Apan Desh | আপন দেশ

গুজব দমনে আসছে কঠোর আইন, অপপ্রয়োগের শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৮:৫৭, ৩০ জুলাই ২০২৬

আপডেট: ১৯:০০, ৩০ জুলাই ২০২৬

গুজব দমনে আসছে কঠোর আইন, অপপ্রয়োগের শঙ্কা

ফাইল ছবি

সাইবার সুরক্ষা আইন কার্যকরের মাত্র তিন মাসের মাথায় আবারও আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে ‘গুজব’, ‘অপতথ্য’, ‘মানহানি’ ও ‘হেয়প্রতিপন্ন’-সংক্রান্ত অপরাধের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি শাস্তিও কঠোর করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আইন বাস্তবায়নে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পাশাপাশি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সরকারের ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্যান্য সংস্থাকে সম্পৃক্ত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সংশোধিত বিলটি সংসদের আগামী অধিবেশনেই উত্থাপন করা হতে পারে।

খসড়া সংশোধনী অনুযায়ী, সাইবার পরিসরে গুজব বা অপতথ্য প্রকাশ ও প্রচারকে নতুন অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড, ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

খসড়ায় গুজবের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, এমন অসমর্থিত বা অযাচাইকৃত তথ্য, সংবাদ বা দাবি, যা জনমনে বিভ্রান্তি, আতঙ্ক, উত্তেজনা বা সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে বা এ ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে। অন্যদিকে অপতথ্য বলতে এমন মিথ্যা, বিকৃত বা বিভ্রান্তিকর তথ্যকে বোঝানো হয়েছে, যা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রকে বিভ্রান্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রচার করা হয়।

আইনের ২৫ নম্বর ধারায় মানহানি ও হেয়প্রতিপন্ন-সংক্রান্ত অপরাধের পরিধিও বাড়ানো হচ্ছে। সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী, অডিও, ভিডিও, স্থিরচিত্র, গ্রাফিকস কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি কোনো কনটেন্টের মাধ্যমে কারও মানহানি বা হেয়প্রতিপন্ন করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড অথবা ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন<> ‘কালো টাকা’র কাজী ইমদাদ হচ্ছেন দুদক চেয়ারম্যান?

নারী বা ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে এ ধরনের কনটেন্ট প্রচার করলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড, ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে। মানহানির ব্যাখ্যায় দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারার উল্লেখ রাখা হয়েছে।

সংশোধিত আইনের বাস্তবায়নে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পাশাপাশি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সরকারের ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্যান্য সংস্থাকে দায়িত্ব দেয়ার প্রস্তাব রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এ ক্ষেত্রে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে ভুয়া ভিডিও, অডিও ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে অপপ্রচার বাড়ছে। ব্যক্তি, রাষ্ট্র ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আইনকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে আইনবিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তি খাতের একাংশের আশঙ্কা, ‘গুজব’ ও ‘অপতথ্য’র মতো শব্দের সংজ্ঞা যথেষ্ট স্পষ্ট না হলে আইনটির অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাদের মতে, জনস্বার্থ ও মতপ্রকাশের সাংবিধানিক স্বাধীনতার ভারসাম্য বজায় রেখে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সংশোধনী চূড়ান্ত করা প্রয়োজন।

এদিকে সরকারের ভেতরেও সংশোধনী নিয়ে মতপার্থক্যের তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এক পক্ষ আইন আরও কঠোর করার পক্ষে থাকলেও অন্য পক্ষের আশঙ্কা, এতে সমালোচনা বাড়তে পারে, অপপ্রয়োগের অভিযোগ উঠতে পারে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে প্রণীত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার আইনটি বাতিল করে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ জারি করে। পরে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল সংসদে সাইবার সুরক্ষা আইন পাস হয়। আইনটি কার্যকরের তিন মাসের মধ্যেই নতুন করে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ায় বিষয়টি নতুন করে জনপরিসরে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আপন দেশ/এবি

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়