এর আগে চীন ও জার্মানিও ফ্রান্সে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের জন্য একই ধরনের নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে।

 

আপন দেশ/এমটিআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়