Apan Desh | আপন দেশ

১১ খাতে ব্যয় সংকোচন, সাশ্রয় ৯ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ০০:২৫, ১২ এপ্রিল ২০২৬

আপডেট: ০০:২৭, ১২ এপ্রিল ২০২৬

১১ খাতে ব্যয় সংকোচন, সাশ্রয় ৯ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিকে চাপে ফেলেছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যেও। তৈরি হয়েছে এক ধরনের স্থবিরতা। এ পরিস্থিতিতে নতুন সরকারকে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে নীতি গ্রহণ করতে হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ৯ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা সাশ্রয়ের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

সরকার বাজেটের ১১টি খাতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ একটি পরিপত্র জারি করেছে। এর আগেও বিভিন্ন খাতে ব্যয় সংকোচনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। সেসব কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে উদ্ভূত অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয় কমানো হচ্ছে। এর আওতায় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান, পাবলিক কর্পোরেশন ও সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানিও রয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি অর্থায়নে সব ধরনের বিদেশ সফর, প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ বন্ধ থাকবে। যানবাহন কেনাতেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

আপ্যায়ন ব্যয়ে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ এবং অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যয়েও একই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলো এ সীমার বাইরে থাকবে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও ভ্রমণ ব্যয়ে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এসব খাতে বরাদ্দের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ ব্যয় করা যাবে। অতিরিক্ত ব্যয় ভবিষ্যতে সমন্বয় করা হবে না।

সেমিনার ও কনফারেন্স ব্যয়ে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয়ের অনুমতি থাকলেও আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে বলা হয়েছে। ভবন নির্মাণ ব্যয় অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। তবে যেসব প্রকল্প ৭০ শতাংশের বেশি সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলো অনুমোদন সাপেক্ষে চালু রাখা যাবে।

আরও পড়ুন<<>> দেশে আজ কত দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ

কম্পিউটার ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি ক্রয়েও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। পরিচালন বাজেটে ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে উন্নয়ন বাজেটে অনুমোদন নিয়ে ব্যয় করা যাবে। প্রশাসন ক্যাডারের উপসচিবদের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ি কেনায় সুদমুক্ত ঋণ সুবিধাও স্থগিত করা হয়েছে। আগে এ ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ছিল ৬০ লাখ টাকা।

অর্থ বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক চাপ মোকাবিলা ও সরকারি ব্যয়ে শৃঙ্খলা আনতেই এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, করোনাকাল থেকে প্রতিবছরই কৃচ্ছতা কর্মসূচি চালু রয়েছে। এর মাধ্যমে বছরে ৫ হাজার থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়ন হলে চলতি অর্থবছরেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করা যাবে।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়