ফাইল ছবি
সুনামগঞ্জের টেংরাটিলা গ্যাস ক্ষেত্রে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় কানাডীয় কোম্পানি নাইকো রিসোর্সেস-কে ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫১৩ কোটি টাকা) জরিমানা করেছে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনাল (ইকসিড)। বিস্ফোরণে গ্যাস ও পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতির দায়ে এ রায় দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান এ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, রায়ে বিস্ফোরণের সময় পুড়ে যাওয়া ৮ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ক্ষতি বাবদ ৪০ মিলিয়ন ডলার এবং পরিবেশসহ অন্যান্য ক্ষতির জন্য ২ মিলিয়ন ডলার— সব মিলিয়ে প্রায় ৪২ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ অবশ্য গ্যাসের ক্ষতি বাবদ ১১৮ মিলিয়ন এবং রাষ্ট্রের সার্বিক ক্ষতি বাবদ ৮৯৬ মিলিয়ন ডলার চাওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি পরিবেশগত ক্ষতি ও স্বাস্থ্যগত ক্ষতি যোগ করার আবেদন করে বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন<<>>৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা শুক্রবার
রেজানুর রহমান বলেন, ইকসিড থেকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বাংলাদেশ দিতে বলা হয়েছে। এখন আইনজীবীদের মতামত নিয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ দ্রুত গ্রহণ করা হবে।
২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার টেংরাটিলা গ্যাস ফিল্ডে কূপ খনন করার সময় নাইকোর অবহেলায় দুই দফা ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে বিপুল পরিমাণ গ্যাস সম্পদের অপচয়ের পাশাপাশি পরিবেশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েন। ঘটনার পর থেকে গ্যাস ক্ষেত্রটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।
টেংরাটিলা বিস্ফোরণের পর শুরুতে নাইকোর কাছে ৭৪৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল বাংলাদেশ। তবে নাইকো সেই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। এরপর নাইকোর ফেনী গ্যাস ফিল্ডের বিল প্রদান বন্ধ করে দেয় পেট্রোবাংলা। এর প্রতিবাদে ২০০৭ সালে স্থানীয় নিম্ন আদালতে মামলা দায়ের করে নাইকো। পরবর্তীতে বিষয়টি উচ্চ আদালতে গড়ালে হাইকোর্ট বাংলাদেশে থাকা নাইকোর সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং তাদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাতিলের আদেশ দেন। নাইকো এ আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গেলেও সেখানেও রায় বাংলাদেশের পক্ষেই থাকে। এরপর ২০১০ সালে আটকে রাখা গ্যাস বিল আদায় এবং ক্ষতিপূরণ না দেয়ার উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ইকসিডে দুটি মামলা করে নাইকো। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ২০১৪ সালে ইকসিড এক রায়ে পেট্রোবাংলাকে ফেনী গ্যাসক্ষেত্রের পাওনা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছিল। তবে সর্বশেষ রায়ে টেংরাটিলা বিস্ফোরণের দায় ও ক্ষতিপূরণের বিষয়টি চূড়ান্ত হলো।
উল্লেখ্য, রায়টি গত মাসেই চূড়ান্ত হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না হওয়ায় পেট্রোবাংলা এতদিন এ বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































