Apan Desh | আপন দেশ

রাঙামাটিতে স্বাভাবিক হচ্ছে জনজীবন, নেই পানিবাহিত রোগ

রাঙামাটি প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ২০:১৬, ২২ জুলাই ২০২৬

রাঙামাটিতে স্বাভাবিক হচ্ছে জনজীবন, নেই পানিবাহিত রোগ

ছবি: আপন দেশ

চলতি মাসের শুরুতে প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে রাঙামাটির বেশ কিছু উপজেলার নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়। চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় ওইসব এলাকায় বসবাসরত সাধারণ মানুষের। তবে পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জনজীবন আবারও স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

বন্যার পর সমতল এলাকায় পানিবাহিত রোগের প্রকোপ দেখা দিলেও এ অঞ্চলে পানিবাহিত রোগের কোন প্রাদুর্ভাব থাকে না।  তবে শুষ্ক মৌসুমে এ অঞ্চলে পানি বাহিত রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়।

শুষ্ক মৌসুমে যখন চারদিক নদী, ঝিরি, ঝর্ণা, কূয়ার পানি শুকিয়ে যায় তখন বিশুদ্ধ পানির সংকটে পাহাড়ে বসবাসরতদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। বিশুদ্ধ পানির সংকটে  স্থানীয়দের কাপ্তাই হ্রদের পানি পান করতে হয়। যে কারণে শুষ্ক মৌসুমে এ অঞ্চলে পানিবাহিত রোগের ছড়াছড়ি হয়।

এবারের বন্যায় উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে বিলাইছড়ি এবং বাঘাইছড়ি উপজেলা। এ দু’টি উপজেলার বেশিরভাগ এলাকা কাপ্তাই হ্রদের পানিতে তলিয়ে যায়। যে কারণে এ উপজেলার ঘর-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মৎস্য এবং কৃষির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় মানুষের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।

বিলাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সুরজিৎ দত্ত বলেন,  বিলাইছড়ি উপজেলায় বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে এখানে পানিবাহিত রোগী নেই বললে চলে। গত এক সপ্তাহ আগে একজন ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়েছিল। তিনি চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ্য হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, মূলত এখানে পানিবাহিত রোগীর সংখ্যা বাড়ে শুষ্ক মৌসুমে। শুষ্ক মৌসুমে বিশুদ্ধ পানির অভাবে এ রোগের প্রকোপ দেখা দেয়। 

আরও পড়ুন<<>>নোয়াখালীতে হত্যা মামলার আসামিসহ গ্রেফতার ৩

রাঙামাটি সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসা বলেন, পার্বত্য এলাকা এবং সমতলের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। সমতলে বন্যা হলেও এখানে বন্যা হয় না। প্রবল বর্ষণের সময় এ অঞ্চলের নিচু এলাকাগুলো ডুবে যায়। ওই এলাকায় কয়েকদিন পানি স্থায়ী হলেওে তা দ্রুত নেমে যায়। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ে বসবাসরত অনেক সাধারণ মানুষ পানি সংরক্ষণ করে রাখে।

সিভিল সার্জন আরও বলেন, আমাদের মূলত পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়ে শুষ্ক মৌসুমে। অর্থাৎ সমতলের বিপরীত বলা চলে।

জেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান,  জেলায় বন্যায়  ৪৮৩টি বসতঘর, ৩২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ২৫টি সেতু-কালভার্ট এবং ৫৪৬.৫ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। কৃষিখাতে তিন হাজার ৬৭৫ হেক্টর ফসলি জমি এবং মৎস্যখাতে প্রায় তিন কোটি ৯৪ লাখ ৩২ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, জেলায় ২৯৫ মেট্রিক টন চালের মধ্যে রাঙামাটি সদর ও পৌরসভায় ৪০, লংগদু ২০, কাউখালী ৩০, বরকল ২০, বাঘাইড়ি ৪৫, জুরাছড়ি ১০, নানিয়ারচর ১০, কাপ্তাই ৫০, বিলাইছড়ি ৫০, রাজস্থলী ২০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ কর হয়।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, এবারের বন্যা ও পাহাড় ধসে জেলায় মোট এক লাখ ৮ হাজার ৭১৭ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। সরকারিভাবে ৩৫ লাখ টাকা এবং ২৯৫ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২ হাজার ৩১৪ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু সুবিধা ভোগীর সংখ্যা মাত্র ৩২ হাজার ৫৪৬ জন। অর্থাৎ ৭৬ হাজার ৭১৭ জন মানুষ এখনও সরকারি কোনো সুবিধার আওতায় আসেননি বলে জানা গেছে।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়