Apan Desh | আপন দেশ

গ্যাসে দুঃসংবাদ, চাপ বাড়ছে বৈদ্যুতিক চুলা-রাইস কুকারে

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১১:৩৭, ১১ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১২:৩৬, ১১ জানুয়ারি ২০২৬

গ্যাসে দুঃসংবাদ, চাপ বাড়ছে বৈদ্যুতিক চুলা-রাইস কুকারে

ছবি : আপন দেশ

দেশজুড়ে এলপি গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এরসঙ্গে লাইনের গ্যাসেও স্বল্পচাপ বিরাজ করছে। খুব তাড়াতাড়ি এ সংকটের নিরসন হচ্ছে না বলে জানা গেছে। এই সুযোগে বৈদ্যুতিক চুলা ও রাইস কুকারের দাম বাড়াচ্ছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা।

জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশে পর্যাপ্ত এলপি গ্যাস মজুত রয়েছে। কিন্তু আমদানিকারকরা এ কথায় দ্বিমত প্রকাশ করেছেন।

রাজধানীর মগবাজারের এক বাসিন্দা জানান, আগে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সকালে কিছুক্ষণের জন্য পাইপলাইনে গ্যাস পাওয়া যেত। কিন্তু এক সপ্তাহ ধরে বাসায় লাইনের গ্যাস নেই বললেই চলে। বাধ্য হয়ে পাশের এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসা থেকে রান্না করে আনছেন। বাজারে প্রতিটি ইলেকট্রিক চুলা, রাইস কুকারের দাম ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা বেড়ে গেছে।

বেসরকারি ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘গ্যাসের সংকট কৃত্রিম। কারণ দ্বিগুণ দাম দিলে প্রতিটি দোকানেই গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে।’

সংকটের কারণ জানিয়ে ওমেরা এলপিজির পরিচালক আজম জে. চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সরবরাহ সংকটই এর অন্যতম কারণ হতে পারে। প্রকৃত অর্থে সংকট না থাকলে এভাবে দাম বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা কিংবা বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা কঠিন। কারণ বাজারে এক ডজনের বেশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এলপিজি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।’ 

তার ধারণা, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু এলসি পণ্য দেশে আসেনি। সরবরাহ কমে গেলে নানা ধরনের অসাধু ব্যবসা শুরু হয়। এ খাতে সরকারের ব্যবস্থাপনাটাও বেশ দুর্বল, বলতে হবে। না হলে এত লম্বা সময় সংকট থাকে কী করে? সংকটের সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী লাভবান হচ্ছেন।

এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এলওএবি) সভাপতি ও ডেলটা এলপিজি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, ‘সাপ্লাই চেইন বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলেই এমনটি হয়েছে। এটি স্বীকার করতেই হবে। আমরা সরকারকে বিষয়টি অবগত করেছিলাম। সরকার যদি বলে সরবরাহে সংকট নেই, তাহলে সেখানে আমাদের কিছু বলার নেই।’

জ্বালানি মন্ত্রণালয় বলছে, দেশে এলপিজির পর্যাপ্ত মজুত আছে। স্থানীয় খুচরা বিক্রেতারা বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছেন। যদিও বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং জাহাজ সংকট ও কিছু কিছু কার্গোর (জাহাজ) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় আমদানি পর্যায়েও কিছু সংকটের উদ্ভব হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত নভেম্বরে এলপিজির আমদানির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৫ হাজার টন। ডিসেম্বরে বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার টন।

আরও পড়ুন : নতুন দামে স্বর্ণ বিক্রি শুরু, জেনে নিন বাজারদর

এলপি গ্যাস সংকটের সমাধান কবে নাগাদ হতে পারে, জানতে চাইলে জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘এলপিজির ৯৮ শতাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে। সরকারের কাছে মাত্র ২ শতাংশ। সংকটের কারণগুলো আমরা কয়েক দিন ধরে ব্যাখ্যা করছি। তারা ধর্মঘট করেছিল। এখন প্রত্যাহার করেছে। আশা করি ঠিক হয়ে যাবে।’

দেশে ২৮টি এলপিজি কোম্পানির মধ্যে ২৩টির আমদানির অনুমোদন রয়েছে। কোম্পানিগুলোর আমদানির ঊর্ধ্বসীমা রয়েছে।

সূত্র : আজকের পত্রিকা

আপন  দেশ/এসএস/এনএম
 

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়