ছবি: আপন দেশ
দীর্ঘ ১০ মাস বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার (০৫ নভেম্বর) সকাল ৭টায় ৮ শতাধিক পর্যটক নিয়ে কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে প্রথম পর্যটকবাহী জাহাজ ‘এমভি বার আউলিয়া’ যাত্রা শুরু করেছে।
কক্সবাজার শহরের নুনিয়াছড়ার বাঁকখালী নদীর বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে জাহাজটি ছেড়ে যায়।
প্রশাসনিক জটিলতা ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন না পাওয়ায় রোববার (০১ নভেম্বর) থেকে জাহাজ চলাচল শুরুর কথা থাকলেও তা বিলম্বিত হয়।
এর আগে বুধবার (০৪ নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের সম্মতি পান।
পরে জাহাজ চলাচলের সিদ্ধান্তের কথা জানান সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর।
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নানও বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
উদ্বোধনী দিনে শুধুমাত্র এমভি বার আউলিয়া জাহাজটি যাত্রী নিয়ে সেন্টমার্টিন গেছে। এ জাহাজের মোট যাত্রী ধারণক্ষমতা ৮৫০ জন। পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও নৌপরিবহন অধিদফতর থেকে অনুমোদিত বাকি দুটি জাহাজ—এমভি কর্ণফুলী এবং এমভি টেকনাফ—আগামীকাল শুক্রবার (০৬ নভেম্বর) থেকে এই রুটে চলাচল শুরু করতে পারে।
আরও পড়ুন <> মোংলায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ প্রতিদিন সকাল ৭টায় কক্সবাজার ঘাট থেকে রওনা দেবে এবং দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে সেন্টমার্টিন থেকে ফিরতি যাত্রা করবে।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের (টুয়াক) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম কাজল জানান, সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকদের জন্য একমুখী জাহাজভাড়া সর্বনিম্ন ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ ভাড়ার টিকিটে কেবিনের সুবিধা রয়েছে।
এবার শুধুমাত্র কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া ঘাট থেকেই সেন্টমার্টিনের জাহাজ চলাচল করবে। টেকনাফ বা অন্য কোনো পয়েন্ট থেকে জাহাজ ছাড়ার অনুমতি নেই।
এছাড়া পর্যটকদের দ্বীপে ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড-এর মাধ্যমে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করে ট্রাভেল পাস সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এদিকে পর্যটকদের জন্য দ্বীপটি উন্মুক্ত করা হলেও পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বেশ কিছু বিধিনিষেধ বহাল রাখা হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, রাতে সমুদ্রসৈকত ও আশপাশের এলাকায় আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টির আয়োজন করা যাবে না। নিষিদ্ধ করা হয়েছে কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও কেনাবেচাও।
এ ছাড়া সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস ও শৈবালসহ দ্বীপের কোনো ধরনের প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না। সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচলও নিষিদ্ধ রয়েছে।
আপন দেশ/এমটিআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































