Apan Desh | আপন দেশ

ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবস্থা নিতে বলল বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১২:১৫, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১২:১৯, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবস্থা নিতে বলল বাংলাদেশ

ছবি: আপন দেশ

নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে হেনস্তার শিকার হওয়া পর যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি অঙ্গরাজ্যে যেতে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের প্রটোকল ও নিরাপত্তা পেয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।

ওই ঘটনায় ব্যবস্থা নিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় প্রশাসনকে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং নিউ ইয়র্কের কনস্যুলেটের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ মিশনের পক্ষ থেকে এসব পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেছেন নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোজাম্মেল হক।

তিনি বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কোনো একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তার কাছে বার্তা পাঠান, যাতে মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রটোকল ও নিরাপত্তা দেয়া হয়।

উনি অন্য একটা স্টেটে যেতে চাচ্ছিলেন। আমি নিজে ড্রাইভ করেই আসলে ড. ইউনূস স্যারকে এবং স্যারের সফরসঙ্গীকে সেখানে নিয়ে যাই।

স্থানীয় সময় সোমবার বিকালে জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে হুইল চেয়ারে বের হওয়ার সময় মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন <> নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে হেনস্তার শিকার ড. ইউনূস

ভিডিওতে দেখা যায়, নিউ ইয়র্ক আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী ও যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরীসহ কয়েকজন মুহম্মদ ইউনূসের সামনে দাঁড়িয়ে যান। তখন হুইল চেয়ার ঘুরিয়ে মুহাম্মদ ইউনূসকে টার্মিনালের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ সময় হেনস্তাকারীরা তার পেছনে ছুটতে থাকেন। একজন চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘ইউ কিলড থাউজ্যান্ড পিপল ইন বাংলাদেশ।… হি কিল্ড থাউজ্যান্ড অব পুলিশ ইন মাই কান্ট্রি। হি ডেস্ট্রয় দ্য ডেমোক্রেসি ইন মাই কান্ট্রি…’।

ঘটনার সময় মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ও ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোরশেদ।

দুটি গাড়ি নিয়ে মুহাম্মদ ইউনূসকে তার গন্তব্যে পৌঁছে দেয়ার কথা জানিয়েছেন মোজাম্মেল হক। একটি গাড়িতে কনস্যুলেটের ভাড়া করা নিরাপত্তা কর্মী এবং প্রটোকলের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা ছিলেন।মোজাম্মেল হক বলেন, ওই রাতে আমি ফিরে আসি এবং ভোরবেলা আমি আবার আমার কর্মস্থলে পৌঁছাই।

কনসাল জেনারেল বলেন, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নিউ ইয়র্ক যাওয়ার বিষয়ে তারা জানতেন না।

যেহেতু আমরা জানি না স্যারের আগমনের বিষয়টি, আমাদের তো এয়ারপোর্টে যাওয়ার বিষয়টাও আসলে ওভাবে আসে না। যে কারণে এয়ারপোর্টে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার পর আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ওই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় বলেছে, অপরাধীদের খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিষয়টি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর কথা যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ মিশনকে বলা হয়েছে।

কনসাল জেনারেল মোজাম্মেল বলেন, ওই ঘটনায় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বলেছে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ মিশন এবং নিউ ইয়র্ক কনস্যুলেট।

কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে নিউ ইয়র্কের অফিস অব ফরেন মিশনকে (ওএফএম) জানানোর তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, তারা বলেছে, যথাযথ পুলিশ ডিপার্টমেন্ট এবং ডিপ্লোম্যাটিক পুলিশকে তারা জানিয়ে দিয়েছে। আমরাও এখানকার পুলিশ এবং ডিপ্লোম্যাটিক পুলিশকে জানিয়েছি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।

আরও পড়ুন <> শসার দাম বেড়ে কেজি ১২০ টাকা, কমেছে শিমের

তাদের সঙ্গে যোগাযোগ আছে। তারা বলছে যে ব্যাপারগুলো পুরোটা সিসিটিভি ভিডিও এবং ঘটনার প্রেক্ষাপট, কী ঘটেছে, সেটা তারা দেখছে। আমরাও বলেছি যে, আমাদের কাছে যে ধরনের তথ্যগুলো আছে, নামগুলো যা আমরা শনাক্ত করতে পেরেছি- এগুলো যদি চায়, আমরা সহায়তা করতে প্রস্তুত।

মোজাম্মেল হক বলেন, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ মিশনও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছে।

স্থানীয় প্রশাসনের তদন্তের মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তারা প্রথমে তদন্ত করবে। বাংলাদেশ মিশনের সঙ্গেও কথা বলতে পারে।

আমাদের কাছে থাকা ফুটেজগুলো আমরা তাদের পাঠিয়েছি। আরও যদি কিছু দরকার হয়, আমরা ওই ক্ষেত্রে সহায়তা করতে প্রস্তুত, এটা আমরা তাদের জানিয়েছি।

 

আপন দেশ/এমটিআই

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়